TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

কিংবদন্তি

মওলানা দরবেশ আহমদের কতগুলো অলৌকিক গুণ কেরামতির কথা কিছু লোকের মুখে শোনা যায়। এ দেশের অনেক কামিল পীর দরবেশ আউলিয়াদের সম্পর্কে অলৌকিক কেরামতির কাহিনী প্রচলিত আছে। এ গুলোকে কিংবদন্তি বলা হয়। মওলানা দরবেশ আহমদ সম্পর্কে এ রূপ কিছু কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। কেউ বিশ্বাস করুন বা না করুন, এখানে বহুল প্রচারিত কয়েকটি কিংবদন্তি উল্লেখ করা হলো- ॥ এক।


বর্ষাকালে এলাকায় কলেরা দেখো দিয়েছে। কোথাও ডাক্তার নেই। ভরসা একমাত্র মওলানা দরবেশ আহমদের পানি পড়া। এলাকায় সবাই পানি পড়ে নিয়ে খাচ্ছে।


কলেরা তো শুধু মুসলমানদের বাড়িতে আসে না হিন্দু বাড়িতেও কলেরা ঢুকেছে। তাঁদের উপায় কি? তারা তো মুসলমানদের হাতে ছোঁয়া কিছু খায় না। একজন হিন্দু বুঝতে পেরেছে, জীবনের চেয়ে জাতধর্ম বড় নয়। তাই সে দরবেশ আহমদের কাছে থেকে এক গ্লাস পানি পড়া নিয়ে বাড়ি গেলে এক মাতবর বাবু জিজ্ঞাস করলো-


কী নিয়ে এলে?


পানি পড়া।


কার কাছ থেকে?


দরবেশ হুজুরের কাছ থেকে।


ম্লেচ্ছার হাতের পানি খেয়ে জাত ধর্ম হারাতে চাস? ফেলে দে পানি পাগারে।


লোকটা পানি পাগারে গিয়ে ফেলে।


পরের দিন তার বউয়ের কলেরা দেখা দিলো। লোকটা তখন সেই মাতবর বাবুর কথা অমান্য করে দরবেশ সাহেবের কাছে পানি পড়া চাইলে তিনি বললেন, গত কাল তো তোমাকে পানি পড়ে দিয়েছি। সে পানি খাও নি?


খাই নি হুজুর।


কেন খাওনি?


জাত-ধর্ম যাবে বলে।


কে বলেছে পানি খেলে জাত-ধর্ম চলে যাবে?


আমাদের বড় বাবু।


তাহলে জাত-ধর্ম নিয়েই থাকো।


না, হুজুর আবার পড়ে দিন।


সে পানি কি করেছিলে?


পাগারে ফেলে দিয়েছি।


সেই পাগার থেকে পানি তুলে নিয়ে খাও সবাই।


লোকটা কি আর করবে। অগত্যা বাড়ি গিয়ে সেই পাগারের পানি তুলে নিয়ে বউকে খাওয়ালো। সে ভালো হয়ে গেল। তারপর বাড়ির সবাই খেলো। তার দেখাদেখি পাড়ার সবাই সেই পাগারের পানি তুলে নিয়ে খেলো। তাদের আর কলেরা হলো না।


অন্যদিকে যে বাবু পানি ফেলে দিতে বলেছিল, সে কলেরায় মারা গেল, তার বাড়ির


সবাই কলেরায় মারা গেল। 

॥ দুই।


মওলানা দরবেশ আহমদ একবার এক গ্রামে সভা করে অনেক রাতে ঘোড়ায় চড়ে বাড়ি আসছিলেন। তাঁর সঙ্গে আর কেউ ছিল না। একটা জঙ্গলাকীর্ণ রাস্তা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ তাঁর ঘোড়া থেমে গেল পেছনে শয়তান তাঁর ঘোড়ার লেজ টেনে ধরেছে।


মওলানা সাব শয়তানকে উচিত শিক্ষা দেবার জন্য ঘোড়া থেকে লাফ দিয়ে নামলেন এবং ঘোড়ার তিন হাত ফাঁক দিয়ে চারদিকে চাবুকের অগ্রভাগ দিয়ে একটা দাগ দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে সেই দাগের উপর দিয়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠলো। এরপর মওলানা বললেন- এই পাজী শয়তান, ঘোড়ার লেজ ছাড়বি, নাকি পুড়ে মরবি?


শয়তানের শরীরে আগুন লেগে গেল। তখন শয়তান চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলো, হুজুর পুড়ে মরছি গো। আমাকে বাঁচান। আমি আর কোনো দিন আপনার সঙ্গে বেয়াদবি করবো না। মওলানা তখন চাবুক দিয়ে শয়তানের পিঠে বাড়ি দিয়ে বললেন, যা শয়তান যা। শয়তান আঘাত পেয়ে জোরে চিৎকার দিয়ে পেছন দিয়ে বায়ু নির্গত করতে করতে পালিয়ে গেল। মওলানা একাই হাসতে হাসতে বাড়ি চলে এলেন।


॥ তিন।


মওলানা দরবেশ আহমদ একদিন বিকেল বেলা টাঙ্গাইল থেকে ভূঞাপুর আসতে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কালিপুর চরের ডাক্তার আমজাদ মিয়া। তখন এ রাস্তায় যাতায়াতের কোনো যানবাহন ছিল না। সবাই পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতো। পুংলি নদী ও পোষণা নদী পারাপারের খেয়া ছিল। টাঙ্গাইল থেকে হেঁটে এসে তাঁরা সন্ধ্যায় পুংলি নদী খেয়ায় পার হলেন। কিন্তু পোষণা খেয়াঘাটে আসতে অনেক রাত হয়ে যায়। তখন ঘাটে খেয়া নাও ছিল না। পারাপার হবার কোনো লোকজনও এ পার ওপার ছিল না। ডাক্তার সাহেব পারের চিন্তা করতে লাগলেন। এ দিকে তাদের কোনো আত্মীয় বা পরিচিত লোক নেই, কোথায় যাবেন? সকাল না হলে খেয়া পাওয়া যাবে না। তা হলে সারারাত নদীর ঘাটে বসে থাকতে হবে, এ কি সম্ভব? তিনি চিন্তায় ভীষন ভাবে উসখুস করতে লাগলেন। বার বার বলতে লাগলেন, এখন উপায় কী?


মওলানা দরবেশ আহমদের মুখে কোন কথা নেই। তাঁর মনে চিন্তারও কোন লক্ষণ বোঝা গেল না। তিনি নিরব নির্বিকার। ডাক্তার বলতে লাগলেন- আহ্। আর একটু আগে রওনা হলে এমন বিপদে পড়তে হতো না। মওলানা সাহেব এবার বললেন-অতো চিন্তা করো না হতাশ হয়ো না। আল্লাহ ব্যবস্থা একটা করবেনই।


আল্লাহ এখন আর কি ব্যবস্থা করবেন। ভোর না হলে তো আর মাঝি খেয়া নিয়ে আসবে না।


মওলানা সাহেব বললেন, আমি যা বলি তাই করো।

কী করবো? সাঁতার দিতে হবে?


না, না। আমি যা করতে বলি তাই করো?


কী করতে বলেন?


চোখ বন্ধ করো।


আচ্ছা বন্ধ করলাম।


আমি যখন বলবো, আমার সঙ্গে এসো। তখন তুমি চোখ মেলে তাকাবে। তার আগে


চোখ খুলে তাকাবে না।


আচ্ছা।


কয়েক মিনিট পরে মওলানা বললেন, আমার সঙ্গে চলো। ডাক্তার সাহেব তখন চোখ মেলে তাকিয়ে দেখেন তারা দু'জন নদীর এপাড়ে এসে গেছেন। ডাক্তার সাহেব অনেকক্ষণ অবাক হয়ে মওলানার পেছনে পেছনে হাঁটতে লাগলেন, কোনো কথা বলতে আর সাহস পেলেন না।


॥ চার।


মওলানা দরবেশ আহমদ এক গ্রামে সভা করে অনেক রাতে ঘোড়ায় চড়ে বাড়ি ফিরতে ছিলেন। এক স্থানে পথের পাশে ছিল বিরাট এক শিমুল গাছ। মওলানা সাব সেই শিমুল গাছের কাছে আসলেই এক শয়তান শিমুল গাছের ডাল থেকে প্রস্রাব করা শুরু করে আর হি হি করে হাসতে থাকে। মওলানা সাব ঘোড়া থামিয়ে শয়তানকে বললেন, পাজী শয়তান প্রস্রাব করতে থাক। আজ তোকে মজা দেখাই। এ কথা বলে তিনি আয়াতুল কুরছি পাঠ করে উপরের দিকে ফুঁ দিলেন আর সঙ্গে সঙ্গে শয়তানের শরীরে আগুন ধরে গেল। শয়তানটা প্রস্রাব বন্ধ করে উচ্চস্বরে চিৎকার করতে লাগলো। একটু পরেই শয়তানটা পুড়ে দপ করে গাছ থেকে মাটিতে পড়ে গেল।


মওলানা সাব এগিয়ে এসে দেখলেন একটা কাক পুড়ে পড়ে রয়েছে রাস্তার উপর। ঐ শয়তানটা আগে রাতে অনেক মানুষকে ভয় দেখাতো। সেদিন থেকে শয়তানের ভয় দেখানো বন্ধ হয়ে গেল।


॥ পাঁচ।


মওলানা দরবেশ আহমদের গ্রামের পাশের এক লোক রাতে অন্য বাড়ী থেকে গল্প করে বাড়ী ফিরতে ছিল। পথের পাশে ছিল এক বাঁশঝাড়। একটা বাঁশ সেই পথের ওপর কাত হয়ে পড়ে ছিল। লোকটা যখন সেই বাঁশটা পার হবার জন্য এক পা সামনে দিয়েছে আর এক পা এপাশে রয়েছে তখনই ঝট করে বাঁশটা সেই লোকসহ ওপরে উঠে গেল। লোকটা ভয়ে চিৎকার দিয়ে ওঠলো। চিৎকার শুনে লোকজন এসে দেখে লোকটা বাঁশের আগায় বসে রয়েছে। তাকে নেমে আসতে বলা হলো। সে নেমে আসতে পারলো না। সবাই বলতে লাগলো, শয়তান ওকে আটকে রেখেছে, ছাড়ছে না।


এখন উপায় কী?


দুজনলোক দৌঁড়ে গেল মওলানা সাবের কাছে। মওলানা এসে দেখলেন, লোকটা বাঁশের আগায় বসে রয়েছে। তিনি বাঁশটার গোড়ায় হাত দিয়ে ধরার সঙ্গে সঙ্গে বাঁশটা বাঁকা হয়ে মাটির কাছে এলো। লোকটা তখন আস্তে আস্তে নেমে এলো।


তারপর মওলানা বললেন, এই বাঁশটার গোড়ায় আগুন লাগিয়ে দাও তো। বাঁশের গোড়ায় আগুন দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা শয়তান চিৎকার দিয়ে শো শো করে উড়ে গেলো আর বাঁশটা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেল।


॥ ছয়।


মওলানা দরবেশ আহমদ আগ্রা থেকে হজ্ব করতে গিয়ে মদীনায় মিঞাজান মুনশীর সঙ্গে পরিচিত হন। মিঞাজান মুনশী ছিলেন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। তিনি বৃক্ষ চালান করতে পারতেন। মওলানা সাহেব মুনশী সাহেবের বাসায় কিছু দিন থাকার পর একদিন জিজ্ঞেস করলেন, দরবেশ তোমার কি বাড়ির কথা মনে পড়ে?


তিনি বললেন, জী মনে পড়ে।


তুমি কি বাড়ি যেতে চাও?


জী যেতে চাই।


তাহলে এক কাজ করতে হবে তোমাকে।


কি কাজ করতে হবে?


রাতে তিন ডাল ওয়ালা একটা সেওড়া গাছের উপর ওঠে তোমাকে বসে থাকতে হবে।


তারপর?


চোখ বন্ধ করে চুপ করে থাকতে হবে।


তারপর কি করতে হবে?


তোমার আর কিছুই করতে হবে না। বৃক্ষটা থেমে গেলে নেমে পড়বে। দরবেশ আহমদ তাই করলেন। হুজুরের কাছে বলে রাতে একটা সেওড়া গাছের ডালে চোখ বন্ধ করে বসলেন।


এক সময় গাছটার গতি থেমে গেল। মওলানা চোখ মেলে দেখলেন গাছটি দাঁড়িয়ে আছে। তিনি তাড়াতাড়ি গাছটি থেকে নেমে দেখলেন, স্থানটা পাঁচটিকরী কাচারী ঘরের পূর্বপার্শ্বে। তিনি সেখানেই ফজরের নামাজ পড়ে রামপুরের বাড়ি চলে এলেন। 

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।