বঙ্গবিভাগের প্রথম বর্ষপূর্তি জনসভায় সভাপতি মওলানা দরবেশ আহমদ
'বঙ্গবিভাগ' ও 'বঙ্গবিভাগ রদ' এ দুটি ঘটনা ছিল বিশ শতক উপ মহাদেশের সুদূর প্রসারী রাজনীতির গতিধারায় একটি প্রারম্ভিক মাইল ফলক। এর ফলে হিন্দু ও মুসলিম জাতির মধ্যে পরস্পর বিরোধী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং উভয় জাতির রাজনীতি দুটি সুস্পষ্ট ধারায় প্রবাহিত হয়। অবশ্য কয়েকজন বিখ্যাত মুসলিম নেতাও বঙ্গবিভাগের বিরোধীতা করেছিলেন। বঙ্গবিভাগের ফলে পূর্ববঙ্গ ও আসাম মিলে একটি প্রদেশ গঠন হয়। এ অঞ্চলের মুসলমানদের শিক্ষা, ব্যবসা বানিজ্য ও চাকরি বাকরিতে সুযোগ সৃষ্টি হয়।
বঙ্গবিভাগের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সিরাজগঞ্জ শহরে একটি জনসভা অনুষ্ঠান হয়। এই সভায় সভাপতি নির্বাচিত হন টাঙ্গাইলের জননেতা মওলানা দরবেশ আহমদ। সভায় টাঙ্গাইল, করটিয়া ও জামালপুর থেকে অনেক নেতা-কর্মী উপস্থিত হন। এই সভায় সর্বসম্মতি ক্রমে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবটি ছিল, বঙ্গবিভাগে যারা বিরোধীতা করেছে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করা, বিশেষ করে কবি ইসমাইল হোসেন শিরাজী সাহেবের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না রাখা। যেহেতু তিনি বঙ্গবিভাগে বড় বাঁধা সৃষ্টি করে ছিলেন।
