উমরাহ
"উমরা” শব্দের আভিধানিক অর্থ যিয়ারত করা। শরীয়তের পরিভাষায় বিশেষ নিয়মে তথা ইহ্রাম সহ কা'বা ঘরের তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার মধ্যে সাঈ করাকে "উমরা” বলা হয়। যিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ এই পাঁচ দিন ব্যতীত বছরের যে কোন সময় উমরা আদায় করা যায়। ইমাম আযম আবূ হানীফা (র)-এর মতে ক্ষমতা ও সামর্থ্য থাকা শর্তে জীবনে একবার উমরা পালন করা সুন্নাত।
এক বছরে একাধিকবার উমরা পালন করা জায়েয। উমরাকে হজ্বে সোগরা অর্থাৎ ছোট হজ্ব বলা হয়।
রাসূলুল্লাহ্ (সা.) থেকে উমরার ফযীলত সম্পর্কে বহু হাদীস বর্ণিত রয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ اللهِ الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةُ لِمَا بَيْنَهُمَا الْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءً إِلَّا الْجَنَّةَ - (متفق عليه)
অর্থ : আবূ হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) ইরশাদ করেন, এক উমরা অপর উমরা পর্যন্ত সময়ের জন্য কাফ্ফারা স্বরূপ। আর হজ্বে মাবরূর-এর একমাত্র প্রতিদান হলো জান্নাত (বুখারী ও মুসলিম)।
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ امَ أَنْ عُمْرَةَ فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حَجَّةً - (متفق عليه)
অর্থ: আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) ইরশাদ করেন, রমযান মাসে একটি উমরা একটি হজ্বের সমান (বুখারী ও মুসলিম)।
عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ اللهِ تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةَ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِي الْكَيْرُ خَيْثَ الْحَدِيدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةَ وَلَيْسَ لِلْحَجَّةَ الْمَبْرُورَةُ ثَوَابُ إِلَّا الْجَنَّةَ . (ترمذى والنسائي)
অর্থ: আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা হজ্ব ও উমরা সাথে সাথে আদায় করবে। কেননা হজ্ব ও উমরা উভয় গুনাহ্ এবং দারিদ্র্য দূর করে, যেভাবে হাপর লোহা এবং সোনা-রূপার ময়লা দূর করে। হজ্বে মাবরূর এর প্রতিদান হল জান্নাত। (তিরমিযী ও নাসাঈ)
