TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

ইংরেজ শাসন আমলে মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা

 ইংরেজ শাসন আমলে মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা


                              ॥ এক ॥


১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ্‌-দৌলার পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গে এই উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পটভূমিতে এক বিরাট পরিবর্তন ও বিপর্যয়ের সূচনা হয়। ক্ষমতা লোভী মীর জাফর নাম মাত্র নবাব হন। আসল ক্ষমতার অধিকারী ছিল লর্ড-ক্লাইভ।


ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি সিরাজ-উদ্‌-দৌলার পরাজয়ে কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা দান


করে হিন্দু সম্প্রদায়। কারণ দীর্ঘ দিন তারা মুসলিম শাসনে অনেক সুযোগ সুবিধা পেয়ে জেগে উঠেছিল এবং মুসলিম জাতির ভাগ্য দেখে মনে মনে হিংসায় জ্বলতে ছিল। ইংরেজরা এই সুযোগে হিন্দুদের বন্ধু ভেবে কাছে ডেকে নিয়ে বাড়তি সুযোগ সুবিধা দান করে। ইংরেজরা বুঝেছিল যে, এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ জিইয়ে রাখতে পারলে এদেশে তাদের আসন নিষ্কন্টক হবে।


ক্ষমতা হারানোর বেদনায় যখন মুসলমানরা নানা দিক থেকে দুর্বিসহ যন্ত্রনার শিকার ঠিক সে সময়ে ইংরেজরা তাদের উপর নানা প্রকার অত্যাচার অব্যহত রাখে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৮৮ থেকে ১৭৯৩ সালের মধ্যে এদেশের রাজস্ব ব্যবস্থায় যে


সংস্কার সাধন করে তার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রন্থ হন এদেশের মুসলমানরা। ১৭৯৩ সালে লর্ড-কর্নওয়ালিশের (১৭৮৬-১৭৯৩) চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে বহু মুসলমান জমিদারী হারিয়ে আর্থিক দূরবস্থায় পতিত হন। অন্যদিকে ইংরেজদের কৃপা দৃষ্টিতে নতুন নতুন হিন্দু জমিদারের উৎপত্তি হয়।

মুসলমানদের আর্থিক জীবনে আর একটি বিপর্যয় লাখেরাজ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত। বাংলাদেশের মোট জমির তুলনায় সে আমলে নিষ্কর জমির পরিমাণ কম ছিল না। তার অর্থের পরিমানও ছিল মোটা অংকের। ১৭৯৭ সালে লর্ড-কর্নওয়ালিস ব্যপক ভাবে ঘোষণা করলো যে, বর্তমান সরকারের অনুমোদিত নিষ্কর জমিগুলোর উপরে সরকারের স্বাভাবিক স্বত্ব রয়েছে। সে দিনের শক্তিশালী রাজশক্তির বলে নিষ্কর সম্পত্তি অবশ্য হাত করতে পারেনি। শতাব্দীর এক চতুর্থাংশ এমনি অনিশ্চয়তার অবস্থায় কেটে যাওয়ার পর, ১৮২৮ সালে ব্যবস্থাপক ও শাসক শক্তি একযোগে কাজ করে নানা মিথ্যা মামলা মুকদ্দমা সাজিয়ে, আট লক্ষ পাউন্ড খরচ করে বাৎসরিক তিন লক্ষ পাউন্ডের স্থায়ী আয়ের অধিকারী হয়। এ নিষ্কর বাজেয়াপ্তির সম্পূর্ণ আয়ই এলো বাংলার মুসলমানদের ঘর থেকে। কারণ নিষ্কর লাখেরাজ সম্পত্তির একমাত্র মালিক ছিলেন মুসলমানরা।


নীল কুঠিয়ালদের অত্যাচার ও মুসলমানদের আর্থিক দুর্গতির আর একটি কারণ। হিন্দু জমিদার ও ইংরেজ শাসক গোষ্ঠি উভয়ই বাংলার নিরীহ চাষীদেরকে ভালো ভালো জমিতে নীলচাষ করতে বাধ্য করে। এই নীল চাষের প্রভাবে সমগ্র বাংলাদেশ বিশেষ করে টাঙ্গাইল, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, রাজশাহী, পাবনা, যশোর, ফরিদপুর এবং ঢাকা ছড়িয়ে পড়ে। নীল কুঠিয়াল এবং নীল রপ্তানি-কারকদের জন্য এই নীল চাষ বিশেষ লাভজনক ছিল। কিন্তু কৃষকের জন্য তা মোটেই লাভজনক ছিলো না, বরং আর্থিক ক্ষতির কারণ ছিলো। মুসলমান প্রজাদের উপর জোর করে ভয় দেখিয়ে নীল চাষে বাধ্য করতো। আদালতে এর বিরুদ্ধে কোন বিচার পার্থনা করে মুসলমান প্রজারা সুবিচার পেতেন না বরং নানা ভাবে নাজেহাল হতেন। অনেক ঝুঁকি নিয়ে মুসলমানরা তাদের ভালোভালো জমিতে নীল চাষ করে ও নীল কুঠিয়ালদের কাছ থেকে ন্যায্য দাম পেতেন না।


তাঁত শিল্পের উপরও ইংরেজ সরকারের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। মুসলমানদের মধ্যে বিরাট একটি গোষ্ঠি তাঁত শিল্পের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করতেন। এই তাঁতীদের সুনিপুন বয়ন শিল্প তখন সারা বিশ্বের খ্যাতি অর্জন করেছিল। ইংরেজরা এদেরকে দিয়ে তাদের পছন্দ মতো কাপড় বুনতে বাধ্য করতো। কিন্তু তারা বা তাদের এজেন্টরা এ সমস্ত কাপড়ের প্রকৃত দাম দিতো না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাজার দামের চেয়ে ১০% থেকে ৪০% কম দামে কাপড় কিনে নিতো। এরপর তাঁত শিল্পকে ধ্বংস করতে কোম্পানির ডিরেক্টররা একটি আইন পাশ করে। এই আইন পাশ হবার পর মুসলমান তাঁতীদের অবস্থা আরো মর্মান্তিক আকার ধারণ করে। বহু তাঁতী বেকার হয়, অভারের তাড়নায় মৃত্যু বরণ করে এবং ঢাকার জনসংখ্যা ক্রমশঃ হ্রাস পেতে থাকে।


                             ॥ দুই ॥

এ ভাবে মুসলমানদের মধ্যে একটি বিরাট জনগোষ্ঠি অর্থনৈতিক নিষ্পেষণের শিকার হয়ে পড়েন। মুসলমান শিক্ষিত শ্রেণিকে নির্মূল করার জন্য ইংরেজ সরকার ভাষা ও শিক্ষানীতিতে আমূল পরিবর্তন সাধন করে। এতো কাল মুসলমানদের শিক্ষা ও কৃষ্টির বাহন ছিল আরবি ও ফারসি ভাষা। ইংরেজ শিক্ষাবিদ লর্ড-মেকলের সুপারিশ ক্রমে লর্ড-উইলিয়াম বেন্টিং এর শাসনামলে ১৮৩৫ সালে ফরাসীর পরিবর্তে ইংরেজিকে এ দেশের রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয় এবং সর্বক্ষেত্রে ইউরোপীয় কৃষ্টি সভ্যতার প্রসার ঘটানো হয়। আরবী ও ফারসি ভাষা মুসলমানদের ধর্মীয় ও জীবিকা অর্জনের ভাষা ছিল। মুসলমানদের মধ্যে যারা বিদেশ থেকে চাকরি করতেন তাঁদের ব্যবহারিক ভাষা ছিল উর্দু। এই উর্দু ভাষা আরবী ও ফারসি ভাষার একটি মিশ্র রূপ ছিল প্রায়। মুসলমানদের এই উপমহাদেশ বিজয়ের সাথে ফারসি ভাষার একটি সংযোগ ছিল। তাই মুসলমানরা ফারসি ভাষা শিক্ষা করাকে গৌরবের কাজ মনে করতেন। মুসলমানরা যে ইংরেজি ভাষার বিরোধীতা করেন তা নয়। তবে ইংরেজগণ যে ভাবে ইংরেজি শিক্ষার প্রসারতাকে গড়ে তোলার জন্য আরবী ও ফারসিকে বাদ দিয়ে যে নীতিতে ইংরেজিকে সাধারনের ভাষা করে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়ে ছিল, বিদগ্ধ মুনলমানগণ সে নীতিকে মেনে নেননি। তাই ইংরেজদের সাথে বিশেষ করে মুসলমানদের দ্বন্দ্ব বাঁধে। ফারসি খুব সমৃদ্ধশালী ভাষা ছিল, ইতোপূর্বে হিন্দু-মুসলমান সকলেই বিশেষ উৎসাহের সঙ্গে ফারসি ভাষা শিক্ষা করতেন। ইংরেজ কর্তৃক এদেশ দখলকৃত হবার পূর্বে মুসলমানরা শিক্ষা দীক্ষায় বিশেষ উন্নত ছিলেন এবং তৎকালীন মুসলমান শাসক কর্তৃক প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থা বিশেষ প্রশংসনীয় ছিল।


অন্যদিকে ইংরেজ কর্তৃক ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে এ দেশ বাসীদের নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষিত করে তোলার পেছনে তাদের এক বিশেষ মনোভাব কাজ করেছিল। তারা চেয়েছিল একটি বিশেষ তাবেদার গোষ্ঠি তৈরি করতে। ম্যাকলের ১৮৩৫ সালের ঘোষণায় তার প্রকৃত প্রমাণ বিধৃত হয়েছে:


We must do best to form class who may be isterpreters between us and the millions whom we govern-a class of persons India in blood and colour but English is taste, in openion, in morals and in intellect.


মুসলমান কর্তৃক ইংরেজি শিক্ষা পরিহার এবং প্রবর্তিত নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা ও ইংরেজি চাল চলন অপছন্দ করার সবচেয়ে বড় কারণ হলো এর সঙ্গে ইসলামী ঐতিহ্য, ভাবধারা ও সংস্কৃতির কোন মিল ছিল না। সর্বস্তরে ইংরেজি চালু হবার ফলে লক্ষ লক্ষ মুসলমান চাকরি হারাতে শুরু করলেন। আগে আইন আদালত থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা বিভাগ পর্যন্ত মুসলমানরা যেখানে একচেটিয়া ছিলেন, সেখানে নব্য ইংরেজি শিক্ষিত হিন্দুরা বহাল হতে শুরু করলো। ইতোপূর্বে মুসলমানদের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল যার ব্যয় নির্বাহ হতো লাখেরাজ সম্পত্তির আয়, লাখেরাজ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবার পর এ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেল। বহু মুসলমান শিক্ষক বেকার হয়ে গেলেন।


এ ভাবে আর্থিক, সামাজিক, রাষ্ট্রিয় এবং ঐতিহ্যগত দিক থেকে মুসলমানরা যখন কোনঠাসা অবস্থায় পড়েছিলেন তখন তাদের এই দুর্বল অবস্থায় হিন্দুদের ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতির প্রভাব পড়তে থাকে। হিন্দুদের দূর্গাপুজা ও মুসলমানদের পীর পুজা, পীরের দরগায় উরস করা প্রায় এক পর্যায়ে পড়ে। বিপদে আপদে, অসুখ বিসুখেও বালা মুছিবতে পীরের দরগায় মানত করা অনেকটা হিন্দুদের অনুকরনে শুরু হয়। মুসলমানদের বিবাহ পণ প্রথা এবং টাকা পয়সা আদান প্রদান প্রথা হিন্দু সমাজের অনুকরণ শুরু হয়।


এই বিপর্যয়ের হাত থেকে মুসলমানদের বাঁচাবার জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে থেকে আন্দোলন গড়ে ওঠে। এ সব আন্দোলনের মধ্যে ওহাবী আন্দোলন ও ফারায়েজী আন্দোলন বিশেষ ভাবে স্মরণীয়।


এই আন্দোলনের প্রভাব সমগ্র ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। অবিভক্ত ভারতে এই আন্দোলন ফারাজী আন্দোলন নামে পরিচিত এবং হাজী শরীয়তুল্লাহ এই আন্দোলনের গোড়াপত্তন করেন। তিনি ইসলামকে সর্বপ্রকার কুসংস্কার থেকে উর্ধে রাখার আহবান জানান এবং সত্যিকার ইসলামী আদর্শ কায়েমের জন্য চেষ্টা চালান। বিশ শতকে বাংলায় যে যুগান্তকারী ইসলামী জাগরণ শুরু হয়েছিল তার পিতৃপুরুষ ছিলেন মুনশী-মেহেরুল্লাহ। মেহেরুল্লাহ (১৮৬১-১৯০৭) ইসলাম প্রচার প্রসারে যে অসীম অবদান রেখে গেছেন তা স্বীকার না করলে সত্যের অপলাপ হবে। শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের উপর একটি মারাত্মক বিপদ নেমে এসেছিল। সেটি হলো ইংরেজদের ছাত্রছায়ায় খ্রিস্টান মিশনারিরা মুসলমানদের মধ্যে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার শুরু করে। শুধু প্রচারই নয়, অশিক্ষিত মূর্খ মুসলমানদের ভুলিয়ে-ভালিয়ে ধমান্তরিত করা শুরু করে। হাতুড়ে ডাক্তরের মতো হাটে বাজারে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মুসলমানদের সর্বনাশ করতে থাকে। মুললিম মিল্লাতের সেই ঘোরদিনে অখ্যাত পল্লীর মুনশী মেহেরুল্লাহ গর্জে ওঠেছিলেন। বৃটিশ রাজশক্তির ভয় না করে বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত চারনের মতো গ্রামে গ্রামে প্রচার করেন ইসলামের শাশ্বত বিপ্লবের বাণী। বাংলা বিহার ও আসামের হাটে মাঠে গ্রামে গঞ্জে শহরে বন্দরে খৃষ্টানদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন তিনি। তাদের প্রশ্নের জবাব দেন এবং ইসলাম যে মানবতার মুক্তির একমাত্র পথ তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে মানুষকে দেখাতে থাকেন। ফলে টক্কর লাগে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারক রেভারেন্ত জন জমির উদ্দীনের সঙ্গে।


জন জমির উদ্দীন ১৮৯২ সালে 'খ্রিস্টান বান্ধব' শিরোনামে মাসিক পত্রিকায় 'আসল কুরআন কোথায়' শিরনামে ঔদ্ধত্যপূর্ণ একটি প্রবন্ধ লেখেন। এতে জন সাহেব প্রমাণ করার চেষ্টা করেন আসল কুরআনের অস্তিত্ব কোথাও নেই। এহেন ঔদ্ধত্যপূর্ণ প্রবন্ধের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেন মুনশী মেহেরুল্লাহ। সুধাকর পত্রিকার ঈসায়ী বা খ্রিস্টানী ধোকা ভঞ্জন, শিরোনামে এক গবেষণামূলক প্রবন্ধে, যা ধারাবাহিক ভাবে সুধাকরে প্রকাশিত হয়। এরপর জন জমির উদ্দীন সুধাকর পত্রিকায় একটি ছোট প্রবন্ধ লেখেন। উত্তরে মেহেরুল্লাহ- 'আসল কুরআন সর্বত্র' এ শিরোনামে সুধাকরে অন্য একটি সারগর্ভ প্রবন্ধ লেখেন। যাতে মেহেরুল্লাহর পান্ডিত্যের সুস্পষ্ট ছাপ ছিল। উক্ত প্রবন্ধ প্রকাশ হবার পর বিরোধী মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। জন জমির উদ্দীন নিজের অবস্থা সম্পর্কে ভাবতে থাবেন এবং এক পর্যায়ে তিনি খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং মুনশী মেহেরুল্লাহর সহযোদ্ধা হিসাবে ইসলাম প্রচারে নেমে পড়েন। এই সময়ে নিকোলাস পাদ্রী, অঘোর নাথ বিশ্বাস, রেভারেন্তে আলেকজান্ডার প্রমুখ খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারকগণ মুনশী-মেহেরুল্লাহর সঙ্গে তর্কযুদ্ধে পরাজিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি যে শুধু খ্রিস্টান মিশনারীদের বিরুদ্ধেই উঠে পড়ে লেগেছিলেন তা নয়, তিনি নিজ জাতির ভেতরে যে কুসংস্কার অনাচার, কর্মহীনতা, অলসতা এসে বাসা বেঁধে ছিল তার বিরুদ্ধে ও তিনি বজ্র কঠোর ভূমিকা পালন করেন। তিনি ব্যবসা বানিজ্য, স্ত্রীশিক্ষা, শিক্ষার উপকারিতায় মকতব, মাদরাসা, স্কুল স্থাপন, শিশু শিক্ষা, ধর্মমত প্রাণ গঠন, ব্যায়াম চর্চা, সভা-সমিতির উপকারিতা, বায়াতুশমাল তহবিল গঠন বাল্য বিবাহের দোষ, অপব্যয়, সমাজ উন্নতির উপায়, স্বজাতি আন্দোলন ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বক্তৃতা করেন। তিনি বলতেন, মুসলমান মিঠাই খাইতে জানে,


কিন্তু মিঠাই তৈরি করতে জানে না। পান খেয়ে, অজস্র পয়সা নষ্ট করতে জানে কিন্তু পানের বরজ তৈরি করতে অপমান বোধ করেন। মুনশী সাহেব মুসলমানদের মিঠাইয়ের দোকান করতে, পানের বরজ তৈরি করতে উৎসাহ দিতেন। তার চেষ্টায় বহু স্থানেই ফলবতী হয়েছিল। মুনশী মেহেরুল্লাহ শিক্ষার প্রতি ছিল অত্যন্ত দরদী মন। নিজে কম শিক্ষিত হয়েও তিনি শিক্ষা বিস্তারের জন্য আজীবন সাধনা চালিয়েছেন। তাঁর নিজ গ্রামের পাশে মনোহরপুর গ্রামে ১৩০৭ সালে সম্পূর্ণ প্রতিকূল পরিবেশে প্রতিষ্ঠা করেন


পীর মওলানা কারামত আলীর নামানুসারে 'মাদরাসায়ে কারামতিয়া'। এ ছাড়াও তিনি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নানা ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে মুসলিম জনগোষ্ঠিকে শিক্ষার গুরুত্ব বুঝাতে চেষ্টা করেছেন।


তিনি সাহিত্যিকদের লেখায় উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি নিজ খরচে ইসমাইল হোসেন শিরাজীর কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশ করে দেন এবং তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন সভায় বক্তৃতা দেয়ার সুযোগ করে দেন।

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।