আত্ম-সমালোচনা
যদি কেউ বলে যে আমি কোন পাহাড়ের গুহায় বসবাস করার কারনে কোন শায়খ বা বুজুর্গ ব্যক্তির সান্নিধ্য লাভে বঞ্চিত ও সকল প্রকার দোস্ত আর দুশমন থেকে মুক্ত থাকি তাহলে আমার আত্মশুদ্ধির কি পথ হবে? ইমাম গাজালী (রহঃ) তাদের ও নিরাশ না হয়ে চতুর্থ পদ্ধতি অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন-আর সেই পদ্ধতি হল আত্ম-পর্যালোচনা বা আত্ম সমালোচনা। দৈনিক ঘুমানোর পূর্বে কমপক্ষে ১৫ মিনিট মোরাকাবা করে ভাবুন যে, আজকে আপনি কতটি ভাল ও কতটি মন্দ কাজ করেছেন। ভাল কাজ সম্পাদন করার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন। কেননা শুকরিয়া আদায় করার দরূন আল্লাহ তায়ালা আরো অধিক হারে ভাল কাজ করার তৌফিক দিবেন।
আল্লাহপাক ইরশাদ করেন:
لن شكرتم لازيد نكم
অর্থাৎ তোমারা যদি শুকরিয়া আদায় কর তবে আমি নেয়ামত সমূহ অবশ্যই বাড়িয়ে দেব। অতএব যতবেশি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা হবে সে অনুযায়ী নেয়ামত বাড়িয়ে দেয়া হবে আর অতীতের কৃত গুনাহখাতার জন্য আন্তরীক ভাবে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করতে হবে। যদি কেউ আন্তরিকতার সাথে তওবা করে তখন তার সমস্ত গুনাহ সমুহ ঝরে যাবে। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে:
التائب من الذنب كمن لا ذنب له
গুনাহ থেকে তওবা কারি এমন যেন তার দ্বারা কোন গুনাহ সংঘটিত হয় নাই। যদি এ আমল সর্বদা চালু রাখা যায় তবে মন্দ কাজগুলো ধীরে ধীরে শেষ হয়ে অন্তরে পরিশুদ্ধ ও তাকওয়া সৃষ্টি হতে থাকবে। মোট কথা হলো আত্মশুদ্ধির জন্য প্রথমত: কোন শায়েখ বা বুজুর্গ ব্যক্তির মাধ্যমে প্রচেষ্ট চালাতে হবে। কোন শায়েখ না পাওয়া গেলে বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমে উত্তম গুনাবলীর সমাবেশ নিজের মাঝে ঘটাতে হবে। বন্ধু-বান্ধব না থাকলে দুশমনকেই আত্মশুদ্ধির হাতীয়ার বানাতে হবে।
যদি কোন দুশমনও না পাওয়া যায় তবে নিজেকেই নিজের শায়েখ বানিয়ে নিতে হবে। সাধারনত আত্মশুদ্ধির এই চারটি পদ্ধতিই বিদ্বমান রয়েছে। উল্লেখিত পদ্ধতি গুলির মধ্যে যদি কোন একটি কাজে লেগে যায় তবে তাই নাজাতের জন্য যথেষ্ট। আর যদি ভাগ্যক্রমে চারটি পদ্ধতিই এক সাথে লাভ করা যায় তবে তো ঐ ব্যক্তি পরশ পাথর হওয়ার মত সৌভাগ্য লাভে ধন্য হবে।
১। শায়েখ,
২। মুয়াখাত ফিল্লাহ,
৩। দুশমন,
৪। মুহাছাবা।
উল্লেখিত চারটি বস্তু একত্রে লাভ করা ব্যক্তি বড়ই সৌভাগ্যশালী ও খোশ নছীব।
