TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

হিন্দুস্থান গমন

মুঘল শাসনামলে হিন্দুস্থানে অনেক উন্নত মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে ছিল। শুধু দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, জাগতিক জীবনের প্রয়োজনীয় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। ইংরেজরা সে সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলেও, সেখানকার আলিমগণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজ নিজ সীমার মধ্যে থেকে দেশে বিভিন্ন স্থানে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কায়েম করে রেখে ছিলেন।


এখনো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে জ্ঞান পিপাসু শিক্ষার্থীরা তাদের কাছে ছুটে যেতেন।


বিশাল ভারতবর্ষ সম্পূর্ণ ছিল বালক দরবেশ আহমদ এর কাছে অজানা। লোকজনের কাছে জিজ্ঞেস করে এবং ঘুরে ঘুরে অনেক কষ্ট করে পায়ে হেঁটে তিনি উপস্থিত হলেন দিল্লি। এরপর দিল্লি থেকে চলে যান লখনৌর দেওবন্দ মাদরাসায়। দেওবন্দ মাদরাসার বিশেষ এক সুখ্যাতি ও বৈশিষ্ট্য ছিল। ইংরেজ সরকার মুসলমানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ করে মুসলমানদের ঈমান আকীদা তাহজিব তমদ্দুন ভুলিয়ে দেবার ষড়যন্ত্র করছিল। তখন কয়েকজন ইসলামী চিন্তাবিদ হিন্দুস্থানে সঠিক ইসলামী শিক্ষা জিইয়ে রাখার লক্ষ্যে দেওবন্দ নামক স্থানে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠান করেন। এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন হযরত মওলানা আবুল কাশেম নানুতুবী (রঃ)। এই মাদরাসার উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের হারানো গৌরব হারানো ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে জাগিয়ে তুলে আবার তাদের জগত সভায় প্রতিষ্ঠা করা। এই মাদরাসা ছিল তখন একমাত্র আদর্শ মাদরাসা, ইসলামী শিক্ষার প্রাণ কেন্দ্র, মানুষ গড়ার কারখানা।


দরবেশ আহমদ এই মাদরাসায় গিয়ে হাজির হন এবং ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। দরবেশ আহমদ ছিলেন সুদর্শন স্বাস্থ্যবান এক কিশোর। উস্তাদগণ তাঁর কথা শুনে এবং চোখ মুখ দেখে বুঝতে পারেন এ শিক্ষার্থীর প্রতিভা আছে, বুকে অদম্য সাহস আছে, প্রাণে জ্ঞান অর্জনের স্পৃহা আছে, মনের ভেতরে আছে আগুন। উস্তাদগণ তাঁকে ভর্তি করে নিয়ে থাকা খাওয়া লেখা পড়ার সুব্যবস্থা করে দেন। এখানে চলতে থাকে তাঁর শিক্ষা। শিক্ষার মাধ্যম আরবী, ফারসি এবং উর্দু। পঁচ বছরের মধ্যে দরবেশ আহমদ কুরআন হাদীস, ফিকহ্ এবং ইসলামের ইতিহাসে অগাধ জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি একবার কি দুবার যা পড়তেন এবং যে কথা শুনতেন তাই তাঁর হৃদয়পটে অবিকল স্মরণ থাকতো। দরবেশ আহমদের একজন উর্দু ভাষী উস্তাদ ছিলেন, তিনি উর্দুতে কবিতা লিখতেন। তিনি পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে নিজের কবিতা আবৃত্তি করে শোনাতেন। তাঁর কবিতা ছিল জাতীয় জাগরণমূলক। তিনি দরবেশ আহমদকে বলতেন, দুর্বল মানুষ সবল করতে চাইলে তাদের প্রাণে কাব্যরস ঢালতে হবে। চারা গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি ঢাললে যেমন চারা বৃদ্ধি পায় এবং নতুন পাতা গজিয়ে ওঠে ডালপালা ছড়ায় তেমনি কাব্যরসে মানুষের মন প্রাণ সরল সতেজ হয়ে ওঠে।


কাব্যরস হলো মানুষের দুর্বল মনের অব্যর্থ-দাওয়া। বক্তৃতার মধ্যে থাকা চাই ভাষার লালিত্য ও কাব্যরস। কাব্যরস ছাড়া বক্তৃতা নিরস নিষ্প্রাণ, শ্রোতাদের কানে পৌঁছালেও হৃদয় প্রাণে পৌঁছে না, মনে রেখাপাত করে না। দরবেশ আহমেদের এই উস্তাদের উপদেশ তাঁকে দারূণভাবে প্রভাবিত করেছিল। দেওবন্দ মাদরাসার শিক্ষা ছিল বাস্তবমুখী। মুসলমানদের সমস্যা কি? কি? কীভাবে সে সব সমস্যা দূর করা যায় তার পথ দেখিয়ে দেয়া। মুসলমানরা এক সময় ছিল বিশ্বজোড়া গৌরবের অধিকারী। তারা ছিলেন সকল মানুষের পথ প্রদর্শক ও শিক্ষক। জ্ঞান বিজ্ঞান শিক্ষা সভ্যতায় তারা ভারতসহ সারা দুনিয়ায় শিক্ষা সভ্যতার আলো ছড়িয়ে ছিলো। সেই শাসক জাতি


বর্তমানে বিজাতির পদদলিত শোষিত ও নির্যাতিত হচ্ছে। শিক্ষা ও অর্থনীতি থেকে বঞ্চিত করে তাদের মেরুদণ্ড প্রায় ভেঙে ফেলেছে। এই মেরুদণ্ড ভাঙ্গা জাতিকে আবার সোজা হয়ে দাঁড় করাতে হবে। তাদের পূর্ব গৌরব আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদের প্রাণে আশা জাগিয়ে তুলতে হবে। তাদের ভাঙা বুকে আবার সাহস হিম্মত দিয়ে জাগিয়ে তুলতে হবে।


মুসলমানদের শিক্ষা সভ্যতায় জাগিয়ে তোলার মন্ত্র শিক্ষা দেয়া হতো দেওবন্দ মাদরাসায়। এই মাদরাসার উদ্ভাদগণ কুরআন ও হাদীস এবং রাসূল (সাঃ) তার সাহাবীদের যেভাবে শিক্ষা দিতেন তাঁরা সেভাবে শিক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে প্রাণে প্রস্তুত করে দিতেন। তারা আবার নতুন এক পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন জাগিয়ে দিতেন ছাত্রদের ভেতরে।


এ কথাই ধ্বনিত হয়েছে মহা কবি আল্লামা ইকবালের কবিতায় তিনি বলেছেন:


বিশ্বজোড়া খ্যাতি ভরা


অতীতকে মোরা সামনে রাখি,


অতীতের সেই আরশিতে মোর


ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি।

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।