উৎসর্গ
উৎসর্গ
আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি
উৎসর্গকৃত ব্যক্তির পরিচয়
মোঃ মনিরুজ্জামান মনি। পহেলা মে ১৯৫৮ সালে পাছতেরিল্যা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।বাবা মোঃ মোবারক আলী মিঞা ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মা খাদিজা বেগম গৃহিনী। তিনি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তিনিও বাবার মতই পুলিশ বিভাগে যোগদান করেন। ছোটবেলায় পিতৃহারা হন বিধায় শিক্ষাজীবনে বিভিন্ন জায়গায় পড়াশোনা করতে হয়েছে। তিনি ধুবলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। পরে ভর্তি হন গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। পরবর্তীতে দশম শ্রেণিতে এসে ভর্তি হন ফলদা রামসুন্দর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ১৯৭৩ সালে এসএসসি পাস করেন। ১৯৭৩ সালে ভূঞাপুর কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৭৪ সালে ভূঞাপুর থেকে মধুপুর কলেজে গিয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে এইচএসসি পাস করে। এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই যোগ দেন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে। এএসআই পদে চাকরিরত অবস্থায় তিনি ২০০৪ সালে পুলিশ বেতার নীতিমালা নামক গ্রন্থের সার্বিক সহযোগিতা করেন। ২০১৭ সালে চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। পড়া এবং ভ্রমণ পিপাসু এই ব্যক্তিটি পুলিশ বিভাগ থেকে জাতিসংঘ মিশনের সদস্য হয়ে কঙ্গোতে যান। সেখান থেকে ফেরার আগে উগান্ডা, কেনিয়া ও তানজানিয়া ভ্রমণ করেন। সংস্কৃতিমনা মোঃ মনিরুজ্জামান মনি চাকুরির ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে ইতিহাস বিষয়ক বই পড়ার নেশায় মেতে ওঠেন। অবসর জীবনে সেই অভ্যাসটি এখন পুরোমাত্রায় বিদ্যমান। সংস্কৃতি এবং প্রকৃতি তাকে দারুণভাবে টানে। তিনি ২০১৯ সালে হজব্রত পালন করেন।
লেখকের কথা
॥ এক ॥
হযরত মওলানা দরবেশ আহমদ-এর কিছু অলৌকিক গুণ কেরামতির কথা আমি ছোটবেলা লোক মুখে শুনেছি এবং এখনো শুনেছি কিছু। সেই সূত্র থেকে তাকে জানার আগ্রহ আমার। কে তিনি এমন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী? তিনি আর কি কি কাজ করেছেন? তাঁর কোথায় বাড়ি?
স্থানীয় লোকের কাছে জিজ্ঞাস করে জবাব পাইনি। কখনো কেউ বলেছেন, তিনি বড় কামিল লোক ছিলেন এই পর্যন্তই।
কিছু বইপত্র পড়ে তাঁর সম্পর্কে বিচ্ছিন্ন টুকরো টুকরো দু চারটা ঘটনার কথা পেয়েছি, সে সবই চাটনি স্বরূপ, ধারাবাহিক কিছু নয়। বরং তাতে লক্ষ করেছি ঐতিহাসিক কিছু বিভ্রান্তি। তবু তাঁকে জানার এবং তাকে নিয়ে, কিছু লেখার একটা অদম্য আকাংখা জাগে আমার ভেতরে। তিনি তো ছিলেন আমাদের খুব কাছের মানুষ, আমাদের লোক। তাঁকে নিয়ে কিছু লিখবো না? মহত মানুষের জীবনালোচনা করতে কার না ভালো লাগে!
বিগত ২০ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর বিশেষ সংখ্যার জন্য সাহিত্য সম্পাদক কবি সাজজাদ হোসাইন খান আমার কাছে একটি লেখা চান। মওলানা দরবেশ আহমদ সম্পর্কে তখন আমার যেটুকু জানা ছিল, তার কিছুটা দিয়ে তাড়াতাড়ি করে 'বিস্মৃত প্রায় ইসলাম প্রচারক ও সমাজ সংস্কারক মওলানা দরবেশ আহমদ' নামে একটি প্রবন্ধ লিখে পাঠাই। তা ছাপা হয়। প্রবন্ধটি পড়ে মওলানার কয়েকজন ভক্ত অনুরাগী খুব খুশি হন এবং তাঁরা আমাকে মওলানাকে নিয়ে একটি বই লেখারও অনুরোধ করেন। তাঁদের মধ্যে মাওলানা দরবেশ আহমদ-এর বংশধারার একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি হচ্ছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা জনাব মোঃ মনিরুজ্জামান মনি, বর্তমানে ভূইয়াপুর পৌরসভার অন্তর্গত ফসলআন্দী বাস করছেন। তিনি মওলানা দরবেশ আহমদ-এর সুযোগ্য নাতিনপুত্র। তিনি মওলানার হেকিমী শাস্ত্র অধ্যয়ন করে অনেক কঠিন রোগী, বিশেষ করে শারীরিক প্রতিবন্ধী রোগী চিকিৎসা করে সফলতা লাভ করেছেন। তিনি আমাকে অনেক মূল্যবান বইপত্র সরবরাহ করে এবং মৌখিকভাবে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছেন। তাঁর আন্তরিকতাপূর্ণ সহযোগিতা না পেলে এ বইটি আলোর মুখ দেখতে পেতো না এবং আমি সম্মানিত পাঠকদের হাতে বইটি তুলে দিতে পারতাম না। এজন্যে আমি মোঃ মনিরুজ্জামান মনি সাহেব-এর কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। (একে তো নাচুনে বুড়ি তার উপরে ঢোলের বাড়ি কথাটা এখানে উল্লেখ করতে চাই না)। লিখতে রাজি হয়ে গেলাম। তাঁরা আমাকে মওলানা সম্পর্কে সহায়ক কিছু বই পত্র, কেউ হাতে লেখা কিছু তথ্য আবার কেউ মৌখিক কিছু তথ্য প্রদান করেন। বই লিখতে বসে আমার মনে প্রশ্ন জাগে, বইটি প্রকাশ করে দেবেন কে? আমার পক্ষে তো বই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। নামাজই যদি না পড়তে পারি তবে অজু করে খামাখা বসে থেকে লাভ কি? বিষয়টা নিয়ে একদিন আলাপ করতেই গতি সাহিত্য পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক,
উৎসাহী সাহিত্য কর্মী বহু গ্রন্থ লেখক, সাহিত্যের সকল কাজের কাজী, লোক সাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক এবং কবি মামুন তরফদার আমাকে আশার বাণী শোনায়। বলেন, স্যার, আপনি বইটি লিখে ফেলুন, আমি প্রকাশ করে দেব। মামুন তরফদারের এই কথায়ই আমি মূলতঃ বই লেখার প্রেরণা পেয়েছি। এ জন্যে তাঁকে শুকনো ধন্যবাদ জানিয়ে খাটো করতে চাই না। বিষয়টা তো ধন্যবাদ জ্ঞাপনের চেয়ে অনেক বড়। আল্লাহ্ তার হায়াত দারাজ করুন।
বইটি রচনায় আমি সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছি করটিয়া সরকারি সা'দত কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক অধ্যাপক মীর সোহরার আলী স্যার এর 'পাক্ষিক হিতকারী' পত্রিকায় প্রকাশিত 'সমাজ সংস্কারক ও ইসলাম প্রচারক হেকিম মওলানা দরবেশ আহমদ' প্রবন্ধটি থেকে। মাওলানা দরবেশ আহমদ এর ছবিটি সেই পত্রিকা থেকে কাটিং করে নিয়েছি। স্যারের দুটি চিঠি মৌলবী নঈম উদ্দীন এবং মওলানা দরবেশ আহমদ সম্পর্কে লেখা এ ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করেছে। নঈম উদ্দীন সম্পর্কে লেখাটা ইতিপূর্বে কাজে লাগিয়েছি। দরবেশ আহমদ সম্পর্কে লেখাটাও আমাকে কিছু তথ্য দিয়েছে।
॥ দুই।
মাটির গভীরে খনিতে লুকিয়ে থাকা সোনা, মনি, মুক্তা খুঁজে খুঁজে তুলে আনা কঠিন কাজ সন্দেহ নেই। আধুনিক বিজ্ঞান সেই কঠিন কাজটি অনেক সহজ করেছে। কিন্তু কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া মানুষকে জন সম্মুখে হাজির করা তার চেয়েও কঠিন কাজ। আমি লিখতে বসে তা অনুভব করেছি। গল্প উপন্যাস বা কবিতা নয়, বাস্তব জীবনের কথা, আমরা তাঁর কথা না জানলে ও মহাকালের আমল নামায় তাঁর কথা ও কাজ সবই লেখা রয়েছে। আজো ভূঞাপুরের বাতাসে কান পাতলে কিছু শোনা যায়।
মাওলানা দরবেশ আহমদ ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন সংগ্রামী ও বিপ্লবী কর্মীপুরুষ। তাই তিনি স্কুল, মকতব, মাদ্রাসা স্থাপন করে ক্ষান্ত হননি। তরুণদের খেলাধুলা করার জন্য ক্লাব, বয়স্কদের শিক্ষার জন্য নাইট স্কুল করেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে হাসপাতাল স্থাপন করে রোগী ও দূর্বলদের চিকিৎসা সেবা করেছেন। শিক্ষার প্রতি মানুষকে অনুপ্রণিত করার জন্য, মহাজনের সুদী ঋণ থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য ও কুসংস্কার, শিরক বিদাতের মতো মহাপাপ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্রামে গ্রামে ঘুরে সভা ও আলোচনা অনুষ্ঠান করেছেন, অজ্ঞ অশিক্ষিত মানুষ কেউ আগে তাঁর কাছে আসেনি, তিনিই আগে তাদের কাছে গিয়েছেন, গ্রামে গ্রামে ঘুরে রোগী দেখেছেন, দরিদ্র রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা করেছেন, খাদ্যহীন মুখে খাদ্য দিয়েছেন, যাদের পরণে কাপড় দেখেননি তাদের জন্য কাপড় কিনে বাড়িতে গিয়ে দিয়ে এসেছেন। শুধু তাই নয়, গ্রামের যুবকদের কর্মে চিন্তা চেতনায় জাগিয়ে তোলার জন্য মুজাহিদ বাহিনী নামে এক সমাজ সংস্কারক বিপ্লবী বাহিনী গঠন করেছিলেন। এতো টুকুই কি ছিল তাঁর কর্মের পরিধী? এ সব চিন্তার বিষয়।
যোগাযোগ হীন প্রচার মিডিয়াহীন অন্ধকার যুগে সম্পূর্ণ প্রতিকূল পরিবেশে জন্ম গ্রহণ করে তিনি একা দুহাতে দেশ ও জাতির জন্য চারদিকে মানবতার যে সমস্ত খেদমত করেছেন তা অনেকটা হারিয়ে গেলেও যেটুকু স্মৃতিচিহ্ন রেখে গিয়েছেন সেইটুকু নিয়ে চিন্তা করলে বুঝা যায় তিনি কত বড় মাপের জিহাদী কর্মীপুরুষ ছিলেন। কত বড় মহৎ প্রাণের অধিকারী ছিলেন।
আলোর মশাল থেকে আলো নিয়ে অন্ধকারে আলো জ্বালানো মহৎ কাজ সন্দেহ নেই। কিন্তু আলোহীন অন্ধকার ভুবনে নিজের বুকের বারুদ ঘষে আলো জ্বালানো অসাধারণ মানুষের কাজ। উর্বর মাটি চাষ করে ফসল ফলানো কাজটি সকল চাষী-ই পারে। কিন্তু জংগলা পাহাড়ের কঠিন পাথর ভেঙে সমতল করে প্রাণের পানি সেচ দিয়ে উর্বর করে ফসল ফলানো কত বড় যাদুকরী ক্ষমতা ও হিম্মতের প্রয়োজন তা চিন্তার বিষয়। মওলানা দরবেশ আহমেদের সেই যাদুকরী ক্ষমতা ও হিম্মত ছিল। তাঁর হাতে আলাদ্বীনের আশ্চার্য যাদুর প্রদীপ ছিল না, তিনি নিজেই ছিলেন সেই আশ্চার্য যাদুর প্রদীপ।
আমরা জানি না বলেই অনেক কিছু বিশ্বাস করতে চাইনা। কারণ আমরা চিন্তা করি আমাদের মাথার নগদ বুদ্ধি ও সীমিত চিন্তা শক্তি দিয়ে। মানুষ জানে না তার ভেতরে কত অফুরন্ত ক্ষমতা লুকিয়ে রয়েছে। যারা নিজকে চিনে তারাই মানব কল্যাণে কাজ করে ধন্য হন। মওলানা দরবেশ আহমদ ছিলেন 'নিজকে চেনা' মানব কল্যাণকারী একজন মহৎ কর্মীপুরুষ। আমরা মহৎ কর্মীদের মহৎ কাজের স্বীকৃতি দিতে অনেক সময় কুণ্ঠিত বোধ করি। দরবেশ আহমদ কারো কাছে থেকে স্বীকৃতি ধন্যবাদ পাবার জন্য কাজ করেননি।
॥ তিন।
এ ধরনের বই পূর্ণাঙ্গ বা সুন্দর বলে দাবী করা যায় না। মওলানা সম্পর্কে আরো কিছু জানতে চেয়েছি কিন্তু কেউ কিছু আর বলতে পারেননি। তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবনের সব বিষয় এখন আর পাওয়া ও সম্ভব নয়। তবু আমাদের উত্তরসূরীদের সামনে মওলানা দরবেশ আহমদের জীবন ও কাজের কিছুটা তুলে ধরে তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেবার জন্যই আমার এ সামান্য প্রচেষ্টা। বইটি কোথাও কোনো ত্রুটি বা উল্লেখ করার মতো আরো কিছু থাকলে মেহেরবানি করে আমাকে জানালে আগামি সংস্করণে তা সংযোগ করে দেব ইনশাল্লাহ্।
।। চার।।
বইটি রচনায় যারা আমাকে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন তাঁদের প্রতি আমি গভীর আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং নিম্নে তাঁদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে দিচ্ছি:
১. মো. মনিরুজ্জামান (অবসরপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টর), গ্রাম পাছতেরিল্যা, থানা-ভূঞাপুর, জেলা- টাঙ্গাইল।
আবদুল জুব্বার আকন্দ, গ্রাম রামপুর, ২. মো. কছিমুদ্দীন আকন্দ, পিতা ইউনিয়ন গাবসারা, থানা ভূঞাপুর, জেলা টাঙ্গাইল। পেশা- শিক্ষকতা (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত)। বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম: বাগবাড়ি।
৩. হামিদুর রহমান মিয়া, গ্রাম রাউৎবাড়ি, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা, বর্তমানে ঢাকা নিবাসী।
8. মো. নূরুল ইসলাম খলিফা, পিতা তৈয়ব উদ্দিন খলিফা, মাতা। সাজেদা বেগম, গ্রাম: বাগবাড়ি, উপজেলা ভূঞাপুর, জেলা টাঙ্গাইল। প্রধান শিক্ষক, ভারই দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, উপজেলা: ভূঞাপুর, জেলা টাঙ্গাইল।
৫. খাজা মঈনউদ্দীন, গ্রাম জিগাতলা, পিতা সোহরাব আলী সরকার, দাদা-আহমদ হাতেম আলী মাস্টার। আহমদ হাতেম আলী ছিলেন মওলানা দরবেশ আহমদের ভাতিজা। তিনি মওলানার সংস্পর্শে থেকে ছোটবেলা থেকে সৎ সাহসী এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। হেমনগর হাই-স্কুলে পড়ার সময় দেখেন, মুসলমান প্রজাদের প্রতি কাচারির নায়েবদের অসৌজন্যমূলক আচরণ। নায়েব বাবু মুসলমান প্রজাদের খাজনার টাকা হাতে গ্রহণ করতো না। দূরে এক পানির চাড়িতে ঢিল দিয়ে ফেলতে হতো। এই অপমানজনক ব্যবহার দেখে আহমদ হাতেম আলী জমিদার হেমবাবুর কাছে প্রতিবাদ জানান। হেমবাবু রাগান্বিত হয়ে তাঁকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করে দেন। পরে আহমদ হাতেম আলী জায়গীরদার বানী তালুকদারের অনুরোধে তাঁকে পুনরায় ভর্তি করে নেন। আহমদ হাতেম আলী কর্মজীবনের প্রথম কলকাতার মোহনবাগ ফুটবল টিমের একজন নামকরা ফুটবল খেলোয়ার ছিলেন। পরে তিনি আসাম প্রদেশের পুলিশ ইন্সপেক্টর নিযুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে ইংরেজ সকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে, মওলানা দরবেশ আহমদ আসাম গিয়ে ভাতিজাকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে এনে ভাদুরিরচর মাদরাসায় শিক্ষক পদে নিয়োগ দান করেন।

