TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

অলৌকিক ক্ষমতা বা কারামত প্রসঙ্গে

বইটির 'লেখকের কথায় শুরুতেই আমি মওলানা দরবেশ আহমদ (রহ) এর অলৌকিক গুণ কেরামতির কথা লোক মুখে শুনেছি বলে উল্লেখ করেছি। আবার শেষে 'কিংবদন্তি' বিভাগে তাঁর কয়েকটি অলৌকিক ক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছি। এ প্রসঙ্গে কয়টি কথা বলতে হচ্ছে।


অলৌকিক ক্ষমতা যা নবী রাসূলদের মাধ্যমে প্রকাশ পায় তাকে মুজিজা বলা হয়। যেমন নবী ঈসা (আঃ) কে আল্লাহ অনেক মুজিজা দিয়েছিলেন। তিনি পানির উপর দিয়ে শিষ্যদের নিয়ে হেঁটে যেতেন। অনুরূপ ভাবে ওলী, দরবেশদের অলৌকিক কর্মকে 'কারামত' বা কেরামত বলা হয়। আল্লাহর ওলীদের কারামত সত্য। অর্থাৎ ওলীগণ থেকে অলৌকিক কর্ম প্রকাশ পাওয়া সম্ভব। যদি কোনো মুমিন মুত্তাকী মানুষ থেকে কোনো অলৌকিক কার্য প্রকাশ পায় তা হলে তাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত কারামত বলে বুঝাতে হবে। তা অসম্ভব বলে উড়িয়ে দেয়া মুতাযিলী ও অন্যান্য বিভ্রান্ত সম্প্রাদায়ের আকীদা। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে নবী ছাড়াও অন্যান্য মুমিন মুত্তাকী মানুষের অলৌকিক কর্মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


কোনো ওলী বা নেককার ব্যক্তি কর্তৃক কোনো অলৌকিক কর্ম সংঘটিত হওয়া অর্থ এ নয় যে, কর্মটি সম্পাদন করা সে ব্যক্তির ইচ্ছাধর্মী বা তার নিজের ক্ষমতা। এর অর্থ হলো একটি বিশেষ ঘটনায় আল্লাহ তাকে সম্মান করে একটি অলৌকিক চিহ্ন প্রদান করেছেন। অন্য কোনো সময়ে তা নাও দিতে পারেন।


একটি উদাহরণ উল্লেখ করছি। নির্ভরযোগ্য সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, ২৩ হিজরীর প্রথম দিকে এক শুক্রবারে হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) মসজিদে নববীতে খুতবা প্রদান কালে উচ্চস্বরে বলে উঠেন- 'হে সারিয়া পাহাড়ে যাও'। সে সময়ে একজন মুসলিম সেনাপতি সারিয়া ইবনে যুনাইম পারশ্যের এক যুদ্ধ ক্ষেত্রে যুদ্ধ করছিলেন। তিনি যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার উপক্রম করছিলেন। এমতা অবস্থায় তিনি ওমর (রাঃ) এই বাক্য শুনতে পান এবং পাহাড়ের আশ্রয়ে যুদ্ধ করে জয় লাভ করেন। এই ঘটনায় আমরা ওমর (রাঃ) এর একটি কারামত দেখতে পাই। তিনি হাজার মাইল দূরের যুদ্ধ ক্ষেত্রের অবস্থা 'অবলোকন' করেছেন, মুখে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সে নির্দেশনা সারিয়া শুনতে পেয়েছেন। এই কারামতে অর্থ হলো, মহান আল্লাহ তাঁর এ মহান ওলীকে এ দিনের এ মুহুর্তে এ বিশেষ 'সম্মাননা' প্রদান করেন, তিনি দূরের দৃশ্যটি জানতে পারেন, নির্দেশ দেন এবং তাঁর নির্দেশনা আল্লাহ সারিয়ার নিকট পৌঁছে দেন। এর অর্থ এই নয় যে, ওমর (রাঃ) এর হাজার মাইল দূরের কিছু 'অবলোকন' করার অলৌকিক ক্ষমতা ছিল, অথবা তিনি ইচ্ছা করলেই দূরের কিছু দেখতে পেতেন বা নিজের কথা দূরে প্রেরণ করতে পারতেন।


এ ঘটনার শেষে ২৩ হিজরীর জিলহজ্জ মাসের ২৭ তারিখে ওমর (রাঃ) যখন ফজরের সালাত শুরু করেন, তখন তাঁর পিছনে চাদর গায়ে মুসল্লী রূপে দাঁড়ানো আল্লাহর দুশমন আবু লুলু লুকানো ছুরি দিয়ে তাঁকে বার বার আঘাত করে। তিনি অচেতন হয়ে পড়ে যান। এর কয়েকদিন পরে তিনি শাহাদত বরণ করেন। আল্লাহ প্রথম ঘটনায় হাজার মাইল দূরের অবস্থা ওমরকে দেখিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় ঘটনায় পাশে দাঁড়ানো শত্রুর বিষয়ে তাঁকে জানান নি। কারণ কারামত কখনোই ক্ষমতা নয়, আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া সন্ধাননা মাত্র। কারামত বুঝার জন্য এ বিষয় চিন্তা করতে হবে। মওলানা দরবেশ আহমদ সম্পর্কে যে সমস্ত অলৌকিক কথা লোক মুখে শোনা যায়? একজন মুমিন মুত্তাকীর জীবনে তা সংঘটিত হওয়া কোনো অসম্ভব বিষয় নয়।


শুধু মওলানা দরবেশ আহমদ (রহ:) এর ব্যাপারে নয়, ইতিহাস খ্যাত আল্লাহর অনেক ওলীর জীবনে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে। অবশ্য এমন ও কিছু হয়েছে, ওলী বুজর্গদের ভক্তরা পরবর্তী সময়ে কিছু ঘটনা খানিকটা রঙ ছড়িয়ে বাড়িয়ে আবার কিছু ঘটনা নিজেরা বানিয়ে বর্ণনা করেছেন মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য।


বর্তমানে কোনো কোনো ভণ্ড পীরের ভণ্ড ফরমাইশি শিষ্যরা তাদের পীরের অলৌকিক কাহিনী গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বেড়ায়। (তথ্যসূত্র: ইমাম আবু হানিফা রচিত আল-ফিকলুল আকবর, ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর অনুদিত)।

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।