জামাতের বরকত সমূহ
দুর্বল ইচ্ছা শক্তি, কমজোড় আমল এর অধিকারী অজ্ঞ, নির্বোধ ব্যক্তিদের সমন্নয়ে মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিকে উপকার সাধনকারি উক্ত জামাত সংঘটিত হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। উক্ত জামাত বিভিন্নমুখি দুর্বল ব্যক্তিদের দ্বারা গঠিত হওয়ার কারনে এ আশংকা করা হয় যে তাবলীগের দ্বারা সন্দেহাতীত ভাবে যে লাভ বা ফায়দা হবার তাকে সন্দেহ যুক্ত করা হয়ে থাকে।
ভইয়েরা! এ প্রশ্নের জবাব হলো দুর্বলদের সমন্নয়ে গঠিত ও সম্মিলিত ইজতিমা ও ঐক্যের ভিত্তিতে এক বিশাল শক্তির রূপ নিয়ে আবির্ভূত হওয়া। যার দৃষ্টান্ত হাদীস শরীফে পাওয়া যায়। যদি কোন হাদীসের কিছু সংখ্যক দুর্বল ছনদ ঐক্যমত প্রকাশ করে তাহলে সেই হাদীসটিও মোহাদ্দীস গনের নিকট মজবুত বলে গণ্য হয়ে যায়। আপনারা হয়ত লক্ষ করেছেন যে কিছু সংখ্যক ভিক্ষুক একত্রিত হয়ে দু,দু,চার, চার পয়সা জমা করে নেয় তবে সকলেরই খাবারের ব্যবস্থ হয়ে যায়। আর যদি পৃথক পৃথক করে ভিক্ষা করে তবে কারো পেট ভরতে পারবে না। অনুরূপভাবে যদি কিছু সংখ্যক দুর্বল আমল আর দুর্বল আধ্যা-তিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিগন সৎনিয়তে একত্রিত হয় তবে পরস্পরের মধ্যে তার প্রভাব পরবে। সবার মাঝেই শক্তির সঞ্চার হবে। তাদের নেক নিয়তের ব্যপারে কি করে সন্দেহ পোষন করা যায়, এটাতো দিবা লোকের ন্যয় স্পষ্ট সত্য যে এরা দুনিয়াবী কোন ব্যবসা বানিজ্য, ক্ষেত খামার এর উন্নতি ইত্যাদি কোন জিনিষের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়না। তারপরও ভেবে দেখার মত বিষয়ও রয়েছে যে দশ পনর ১০/১৫ জনের একটি জামাতে কেউ না কেউ তো অবশ্যই আল্লাহর প্রিয় বান্দা থেকে থাকবেন। আল্লাহর নিকট ঐ প্রিয় ঝন্দার গ্রহন যোগ্যতার জন্য অন্য সাথীদের উপর নিশ্চয়ই তার প্রভাব পড়বে।
এ কারনেই মোমেনদেরকে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করার কথা বলা হয়েছে। সে যতই কমজোড় আর দুর্বলই হোক না কেন বা তার-সাথে আরো অনেক সাথীবৃন্দ বা পুরা জামাত এর নামাজীও যদি কমজোড় হয় তবু ঐ জনসমষ্টির মাঝে আল্লাহর এমন কোন মকবুল বান্দা অবশ্যই থাকেন যার উছিলায় পুরো জামাতের নামাজ কবুল হয়ে যায়। এতে বুঝা গেল যে, জামাতের মধ্যে চাই সে যতই দুর্বল প্রকৃতিরই হোক না কেন আল্লাহর কোন না কোন মকবুল বান্দার উছিলায় দুর্বল বান্দাগনও নিশ্চয়ই মকবুল হবে।
