TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন

مثل الجليس الصالح والسؤلحامل المسك ونافع الكبير فعامل المسك اما ان يحديك و اما ان تبتاع منه و اما ان تجدمنه ریحا طيبا ونافخ الكبر اما ان تحرف ثبابك و اما ان تجد منه ريحا خيشة -

ভালো আর মন্দ সাথীর উদাহরন হলো মেশক ওয়ালা ও কর্মকারের হাপরে ফুৎকারের ন্যায়। সুতরাং যদি মেশক ওয়ালা তোমার নিকট দিয়েও যায় তবু উপকার হবে আর তুমি যদি তার কাছ থেকে মেশক খরিদ কর তবুও লাভবান হবে। সর্বাবস্থায় মেশকের শুভাষে মুগ্ধ মত্ত মতোয়ারা হয়ে যাবে। আর কর্মকারের হাপরে ফুৎকারকারীর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের দরূন হয়তো জ্বলেপুরে কাপড় নষ্ট হবে নয়তো উহার দুর্গন্ধে মন মিজাজকে দুঃসহনীয় ও অস্বস্তি কর পরিবেশের সৃষ্টি করবে।

বন্ধুগন প্রত্যেক বস্তুর একটা প্রভাব আছে, আপনার বসবাস যদি নদীর তীরবর্তি এলাকায় হয় তবে আপনার মেজাজ এর মধ্যেও কিছুটা রুক্ষতা জন্ম নেবে। গোলাপ ফুলকে কিছুক্ষন কাপড়ে রেখে বের করুন, দেখবেন কাপড় থেকে ও গোলাপের সুগন্ধি আসছে। মহিলাগন বর্ষা মৌশুমে কাপড়ের মধ্যে নেপথলির বড়ি রেখে দেয়, পরবর্তী মৌশুমে যখন তা বের করে তখন কাপড় থেকে নেপথলের বিশ্রি গন্ধ আসে, অথচ কাপড়ের মধ্যে সৃষ্টিগত ভাবে না সুগন্ধ আছে না দুর্গন্ধ আছে। আসলে এতে সান্নিধ্যের প্রভাব পরেছে। যদি গোলাপকে তার সংস্পর্শে রাখা যায় তবে কাপড়ের মধ্যে গোলাপের সুগন্ধি এসে যায়। আর নেপথলের সংস্পর্শে রাখা হলে কাপড়ের মধ্যে তার প্রভাব পরে, এবং কাপড় থেকে দুর্গন্ধ আসতে থাকে। অনুরূপ আহলুল্লাদের সান্নিধ্যেরও একটি প্রভাব আছে। আর এই প্রভাবে প্রভাবাহ্নিত না হয়ে থাকতেই পারেনা। এক জন আলেমে রাব্বানী আর হক্কানী দরবেশের বৈশিষ্ঠহলো তার সান্নিধ্যে খোদাকে স্বরন করিয়ে দেয়।

তার ছোহবত যেন আল্লাহর স্বরনের ভূমিকা স্বরূপ। জনৈক কবি বলেন:

خاصان خداخدانه باند ولیکن از خدا جدانه باشند

আহলুল্লাহদের নৈকট্য লাভের মাধ্যমে খোদায়ী গুনাবলী অর্জিত হয়। নেক লোকের সান্নিধ্যের প্রভাব খায়ের ও বরকতময় রূপে উদ্ভাসিত হয়। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সান্নিধ্যের বদান্নতা

ছাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) দের উচ্চ মর্যাদা যা তাদের ছাড়া অন্য কারো ভাগ্যে জুটেনি। যতবড় কুতুব হোক বা গাউসই হোক না কেন কেউই ছাহা বিয়্যাতের মর্যাদায় পৌছতে পারবেনা কেননা ঐ সমস্ত মহান ব্যক্তি বর্গ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহচর্যে ধন্য হয়েছেন। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহচর্যে থাকার ও তার মজলিশে বসার সৌভাগ্য যিনি লাভ করেছেন তার গুণাবলী কি বলবো।

সূর্যের নীচে দন্ডায়মান ব্যাক্তির উপর সূর্যের তাপ ও তার প্রখরতা যেই পরিমান লাগবে কোন আরামদায়ক প্রকোষ্ঠে অবস্থান কারির গায়ে সেই পরিমাণ তাপ লাগবে না। আর যদি কেউ মাটির নিচে নির্মিত কোন কামড়ায় থাকে তবে রৌদ্র ও তাপের প্রভাব তার উপর আরো কম পড়বে। সূর্যের যত নিকটবর্তী হবে উষ্ণতা আর তার আলোক রশ্নি সে হারে বৃদ্ধি পাবে।

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন নবুয়তের সূর্য। তার থেকে যারা কোন মাধ্যম ব্যতিরেকে উপকৃত হয়েছেন তাদের মর্যাদা আর গুনাবলী হলো প্রথম শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। আর যারা কোন মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন তারা দ্বিতীয় পর্যায় ভূক্ত। আর এদের থেকে যারা উপকৃত হয়েছেন তারা মর্যাদার দিক থেকে তৃতীয় শ্রেণী ভুক্ত। এমনি ভাবে শ্রেণী আর মর্যাদা কমতে থাকবে। এক হাদীসে হুজুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন:

خير القرون قرنى ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم

সর্বোত্তম কাল হলো আমার সময় কাল। 

সলফে ছালেহীনের যুগে উস্তাদ আর শাগরিদের কোন পরিভাষা ছিলনা। বরং যিনি শাগরিদ হতেন তাকে ছাহেব বলে সম্বোধন করা হতো।

যেমন বলা হতো তারা হলেন আসহাবে আবু হানিফা (রহঃ) তারা আসহাবে মালেক (রহঃ) আর এভাবে বলার অর্থ হলো যে এ সকল ব্যক্তিবর্গ তাদের উস্তাদের কাছ থেকে শুধু কিতাবের শব্দ আর অর্থই শিখেননি বরং এর সাথে সাথে তারা তাদের উস্তাদের গুনাবলী নিজেদের মাঝে ধারন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ঠিক তেমনি ভাবে ছাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) গনও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রংগে রঙ্গীন হয়েছিলেন।

মোট কথা সান্নিধ্যে বা ছোহবত হাছিল করাই হলো মৌলীক ব্যপার।

যার মাধ্যমে একজনের আত্মিক অবস্থা, আবেগ আর অনুভূতি অন্যের মাঝে স্থানান্তরিত করা। মুহাম্মদ হুছাইন আযাদ অত্যন্ত সাদা সিধা ভাবে এক কবিতা রচনা করেন:

ملنے والوں سے راہ پیداکر اس کے ملنے کی اور صورت کیا

অর্থাৎ তুমি যদি তোমার প্রিয়ার সান্নিধ্যে যেতে চাও তবে তার কাছে গমন কারিদের সাথে সম্পর্ক করে নাও।

সে কোন দিন তার কাছে গমনাগমন করে তোমার কথা আলোচনা করবে। আর তোমার তার কাছে যাওয়া হয়ে যাবে। অনুরূপ ভাবে আল্লাহ তায়ালা পর্যন্ত পৌছতে চাইলে প্রথমে আল্লাহ ওয়ালাদের সাথে মিশতে হবে। তার রং আর প্রকৃতি নিজের মধ্যে ধারন করতে হবে, অন্তর সমূহকে পরিবর্তনের প্রচেষ্ট করা হবে, চরিত্র সংশোধন করে আত্মশুদ্ধি করার পর আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে কুবুল করে নিবেন।

কোন আলেম ব্যক্তি সে যদি কোন কামেল বুজুর্গ ব্যক্তির ছোহবত ও মা'ইয়াত বা নেক সান্নিধ্য আর সাহচার্য লাভে বঞ্চিত থেকে বুজুর্গ ব্যক্তির রঙ্গে আপন জীবনকে রঙ্গিন করতে ব্যর্থ হয় তাহলে ঐ আলেম শুধু শাব্দিক দিক দিয়ে আলেম হবে কিন্তু

সত্যিকার অর্থে তেমন কোন মুহাক্কিক আলেম হতে পারবে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন:

اتقوالله وكونوامع الصادقين

অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় কর, আর সত্যবাদীদের ছোহবত অর্জন কর।

সত্য বাদীদের ছোহবত অবলম্বনের দ্বারা তাদের প্রভাব তোমাদের মনমস্তিস্কে ফুটে উঠবে। যারা অধীক সময় শায়েখের সাহচর্য লাভে ধন্য হয়েছেন তাদের বর্ননাই অধিক গ্রহন যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।