TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

৫ম দিনের তা'লীম কুরআন তিলাওয়াতের ফযিলত

 المجلس الخامس


প্রিয় ভ্রাতৃবৃন্দ!

কুরআন তিলাওয়াতের অনেক ফযিলত রয়েছে।

এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন:

إِنَّ الَّذِينَ يَتْلُوْنَ كِتَابَ اللهِ وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَأَنفَقُوْا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَايَّةً يُرْجُوْنَ تِجَارَةً لَنْ تَبُورَ، لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُمْ مِنْ فَضْلِهِ إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورٌ. (الفاطر: ۲۹-۳۰)

অর্থঃ যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, সালাত কায়েম করে, আমার দেয়া রিযিক থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারাই আশা করতে পারে এমন ব্যবসার, যা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, কারণ আল্লাহ তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিদান দিবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরো অধিক দান করবেন। তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

(ফাতির- ২৯-৩০)

কুরআন তিলাওয়াত দু'প্রকার। যথা-

প্রথম প্রকার: তিলাওয়াতে হুকমী। অর্থাৎ: আল্লাহর আদেশাবলী মান্য করা ও নিষেধাবলী পরিহারের মাধ্যমে কুরআন অনুযায়ী জীবন-যাপন করা।

দ্বিতীয় প্রকার: তিলাওয়াতে লফযী। অর্থাৎ কুরআন তিলাওয়াত করা।

কুরআন তিলাওয়াতের ফযিলত সম্পর্কে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:

عَنْ عُثْمَانَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ (البخاري)

অর্থঃ উসমান (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি যিনি কুরআন মাজিদ শিক্ষা করেন এবং অন্যকে শিক্ষা দেন। (বুখারী) 

হাদীসে আরো বর্ণিত হয়েছে:

عن عائشة رضي الله عنها فقالت قال النبي صلى الله عليه وسلم: الْمَاهِرُ بِالْقُرْآنِ

بِالسَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ وَالَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيَتَعْتَعُ فِيهِ وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌ، لَهُ أَجْرَانِ: أَحَدُهُمَا عَلَى التَّلَاوَةِ وَالثَّانِي عَلَى مَشَقْتِهَا عَلَى الْقَارِي (متفق عليه)

অর্থঃ আয়শা সিদ্দীকা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূল (সা:) বলেছেন: আল-কুরআনে দক্ষ ও পণ্ডিত ব্যক্তিবর্গ সম্মানিত পূণ্যবান ফেরেশতাদের সাথে থাকবেন। যে ব্যক্তি কুরআন আটকে আটকে তিলাওয়াত করে এবং তা তার জন্য কষ্টকর হয়, তার জন্য দু'টি প্রতিদান রয়েছে। প্রথমটি হলো: তিলাওয়াতের প্রতিদান, দ্বিতীয়টি হলো: কষ্টের প্রতিদান। (বুখারী, মুসলিম)

অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:

عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:

مِثْلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ الْأَتْرُجَةِ رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا طَيِّبٌ وَمَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي لا يَقْرَأُ القُرْآنَ كَمَثَلِ التَّمْرَةِ لَا رِيحَ لَهَا وَطَعْمُهَا حُلُو. (مسلم)

অর্থঃ আবু মুসা আশআরী (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, যে মুমিন

কুরআন তিলাওয়াত করে, তার দৃষ্টান্ত কমলালেবুর মত, যা সুস্বাদু ও সুঘ্রানযুক্ত। আর যে মুমিন কুরআন তিলাওয়াত করে না, তার দৃষ্টান্ত খেজুরের ন্যায় যার ঘ্রান নেই কিন্তু মিষ্টি। (মুসলিম)

অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ: اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ. (مسلم)

অর্থঃ আবু উমামা আল-বাহেলী (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন: তোমরা কুরআন তিলাওয়াত কর। কেননা কুরআন কিয়ামতের দিন তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে। (মুসলিম)

উকবা বিন আমের (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন: তোমাদের মধ্য হতে যে ব্যক্তি সকালে মসজিদে দু'টি আয়াত পাঠ করে বা শিখে, তাকে দু'টি উট সদকার সাওয়াব দেয়া হবে। এভাবে যত বেশি আয়াত তিলাওয়াত করবে, ততবেশি উট সাদকার সাওয়াব প্রদান করা হবে।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِّنْ بُيُوتِ اللَّهِ يَتْلُوْنَ كِتَابَ اللهِ وَيَتَدَارَسُوْلَهُ بَيْنَهُمْ إِلَّا نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَحَقَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيْمَنْ عِنْدَهُ. (مسلم)

অর্থঃ আবু হুরাইরা (রা:) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন: যখন আল্লাহর কোন ঘরে (মসজিদে) লোকজন একত্রিত হয়ে কুরআন তিলাওয়াত করে এবং নিজেদের মাঝে তার আলোচনা করে, তখন তাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়, আল্লার রহমত তাদেরকে আবৃত্ত করে রাখে, ফেরেশতাগণ তাদের বেষ্টন করে রাখে এবং আল্লাহ তাআলা তার নিকটস্থ ফেরেশতাদের নিকট তাদের আলোচনা করেন। (মুসলিম)

হাদীসে আরো বর্ণিত হয়েছে:

قال النبي صلى الله عليه وسلم: تَعَاهَدُوا هَذَا الْقُرْآنَ فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ يَدِهِ لَهُوَ أَشَدُّ تَفَلُنَا مِنَ الْإِبِلِ فِي عُقُلِهَا. (متفق عليه)

অর্থঃ রাসূল (সা.) বলেন: তোমরা কুরআনের যথাযথ যত্ন নাও, হিফাজত ও সংরক্ষণ কর। আমি ঐ সত্তার কসম করে বলছি যার হাতে আমার জীবন, অবশ্যই উট তার রশি থেকে দ্রুত যেমন পালিয়ে যায় তার চেয়েও আরো তীব্র বেগে এ কুরআন চলে যাবে। (অর্থাৎ কুরআনের প্রতি অযত্নবান হলে কুরআন স্মৃতি থেকে দ্রুত চলে যাবে।) (বুখারীও মুসলিম)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা:) বলেছেন:

مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِّنْ كِتَابِ اللهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لَا أَقُولُ الم حرف وَلَكِنْ أَلِف حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ (الترمذي)

অর্থঃ যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ (অক্ষর) পাঠ করবে, তাকে একটি নেকী প্রদান করা হবে। আর প্রতিটি নেকী দশগুণ বৃদ্ধি করা হবে। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ (অক্ষর) বরং "আলিফ" একটি হরফ "লাম" একটি হরফ ও "মীম" একটি হরফ। (তিরমিযী)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে আরো বর্ণিত হয়েছে,

إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ مَاذَبَةُ اللَّهِ فَاقْبَلُوا مَأْدُبَتَهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ (حاکم)

অর্থঃ নিশ্চয়ই এ কুরআন আল্লাহর দস্তরখান। তোমরা যথাসম্ভব তার দস্তরখান

গ্রহণ কর। (হাকেম)

হাদীসে আরো বর্ণিত হয়েছে:

قال النبي صلى الله عليه وسلم: إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ حَبْلُ اللَّهِ الْمَتِينُ وَالنُّوْرُ الْمُيْنُ وَالشَّفَاءُ النَّافِعُ، عِصْمَةٌ لِمَنْ تَمَسَّكَ بِهِ وَنَجَاةٌ لِمَنِ اتَّبَعَهُ، لَا يَزِيعُ فَيَسْتَعْبُ، وَلَا يَعُوْجُ فَيَقُومُ وَلَا القضي عَجَانِبُهُ، وَلَا يَخْلَقُ مِنْ كَثْرَةِ التَّرْدَادِ اللُّوهُ فَإِنَّ اللهَ يَأْجُرُكُمْ عَلَى تِلاوَةِ كُلِّ حَرْفٍ عَشْرَ حَسَنَاتٍ، أَمَا أَلَي لَا أَقولُ الم حرف ولكن ألف حرفٌ، وَلَامٌ حَرْفٌ، وَمِيمٌ حَرْفٌ. (الحاكم)

অর্থঃ রাসূল (সা:) বলেন: এ মহাগ্রন্থ আল-কুরআন আল্লাহ তাআলার শক্তিশালী রশি, সুস্পষ্ট নূর ও নিরাময়কারী, যে তা আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য কুরআন রক্ষাকবজ। যে এর অনুসরণ করে, তা তার জন্য নাজাত ও মুক্তির মাধ্যম। সে সত্য থেকে বিচ্যুত হবে না। তাকে ভর্ৎসনাও করা হবে না। সে বক্র পথে গেলে তাকে সোজা পথে ফিরিয়ে আনা হবে। কুরআনের বিস্ময়ের শেষ নেই। অধিক পুণরাবৃত্তির কারণে তা পুরাতন হয় না। তথা কুরআনের আয়াতের পুনরাবৃত্তি হলেও তাতে নতুনত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। কারণ তার আবেদন চিরন্তন। কুরআন তিলাওয়াত কর, কারণ আল্লাহ তোমাদেরকে তিলাওয়াতকৃত প্রতিটি হরফের বিনিময়ে দশটি করে নেকী দিবেন। রাসূল (সা.) বলেন, জেনে রাখ, আমি বলি না (আলিফ-লাম-মীম) একটি হরফ, বরং "আলিফ" একটি হরফ "লাম" একটি হরফ ও "মীম" একটি হরফ। (হাকেম)

সম্মানিত পাঠকবর্গ। এই হলো কুরআন তিলাওয়াতের ফযিলত। অল্প আমলে অধিক সাওয়াব তার জন্যই যে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সাওয়াব কামনা করে। সুতরাং যে কুরআনের ব্যাপারে সীমালংঘন করে এবং কুরআনের যথাযথ তদারকী না করে এবং তা দ্বারা উপকৃত না হতে পারে, সেই ক্ষতিগ্রস্ত।

উপরোক্ত ফযিলতগুলি পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াতের ব্যাপারে বর্ণিত হল। তবে কুরআনের বিভিন্ন সূরার ব্যাপারে স্বতন্ত্র ফযিলতের উল্লেখ রয়েছে। সেগুলির মধ্যে সূরা ফাতিহা অন্যতম।

অন্য হাদীসে রয়েছেঃ

عَنْ أَبِي سَعِيدِ بْنِ الْمُعَلى أَن النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ لَأُعَلَّمَتَكَ سُوْرَةً هِيَ أَعْظَمُ سُوْرَةٍ فِي الْقُرْآنِ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ هِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي

أوتيته. (البخاري)

অর্থঃ আবু সাঈদ ইবনে মুয়াল্লা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) তাকে বলেছেন: অবশ্যই আমি তোমাকে কুরআনের একটি সুমহান সূরা শিখাব। সেটা হলো: সূরা ফাতিহা। যার প্রথমাংশ আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আ'লামীন"। এটা সাবউল-মাসানী বা সাতটি প্রশংসা যুক্ত আয়াত এবং এক মহান কুরআন যা আমাকে দান করা হয়েছে। (বুখারী)

সূরা ফাতিহার এ ফযিলত থাকার কারণে সালাতের মধ্যে এ সূরা পাঠ করা ওয়াজিব হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। এ সূরা ব্যতীত সালাত শুদ্ধ হলেও সাহু সিজদা দেয়া লাগবে।

রাসূল (সা.) বলেছেন। لا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأُ بِفَاتِحَةِ الْكِتَاب. (بخاري، مسلم)

অর্থঃ সূরা ফাতিহা যে ব্যক্তি পাঠ করল না, তার সালাতই পরিপূর্ণ হবে না।

(বুখারী ও মুসলিম)

আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন: مَنْ صَلَّى صَلَاةً لَمْ يَقْرَأُ فِيهَا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَهُوَ خِدَاجٌ يَقُولُهَا ثَلَاثًا (مسلم)

অর্থঃ যে ব্যক্তি সালাত আদায় করল, কিন্তু সূরা ফাতিহা পাঠ করল না, তার সালাত অসম্পূর্ণ। তিনি কথাটি তিনবার বলেছেন। (মুসলিম)

فَقِيلَ لِأَبِي هُرَيْرَةَ إِنَّا تَكُوْنُ وَرَاءَ الْإِمَامِ فَقَالَ إِقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ (مسلم)

অর্থঃ তখন আবু হুরাইরাকে জিজ্ঞাসা করা হল, আমরা ইমামের পিছনে থাকলে কি করব? তিনি প্রতিউত্তরে বললেন। মনে মনে পাঠ করবে। (মুসলিম)

ফযিলতের দিক থেকে সুনির্দিষ্ট সূরার মধ্যে সূরা "বাকারা" ও সূরা "আল-ইমরান" অন্যতম।

রাসূল (সা.) বলেছেন:

اقْرَءُوا الزُّهْرَاوَيْنِ الْبَقَرَةَ وَسُوْرَةَ آلِ عِمْرَانَ فَإِنَّهُمَا تَأْتِيَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا

غَمَامَتَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا غَيَابَتَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا فِرْقَانِ مِنْ طَيْرِ صَوَافَ لَحَاجَانِ عَنْ أَصْحَابِهِمَا اقْرَءُوا

سُورَةَ الْبَقَرَةِ فَإِنْ أَخَذَهَا بَرَكَةٌ وَتَرْكَهَا حَسَرَةٌ وَلَا تَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ (مسلم)

অর্থঃ তোমরা দু'টো পুষ্প (যাহরবীন) কে পাঠ করো, তা হলো সূরা বাকারা ও আল-ইমরান। কারণ এ দু'টো সূরা কিয়ামতের দিন মেঘমালার মত দু'দল পাখির ঝাকের ন্যায় সারিবদ্ধ ভাবে উড়বে। এরা উভয়ে পাঠকদের ব্যাপারে বাক-বিতণ্ডা করবে। একদল বলবে, ওরা আমাদের; অন্য দল বলবে, ওরা আমাদের। তাই তোমরা সূরা বাকারা পাঠ করো। কারণ এটা গ্রহণ করা বরকততুল্য, আর পরিত্যাগ করাটা আফসোসের বিষয়। কোন বীরবিক্রমও তা করায়ত্ত করতে পারে না। (মুসলিম)

আবু হুরাইরা (রা:) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন:

إِنَّ الْبَيْتَ الَّذِي تَقْرَأُ فِيْهِ سُوْرَةُ الْبَقَرَةِ لَا يَدْخُلُهُ الشَّيْطَانُ (مسلم)

অর্থঃ যে ঘরে সূরা বাকারা তিলাওয়াত করা হয়, সে ঘরে শয়তান প্রবেশ করে না। (মুসলিম)

শয়তান এজন্য ঘরে প্রবেশ করে না যে, তাতে আয়াতুল কুরসী রয়েছে।

রাসূল (সা.) থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত আছে:

إِنَّ مَنْ قَرَأَهَا فِي لَيْلَةٍ لَمْ يَزَلْ عَلَيْهِ مِنَ اللَّهِ حَافِظٌ وَلَا يَقْرُبُهُ شَيْطَانٌ حَتَّى يُصْبِحَ.

অর্থঃ যে ব্যক্তি "আয়াতুল কুরসী" রাতে তিলাওয়াত করবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য একজন দেহরক্ষী সর্বক্ষন থাকবে এবং শয়তান সকাল পর্যন্ত তার নিকটেও আসতে পারবে না।

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত:

إِنَّ جِبْرَائِيلَ قَالَ وَهُوَ عِندَ النبي صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذَا بَابٌ قَدْ فُتِحَ مِنَ السَّمَاءِ مَا فُتِحَ قَطُّ، قَالَ: فَنَزَلَ مِنْهُ مَلَك فَأتَى النَّبِيَّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبْشِرُ سُوْرَيْنِ أَوْ بَيْنَهُمَا لَمْ يُؤْلَهُمَا لَبِيٌّ قَبْلَكَ فَائِحَةُ الْكِتَابِ وَعَوَاثِيمُ سُورَةِ الْبَقَرَةِ لَنْ تَقْرَأُ بِحَرْفٍ مِّنْهُمَا إِلَّا أعطيته (مسلم)

অর্থঃ জিব্রাঈল (আ.) রাসূল (সা.) এর নিকট থাকা অবস্থায় বলেন, দেখুন, এটা আকাশের একটা দরজা যা এইমাত্র খোলা হল। ইতোপূর্বে কখনো তা খোলা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর ঐ দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা রাসূলের (সা.) নিকট এসে বললেন: আপনি দু'টি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন, যা আপনার পূর্বে কোন নবী (আ.) কে দেয়া হয়নি। সেটা হলো, ১. সূরা ফাতিহা, ২. সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো। আপনি এ দুটো তিলাওয়াত করে যে কোন হরফ দ্বারা যা চাইবেন, তা আপনাকে দেয়া হবে। (মুসলিম)

সূরা ইখলাসের বিশেষ ফযিলত রয়েছে।

আবু সাঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ أَنَّهَا تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ (بخاري)

অর্থঃ সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন, নিশ্চয়ই সূরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশ। (বুখারী)

অবশ্য ফযিলতের ক্ষেত্রে এটা কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান। এ কথার অর্থ এই নয় যে, এ সূরা পুরা কুরআনের ব্যাপারে যথেষ্ট। তাই যদি কেউ সালাতে সূরা ফাতিহা ছেড়ে দিয়ে সূরা ইখলাস তিনবার পড়ে, তাহলে সালাত শুদ্ধ হবে না।

কোন কিছু ফযিলতের দিক দিয়ে অন্য কোন বিষয়ের সমপর্যায়ে হলে, এটা জরুরী নয় যে, এর ফলে অন্যটা না হলেও চলবে।

হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:

عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ عَشرَ مَرَّاتٍ، كَانَ كَمَنْ أَعْتَقَ أَرْبَعَةَ

نفْسٍ مِنْ وُلْدِ إِسْمَاعِيلَ (متفق عليه)

অর্থঃ আবু আইউব আনসারী (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা.)

বলেছেন: যে ব্যক্তি - لَائِلَهُ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لأَشَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ )আল্লাহ ছাড়া কোন ইল্লাহ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, সকল রাজত্ব তার, তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা।) এ দোয়া ১০ বার পড়ে সে যেন ইসমাঈল (আ.) এর সন্ত ানদের মধ্যে হতে চারজনকে মুক্ত করে দিল। (বুখারী ও মুসলিম)

দোয়ার এ ফযিলত জানার পর যদি কেউ কাফফারার ৪ জন কৃতদাস মুক্ত করার পরিবর্তে এ যিকির করে। তাহলে কৃতদাস মুক্ত করার পরিবর্তে তা যথেষ্ট হবে না।

ফযিলত সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট সূরার মধ্যে সূরা মুআউওয়াজ্জাতাইন তথা সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস উল্লেখযোগ্য।

উকুবা বিন আমের (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন:

أَلَمْ تَرَ آيَاتٍ أُنْزِلَتِ اللَّيْلَةَ لَمْ يُرَ مِثْلُهُنَّ قَطُّ، قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ وَقُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الناس. (مسلم)

অর্থঃ তুমি কি দেখনি? আজ রাতে অবতীর্ণ হওয়া সেই আয়াতসমূহ! যেরূপ আয়াত আর লক্ষ্য করা যায়নি। তা হল সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস। (মুসলিম)

নাসাঈ শরীফে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (সা.) উত্তুবা (রা:) কে নির্দেশ দিলেন সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করার জন্য। তারপর তিনি বললেন, কোন প্রার্থনাকারী এ দু'টো সূরায় বর্ণিত প্রার্থনার মত করে প্রার্থনা করতে পারে না। আর কোন আশ্রয় প্রার্থনাকারী এ সূরায় বর্ণিত বিষয়ের মত আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারে না।

সুতরাং বন্ধুগণ! বেশী বেশী কুরআন তিলাওয়াত করুন। জিব্রাঈল (আ.) রাসূল (সা.) এর নিকট প্রত্যেক বৎসর রমযান মাসে একবার পুরা কুরআন তিলাওয়াত করতেন। রাসূল (সা.) এর ইন্তেকালের বৎসর দু'বার পুরা কুরআন তিলাওয়াত করেছেন। রাসূল (সা.) এর হৃদয়ে স্থায়ী ও স্থির এবং বিষয়টি জোড়ালোভাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এমনটি করেছেন।

উলামায়ে সালফে সালেহীন রমযান ও রমযান ছাড়া অন্য মাসে কুরআন বেশী বেশী তিলাওয়াত করতেন। যেমন- ইমাম যুহরী (রহ.) রমযান মাস আগমন করলে বলতেন: এটা কুরআন তিলাওয়াতের মাস এবং খাবার খাওয়ানোর মাস। রমযান মাসে ইমাম মালেক (রহ.) হাদীস পাঠ ও ইসলামী আসর পরিত্যাগ করতেন এবং পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতে আত্মনিয়োগ করতেন।

কাতাদা (রহ.) সপ্তাহে একবার কুরআন খতম করতেন। রমযানে প্রতি ৩ দিনে একবার কুরআন খতম করতেন এবং রমযানের শেষ দশকে প্রতিদিন এক খতম কুরআন তিলাওয়াত করতেন।

ইব্রাহীম নাখঈ (রহ.) রমযানের প্রতি রাতে কুরআন খতম করতেন এবং শেষ দশ রাত্রির প্রতি দুই রাতে কুরআন খতম করতেন।

ভ্রাতৃবৃন্দ। আপনাদের প্রতি আল্লাহ রহম করুন, আপনারা এ নেককারদের অনুসরণ করুন। অত্যন্ত মহাপরাক্রমাশালী ক্ষমাশীল রব আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য দিবা-রাত্রি সময়ের সদ্ব্যবহার করুন। কারণ আয়ু খুব দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। হে আল্লাহ! আমাদেরকে এমন তিলাওয়াতের তাওফিক দান করুন যাতে আপনার সন্তুষ্টি অর্জনে সক্ষম হই। কুরআনকে আমাদের জন্য সুপথ, সহজ-সরল নির্ভেজাল পথ প্রদর্শকরূপে কবুল করুন। কুরআনের রশ্মি ও আলোর মাধ্যমে আমাদেরকে বক্রতা, পথভ্রষ্ঠতা ও অন্ধকারের অতল গহ্বর থেকে উজ্জল জ্যোতির্ময় আলোর সন্ধান দিন।

এ কুরআনের মাধ্যমে আমাদের সম্মান বৃদ্ধি করুন। আমাদেরকে গোপনীয় ত্রুটি ও ছিদ্রান্বেষণ থেকে অব্যাহতি দিন এবং আমাদের যাবতীয় গোপনীয়তা বজায় রাখুন। হে পরম করুনাময় ও দয়ালু প্রভু! আমাদের পিতা-মাতা ও শান্তি প্রিয় মুসলমানকে ক্ষমা করুন।

দরূদ সালাম ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সা.) এর প্রতি ও তাঁর পরিবার পরিজনসহ সকল সাহাবী ও অনুসরণকারীদের প্রতি।

سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا أَنتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ.

المجلس السادس

No comments

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।