TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

একটি লক্ষনীয় বিষয়

    লক্ষ করলে বুঝা যায় ভাল এবং মন্দ উভয়ই এ জগতে সৃষ্টিগত ভাবে মূল ও আসল। যারই ফলশ্রুতিতে বস্তুর মধ্যে এগুলো এমনিতেই এসে যায়। তবে হ্যাঁ ভালর দিকটা পরিশ্রম করে অর্জন করতে হয়। অভিজ্ঞতার আলোকে প্রতিয়মান হয় যে কঠোর সাধনার দ্বারা মানুষ কল্যানকর অবস্থা সাধনে সচেষ্ট হয়। আর বিনা পরিশ্রমে অকল্যান দিক গুলো এমনিতেই এসে যায়। উদাহারন স্বরূপ বলা যায় খাদ্যের দৃষ্টিনন্দীত রং, সুঘ্রান আর সুস্বাদ বিদ্যমান রাখতে নিয়ামতখানা (খাদ্য সামগ্রী রাখার বাক্স) বা Fridge তৈরী করতে হয়। মুক্ত হাওয়াতে রাখলেই তার গুনাবলী বিদ্যমান থাকবে। কিন্তু যদি এতটুকু পরিশ্রম না করা হয় তবে খাদ্য এমনিতেই পচে গলে নিশ্বেস হয়ে খাবার অনুপযুগী হয়ে যাবে। অনুপযোগী খাদ্যের দুর্গন্ধ সৃষ্টির জন্য কোন পরিশ্রম করতে হবে না।

অনুরূপ কোন বাগানের দৃষ্টান্ত হল যেমন-তার বৈশিষ্ঠ হল সবুজ শ্যমল বৃক্ষরাজি, থোকা থোকা ফুটন্তফুল, ঘ্রানে ঘ্রানে সুশোভীত, চক্ষুশীতল, মনমাতানো, মনোরম দৃশ্য অনুভূত হওয়া। কিন্তু এই সৌন্দর্য তখনই উৎভাসীত হবে যখন আপনি এর জন্য মালি রাখবেন। যারা সদা সর্বদা এর পরিচর্যায় নিয়োজীত থাকবে। কিন্তু আপনি যদি বাগানকে কোন জঙ্গলে পরিনত করতে চান তবে এর জন্য না কোন মালী না কোন পরিচর্যাকারি প্রয়োজন হবে। ব্যস এর পরিচর্যা ছেড়ে দেওয়াই যথেষ্ঠ, কিছু দিনের মধ্যেই বাগানের সমস্ত সৌন্দর্য, আকর্ষন, মনজুড়ানো নয়নাভিরাম দৃশ্য নিষ্প্রভ হয়ে আনাকাংক্ষীত জঙ্গলে পরিণত হবে।

অনুরূপ কোন বাড়ীর উদাহারণ যার বৈশিষ্ট আর সৌন্দর্য হলো সেটা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, সুন্দর রং আর মনোরম ডিজাইন হওয়ার জন্য অভিজ্ঞ স্থপতি এবং আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে। আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ঝাড়ুদার নিয়োগ করতে হবে। তবেই না এর সৌন্দর্য ফুটে উঠবে। কিন্তু যদি আপনি বাড়ীটা বিরান আর বিধ্বস্ত আবাস ভূমিতে পরিনত করতে চান তবে এর জন্য কোন পরিশ্রম করতে হবে না। বরং উহার সৌন্দর্যের জন্য যে পরিশ্রম করেছেন তা ছেড়ে দিন। দেখবেন কিছু দিনের মধ্যেই উহাতে ধুলাবালি আর ময়লা আবর্জনা জমে যাবে, আস্তর খশে পড়বে, তারপর ছাদ বিধ্বস্ত হবে, দেয়াল ধ্বংসে যাবে, আর এই ভাবেই বাড়ীটি একটা ধ্বংস প্রাপ্ত অট্টালীকায় পরিনত হবে।

এর দ্বারা বুঝা যায় পৃথিবীর প্রত্যেক বস্তুর ভাল আর মন্দ হওয়াটা সৃষ্টিগত ভাবেই পাওয়া যায় মানুষ যখন পরিশ্রম করে তখন ভালোর দিকটাই উদ্ভাসিত হয়, অন্যথায় মন্দের দিকটা এমনিতেই ভেসে উঠে। এটাই এই জগতের চিরন্তন নিয়ম। আর আল্লাহ তায়ালার বিধান এমনি একটি প্রচলিত বিধান। আর যেহেতু মানুষও এই জগতেরই একটা বিরাট অংশ তাই তাদের পক্ষে এই নিয়মের ব্যাতিক্রম ঘটানো সম্ভব নয়। অতএব বিনা দিধায় বলা যায় যে সৃষ্টিগত ভাবেই মানুষের মধ্যে মন্দের দিকটা বিদ্যমান রয়েছে। আর ভালোর দিকটা চেষ্টা সাধনার দ্বারা অর্জন করতে হয়। আপনার গর্ভজাতকের ভূমিষ্টের পর তার লালন পালন করেন, শিক্ষাদীক্ষার ব্যবস্থা করেন, তবেইনা সে প্রকৃত মানুষ হয়। আর যদি আপনি এই ত্যাগ স্বীকার না করেন তবে তার মধ্যে যে সকল হীন মনোবৃত্তি আছে তা প্রকাশ হওয়ার জন্যে কোন ত্যাগ আর পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না। উন্নত স্বভাব, সৎগুনে গুনান্নিত হওয়া, হক্কানী আলেমে দ্বীন বানানোর জন্যে শত শত মাদ্রাসা ও দ্বিনী প্রতিষ্ঠান আছে। কিন্তু মুর্খ আর জাহেল বানানোর জন্য আপনি কোন প্রতিষ্ঠান বা মাদ্রাসা দেখেছেন কি? মানুষ তো মূর্খ হয়েই জন্মলাভ করে। পবিত্র কোরআনে পাকে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন:

والله اخرجكم من بطون أمهاتكم لا تعلمون شيئيا - وجعل لكم السمع والابصار والافدة لعلكم تشكرون -

অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে তোমাদের মায়েরপেট থেকে এমন অবস্থায় বের করেছেন যে, তোমাদের সামান্যতম জ্ঞান বুদ্ধিও ছিল না। অতঃপর তোমাদেরকে শ্রবণ শক্তি দান করেছেন যাতে শুনে শুনে ইলম অর্জন করতে পার। দৃষ্টি শক্তি দান করেছেন যাতে দেখে এলেম হাছিল করতে পার, চিন্তাশক্তি দান করেছেন যাতে এর দ্বারা জ্ঞান বৃদ্ধি করতে পার। এতদ্বারা বুঝা যায় আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মানুষের মধ্যে এলেম ও জ্ঞান অর্জনের যোগ্যতা রেখে দিয়েছেন। কেউ মায়ের পেট থেকে জ্ঞান বুদ্ধি নিয়ে জন্মনেয় না। এতো গেল মানুষের এলেম ও জ্ঞানের অবস্থা। আর যেখানে আমলের সম্পর্ক সে বিষয়ে হযরত ইউসুফ (আঃ) এর উক্তি যা পবিত্র কোরআনে পাকে বনর্না করা হয়েছে:

و ما ابری نفسى ان النفس لامارة بسؤ

অর্থাৎ আমি নিজেকে নির্দোষ বলিনা কেননা মানুষের মন তো মন্দ কাজেরই আদেশ করে। এতে বুঝা যায় মানুষের মধ্যে তার স্বভাবগত ভাবে মন্দ প্রবণতা নিহিত আছে। এ জন্যে সে মানুষকে মন্দ কাজের দিকেই নিয়ে যাবে। আপনি যদি তার ব্যবহার সুন্দর করতে কোশেষ করেন তবে সে সঠিক হয়ে যাবে। এবং ভাল দিকে চলে আসবে অন্যথায় মন্দ প্রবণতা সৃষ্টির জন্য কোন মাদ্রাসা বা শিক্ষা প্রতিষ্টান এ যাওয়ার প্রয়োজন নেই। জনৈক কবি কথাটি এভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন:

قرنها باید که تایک سنگ خار از افتاب لعل کرد د در بدخشانیا عقیق اندریمن

অর্থাৎ পাথরের একটি মূল্যহীন টুকরা যখন যুগ যুগ ধরে রৌদ্রে পরে থাকে, সূর্য্যের তাপ আর গরম সহ্য করে তখন সে মূল্যবান একটি পাথরে পরিণত হয়।

ماه ها باید که تایک فنبه دانه بعد کشت جامه کردد شاهدی را یا شهیدی را کفن

একটি কাপাশদানা প্রিয়জনের দেহে শোভা বর্ধকের জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। মানুষ জমিতে শ্রম ব্যয় করে হাল চাষ করে তারপর তা থেকে কুড়ি বের হয়ে গাছ হয় তাতে আবার তুলা হয়, তুলা উঠিয়ে মিলে পাঠাতে হয়। সেখানে তা ধুনে পরিষ্কার করে সুতা তৈরী করা হয়। সুতা দিয়ে কাপড় বানিয়ে তারপর দর্জি তা কেটে শিলাই করে। এই সকল পর্যায় অতিক্রম করে তবেই না প্রিয়জনের জামা-হয়-অন্যথায় কাপাশদানার বা বিচির কোন মূল্যই ছিলনা। খুব বেশি হলে কোন মহিষ, গরু বা অন্য কোন জানোয়ারের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হতো।

এরপর কবি বলেন:

سالها باید که تا یک کودکی از درس علم عالمی کرد د تکویا شا عر شیرین سخن

অর্থাৎ যখন একটি অবুঝ শিশু তার ওস্তাদের মারপিট আর কঠোর শাসন সহ্য করে কোন মক্তব বা মাদ্রাসায় লেখা পড়া করে তারপর সে একদিন জ্ঞানী কিংবা কবি হয়। বুঝা গেল আলেম আর সৎচরিত্রবান বানানোর জন্য দীর্ঘ অনেক বৎসর সময়ের প্রয়োজন হয়, মাদ্রাসা প্রতিষ্টা করতে হয়, শিক্ষক ও কর্মচারী রাখতে হয়। তবেই তো একজন-ব্যক্তি সত্যিকার মানুষ রূপে পরিগনিত হবে। অসৎ প্রকৃতির আর মূর্খ বানানোর জন্যে না কোথাও কোন মাদ্রাসা আর না কোন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়। মোট কথা হলো কোন বস্তুকে মূল্যবান বানাতে হলে সময় ও শ্রমের প্রয়োজন। কিন্তু মূল্যহীন বানাতে কোনই পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না।

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।