TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

ভূমিকা

   পৃথিবীর সমস্ত মানুষই শান্তির অন্নেষায় দিক বিদিক ছুটাছুটি করছে। কিন্তু তাহারা দুনিয়ার কোথাও শান্তি খুজে পাচ্ছেনা এবং পাবেওনা।

ইসলামই কেবল মাত্র মানুষকে শান্তি পৌছাতে পারে। ইসলাম মহান রাব্বুল আলামীনের মনোনীত ধর্ম। সমগ্র মানবজাতীর জন্য একমাত্র কামিয়াবী ও মুক্তির পথ। আর ইসলাম বলতে আমরা নিদৃষ্ট সময়ে নির্ধারীত নিয়ম পদ্ধতিতে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালনের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করে থাকি। যেমন:- নামাজ, রোজা, যাকাৎ, হজ্ব ইত্যাদির মধ্যে যথেষ্ট মনে করে থাকি। কিন্তু আসলে ইসলাম হলো একজন মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মুহুর্ত আল্লাহ প্রদত্ত বিধান ও হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তরীকানুযায়ী আমল করা যেমন:- ঈমানীয়াত, ইবাদত, লেনদেন, ও কায়কারবার সামাজিক ও ঘরোয়া আচার ব্যবহার এবং আখলাক বা চরিত্র এমনকি পানাহার, আয়-রোজগার, বিয়ে-শাদী, দেখা-নাদেখা, চলা-ফেরা, উঠা-বসা, কথা-বার্তা, খাওয়া দাওয়া সকল বিষয়ে তথা সামগ্রীক জীবনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাহার

সাহাবা (রাঃ) দের আদর্শে আদর্শবান হয়ে চলার নাম হলো ইসলাম। আর আল্লাহপাক মানবজাতীকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদত করার জন্য যেমন ইরশাদ হয়েছে:

وما خلقت الجن والانس الاليعبدون

আর আমি জ্বীন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি এ জন্যে যেন তারা শুধু আমারই বন্দেগী করে। এ আয়াতে সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করা হয়েছে। মানুষ ও জ্বীন জাতীর উদ্দেশ্য হলো স্রষ্টা ও পালন কর্তা আল্লাহ পাকের বন্দেগী করা। আর এ বন্দেগীর মাধ্যমেই মানবতার উৎকর্ষ সাধন সম্ভব হয়। হাদীস শরীফে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরমাইয়াছেন:

كل مولود يولد على فطرة الخ

প্রত্যেক সন্তান প্রকৃতির উপর জন্ম গ্রহণ করে অতঃপর তার পিতা-মাতা তাকে প্রকৃতির উপর হতে নিয়া ইহুদী নাসারা অথবা অগ্নি পুজারীতে পরিনত করে। প্রকৃতির উপর জন্মগ্রহন করা অর্থ অধিকাংশ আলেমের মতে ইসলাম ধর্মের উপর জন্মগ্রহন করা। অতএব এই হাদীসে বলা হয়েছে যে, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে প্রকৃতগত ভাবে ইসলাম ও ঈমানের যোগ্যতা এবং প্রতিভা নিহিত রয়েছে। এরপর তাহার পিতা-মাতা এই প্রতিভাকে বিনষ্ট করে কুফরের পথে পরিচালিত করে।

এই হাদীসের অনুরূপ আলোচ্য আয়াতের এইরূপঅর্থ হতেপারে যে, "প্রত্যেক জ্বীন ও মানবের মধ্যে আল্লাহ তায়ালা এবাদত করবার যোগ্যতা এবং প্রতিভা দিয়ে রেখেছেন"। আর এই প্রতিভা বিকাশের জন্য আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক কওমের উপর এক বা একাধিক পয়গাম্বর (আঃ) পাঠিয়েছেন। আর সকল পয়গাম্বর (আঃ) এর কাজ ছিল মানুষকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে তথা মন্দকাজ হতে ভাল কাজের দিকে আহবান করা। দাওয়াত প্রচার বা সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা প্রভৃতি দায়ীত্ব আঞ্জাম দেওয়ার জন্যই এই উম্মতকে পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে:

كنتم خير امة اخرجت للناس تأمرون بالمعروف وتنهون

عن المنكر وتؤمنون بالله

(হে মুসলমানগণ) তোমরা সর্বশ্রেষ্ট জাতী মানুষের মঙ্গলের জন্যই তোমাদের প্রকাশ করা হয়েছে। (তোমাদের শ্রেষ্টত্বের কারণ হল) তোমরা নেক কাজের আদেশ কর এবং মন্দ কাজের বাধাপ্রদান করে থাক ও আল্লাহর উপর ঈমান রাখ। পবিত্র কোরআনের ঘোষণা চিরন্তন। অতএব এই উম্মত সর্বকালের জন্য উত্তম উম্মত বলে ঘোষিত হলো। তবে এর জন্যে তিনটি শর্ত পালন করতে হবে:

১। সৎ কাজের নির্দেশ প্রদান করা।

২। মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা।

৩। আল্লাহ পাকের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করা।

উক্ত আয়াতে মুসলমানদের আকিদা বিশ্বাস এবং ধ্যান ধারনার উপর আলোকপাত করা হয়েছে। এবং মুসলিম জাতীর কমময় জীবনের একটা পরিপূর্ণ দিক নিদের্শনা দেয়া হয়েছে।

আল্লাহপাক মুসলিম জাতীকে সম্বোধন করে এরশাদ করেছেনঃ হে মুসলিম জাতী তোমরা তোমাদের উপর অর্পিত দায়ীত্ব সম্পর্কে সচেতন হও। তোমরাই তৌহিদের আমানতদাব, তোমরাই পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান কায়েম করা, পৃথিবীতে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মহান আদর্শের বাস্তবায়ন করা, অন্যায় অনাচার তথা যাবতীয় পাপাচারের পথ রূদ্ধ করা এবং সৎ কাজের নির্দেশ প্রদান করা, ন্যয়নীতি প্রতিষ্ঠা করা, অর্থাৎ পরিপূর্ণ ভাবে আল্লাহর দ্বীন কায়েম করা তোমাদের একান্ত করণীয় কাজ। আর এই মহান কাজের জন্যই পৃথিবীর সমস্ত জাতীর মধ্যে তোমাদিগকে উত্তম জাতী বলে ঘোষনা করা হয়েছে। এমতাবস্তায় যদি মুসলিম উম্মাহ স্বীয় কর্তব্য কার্য হতে গাফেল হয়ে যায় তা হলে তো তাহারা তাদের জীবনের উদ্দেশ্য হতে বিচ্যুত হয়ে পড়বে। দাওয়াতের কাজ না করলে নিজের ঈমান ঠিক হবে না। আর ঠিক করা ঈমান ও বিনষ্ট হয়ে যাবে। চৌকিদার যে রাতভর হাকে বস্তিবাসী জাগ ইহাতে কেউ জাগুক আর না জাগুক চৌকিদারের জাগা হয়ে যায়।

দাওয়াত ও তাবলীগের মেহেনত না করিলে, ঈমান আমল ঢিলাঢালা রাখিলে হালাত বিগড়াইতে থাকিবে। আর তাবলীগ দ্বারা দ্বীনের ফেজা কায়েম না করে স্রষ্টার অসন্তুষ্টি অর্জনের দরুণ উপকারী বস্তুগুলি ও অপকার পৌছাতে আরম্ভ করবে। যেমন: বাতাস-ঘূর্ণি ঝড়ের, পানি-বন্যার, অগ্নি-ঘরখাপের, মাটি-ভূমিকম্পের রূপ নিয়া নাফরমানির শাস্তি স্বরূপ মানুষের উপর আপতিত হবে। অন্যায়-অপরাধ সমাজের সর্বস্তরে প্রবেশ করবে। একতা আর জোরমিল বিনষ্ঠ হবে। ভাই ভাইয়ে, বাপ-ছেলে, স্বামী-স্ত্রীতে, মালিক-শ্রমিকে এবং ধনী-গরীবে কোন সুসম্পর্ক থকেবে না। চুরি ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানী, ধোকাবাজি, জুলুম অত্যাচার আর খুন-খারাবীতে দেশ সয়লাব হয়ে যাবে।

রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থতার পরিচয় দিবে। সংশোধনের সকল পন্থা বেকার মনে হবে। জান, মাল ও ইজ্জতের কোন নিরাপত্তা থাকবেনা।

যদি মুসলমানগণ ঈমান ও আমলের মেহেনত ছেড়েদেয় তবে দ্বীনের কোন লোকসান হবে না। বরং আল্লাহ তায়ালা বিজাতীদেরকে হেদায়াত দান করে, তাদের দ্বারা দ্বীনের কাজ করাইয়া নিবেন। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে:

یا ایها الذین امنوا من يريد منكم عن دينه فسوف يأتي الله

بقوم يحبهم ويحبونه

হে মোমেনগণ! তোমাদের মধ্যে কেহ দ্বীন ছেড়ে দিলে আল্লাহ এমন এক জাতীকে পাঠাবেন যাহাদেরকে আল্লাহ ভালবাসবেন এবং তাহারাও তাহাকে ভালবাসবেন।

অতএব নিজেদের ঈমান ও আমলের সূদৃঢ় করতে হলে অবশ্যই দাওয়াত ও তাবলীগের মেহেনত করতে হবে। কারণ আল্লাহ তায়ালা সমস্ত উম্মতে মুহাম্মাদীর উপর নামাজ, রোজা, যাকাৎ, হজ্ব ইত্যাদি যেমন ফরজ করেছেন তেমনি ভাবে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহেনতের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করাকেও ফরজ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে:

یا ایها الذین امنوا قوانفسکم و اهلیکم نرا - وقوداها الناس

والحجاره -

হে মোমেনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার বর্গকে দোজখের আগুন থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর

আলোচ্য আয়াতে কারীমা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যারা মনে করে নিজে ভাল হলেই সব ভাল তা সত্য নয়, বরং নিজে ভাল হওয়ার পাশাপাশি নিজের সন্তান-সন্ততি তথা স্ত্রী-পুত্র পরিবার সকলকে ভালভাবে গড়ে তোলা একান্ত কর্তব্য। অন্যথায় শুধু নিজে ব্যক্তিগত আমল করে আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব আদায় হবে না।

যেমন হযরতে সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) দাওয়াত ও তাবলীগের মেহেনত করে অর্পিত দায়িত্বকে সঠিক ভাবে আঞ্জাম দিয়েছিলেন।

দাওয়াতের মেহেনত করতে পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে সফর করেছিলেন। সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) এর পরবর্তি যুগে মুসলমানদের মধ্যে বিভিন্ন ফিৎনা সৃষ্টি হলো। এবং তাদের মধ্যে ঈমান ও আমলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়, তখন দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের মাধ্যমে অগনিত মুসলমানদের ঈমান ও আমলের মধ্যে দৃঢ়তা আনয়নের লক্ষে কালেমা, নামাজ, রোজা, যাকাত, হজ্ব, অজু, গোছল থেকে শুরু করে আমল আকিদার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় শিক্ষা এবং তার বাস্তব প্রশিক্ষন দিয়ে জীবনের গতি পরিবর্তনে সক্ষম হয়েছে।

বইটিতে উম্মতে মুহাম্মাদীর পৃথিবীতে প্রেরনের লক্ষ ও উদ্দেশ্য, তাদের শ্রেষ্টত্বের বৈশিষ্ট্য, মানব জাতীর দায়িত্ব ও কর্তব্য, দাওয়াত ও তাবলীগের প্রয়োজনীয়তা, প্রচারের পদ্ধতি ও তার সফলতা ইত্যাদি। বিষয়ের উপর কোরআন ও হাদীসের আলোকে অত্যন্ত বিন্যাস্ত ও সারগর্ভআলোচনা করা হয়েছে। বইটি পাঠে সম্মানীত পাঠকবৃন্দ তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্মন্ধে সচেতন হয়ে আপন জান, মাল ও সময়ের ছহি ব্যবহার শিক্ষা করে দুনিয়া ও আখেরাতের কামিয়াবী হাছিল করতে সচেষ্ট হবেন বলে আশা রাখি।

ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওবন্দ নামক স্থানে খ্যাতনামা আলেমেদ্বীন বিশিষ্ঠ ইসলামী চিন্তাবীদ দারুল উলুম দেওবন্দ এর মুহতামীম হাকীমুল ইসলাম মাওলানা ক্বারী তৈয়্যিব ছাহেব (রহঃ) উর্দু ভাষায় তা'লীম ও তাবলীগ, তাবলীগী জামাত আওর ইছলাহ, জামাতে তাবলীগ, এই তিনটি শিরোনামে একই বিষয় বস্তুর উপর একটি কিতাব সংকলন করেছেন।

কিতাব খানা আমার খুবই পছন্দ হয়েছে এবং বাংলা ভাষাভাষী ভাইদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন অনুভব করে তার অনুবাদ করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

মূল বিষয় বস্তু সহজ ও সরল ভাষাতে পাঠক বৃন্দের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। বইটি যেহেতু মাওলানা (রহঃ) এর বয়ান সেহেতু লিখার মধ্যে বিভিন্ন স্থানে একই কথার পূনরাবৃত্তি হয়েছে বলে মনে হতে পারে।

কিতাবটির ভিন্ন ভিন্ন তিনটি অধ্যায় হলেও মূল বিষয় বস্তু যেহেতু একও অভিন্ন তাই বাংলাতে তাবলীগ ও তা'লীম নামে অত্যন্ত সহজ ও সরল অনুবাদ বাংলাভাষী মুসলমান ভাই বোনদের খিদমতে পেশ করার প্রয়াস পেয়েছি।

আমি ইহার যোগ্য ছিলাম না। শুধু মহান রাব্বুল আলামীনের বিশেষ ফজল আর করম, তারই ইহছান আর দয়ার বরকতে এই কাজের তৌফীক লাভে ধন্য হয়েছি। আমার ব্যক্তিগত অযোগ্যতা ও অদক্ষতার কারনে ভুল ত্রুটি থেকে যাওয়াটা স্বাভাবিক। আশা করি সর্ববিদ বিবেচনা করে সম্মানীত পাঠক বৃন্দ ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

এই অনুবাদ ও প্রকাশনার কাজে যাহারা আমাকে বিভিন্ন ভাবে অনুপ্রেরনা ও সহযোগীতা করেছেন তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আল্লাহ তায়ালা তাদের সকলকে তাদের শান মোতাবেক জাযা দান করুন। পরিশেষে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে এই ফরীয়াদ করি 'হে আল্লাহ আমাদের এই ক্ষুদ্র মেহেনতকে কবুল করে নাও এবং পরকালে মুক্তির ফয়সালা করে দাও।

আমীন !!

মোহাম্মদ আমজাদুল হক খান।

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।