TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

ভূঞাপুর মিডল মাদরাসা স্থাপন

 ভূঞাপুর মিডল মাদরাসা স্থাপন


মওলানা দরবেশ আহমদ অতি অল্প সময়ে কিছু সংখ্যক ভক্ত অনুরাগী তৈরি করেছিলেন। তিনি তাদের নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মকতব, মাদরাসা, স্কুল স্থাপনের জন্য আলোচনা বৈঠক ও সভা করতেন। তাঁর বক্তৃতায় এলাকায় সাড়া জাগিয়েছি, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ জেগে উঠেছিল অনেকের মনে।


১৯০৭ সালের শুরুতে শাবাজনগর নিবাসী মৌলবী ইউনুস আহমদ সাহেবের বাড়িতে মৌলবী আবদুল আজিজ ও স্থানীয় কয়েকজন মাতাব্বর নিয়ে মওলানা দরবেশ আহমদ এ অঞ্চলে একটা স্কুল খোলার প্রস্তাব করেন। তাঁর এই প্রস্তাব চূড়ান্ত করার উদ্দেশ্যে বীরহাটী জুমা মসজিদ প্রাঙ্গণে মওলানা দরবেশ আহমদকে সভাপতি করে একটি বিরাট ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভার সিদ্ধান্তক্রমে ঐ মসজিদ প্রাঙ্গণেই অনতিবিলম্বে একটি মিডল মাদরাসা স্থাপিত হয়। মধ্য ইংরেজি স্কুল ও নিউস্কিম জুনিয়ার মাদরাসার উভয়ের মিলিত বিদ্যালয়কে তৎকালে বলা হতো মিডল মাদরাসা। এই মাদরাসার পরিচালক ছিলেন মওলানা দারবেশ আহমদ।


এই মাদরাসা সম্পর্কে প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ তাঁর 'একটি রূপায়মান স্বপন' পুস্তিকায় লিখেছেন- 'এই মাদ্রাসার প্রথম হেড মাস্টার ছিলেন জোয়াইর নিবাসী আবদুল গনি মিঞা, প্রথম হেড মৌলভী মওলানা দরবেশ আহমদ, প্রথম পন্ডিত ইউনুস আহমদ, প্রথম সেক্রেটারী ভূঞাপুর নিবাসী জহীরুদ্দীন সরকার। ইউনুস সাহেব ছিলেন উৎসাহের অবতার, জহীরুদ্দীন সরকার সাহেব ছিলেন দিলদরিয়া সমাজ দরদী, মওলানা দরবেশ আহমদ উভয়ই ছিলেন।


দরবেশ আহমদের বাড়ি ছিল গাবসারা। তিনি সবে হিন্দুস্থানের রামপুর মাদ্রাসা হতে পড়ে দেশে ফিরেছেন। সেকালে হিন্দুস্থানে পড়ে যারা পাগড়ী নিয়ে বাড়ী আসতেন, তাদের কেউ কেউ পাগড়ী ছাড়া সাথে বিদ্যাও নিয়ে আসতেন। মওলানা দরবেশ আহমদ সাহেব এই শেষোক্ত দলের অন্তর্গত ছিলেন। তিনি হাদীস কোরান পড়ার পর হেকিমী শিখে আসেন। এই স্বাধীন রোজগারের পথ থাকায় তিনি অন্যের মোহতাজ ছিলেন না, মাথা উঁচু রেখে ওয়াজ নছিহত করে যেতেন। তার চেয়ে বড় কথা, তাঁর হৃদয় ছিল পরম উদার ও পরহিত প্রবন। আপদে বিপদে কেউ তাঁকে ডাকলে তিনি 'না' বলতে পারতেন না।


ইতিমধ্যে ভূঞাপুরের ঘাসময় মাঠের এক অঙ্গনে পুটীয়ার জমিদারের কাচারী স্থাপিত হয়। বীরহাটীতে অবস্থিত মিডল মাদ্রাসা এই কাচারীর সন্নিহিত চলে আসে। মাদ্রাসার ঘর দুয়ার তোলার জন্য সেক্রেটারী জহীরুদ্দীন সাহেব দুই বিঘা জমি দান করেন।


এই মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে এতদঞ্চলে মুসলমানদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব প্রাণশক্তি তরঙ্গায়িত হয়ে ওঠে। মওলানা দরবেশ আপন ভাতিজা জিগাতলা নিবাসী মওলানা মমতাজুদ্দীন সাহের মাদ্রাসায় যোগদেন। কেরায়াত গজল উভয়ে তিনি অত্যন্ত সুকণ্ঠ ছিলেন। বাছা বাছা অনেক ইলিম সহ তিনি যে ছাত্র সভা, ওয়াজ মজলিস বা মিলাদ মাহফিলে বসতেন তা ওয়াজ গজল আর কেরায়াতে গুলজার হয়ে উঠত। মৌলবী জমির উদ্দীন তালুকদার লোকের পাড়া) মৌলবী তমিজউদ্দীন (কুতুবপুর), পন্ডিত আফসার উদ্দীন (ভারই)- এর বিশিষ্ট শিক্ষক ছিলেন।


চারদিক থেকে দলে দলে মাদ্রাসায় ছাত্র আসত, ছুটির পর দলে দলে তারা ফিরে যেত। যাতায়াত কালে তাদের মধ্যে কেউ কেউ গলাছেড়ে দিত। গেয়ে উঠত:


আজিতো ইয়ারো মুহিব্বো পিয়ারো চলো মদীনা চলো মদীনা। ইহাছে ওঠে কোমরে বান্ধ্যো চলো মদীনা চলো মদীনা।


ঐ যে চলো মদীনা চলো মদীনার সুর যেদিন তরুণদের অবুঝ কন্ঠে অমন আকুল আগ্রহে জেগে ওঠে ছিল, সে কি ওদের মজলুম সমাজকে মুক্তির নব মদীনায় যাত্রার জন্য ছিল প্রচ্ছন্ন আহ্বান?


মাদ্রাসাটি নতুন স্থানে আসার পর বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ এর মজুরী দান করেন। ১৯২১ সালে সেক্রেটারী জহীরুদ্দীন সরকার এন্তেকাল করেন। তাঁর স্থলে সেক্রেটারী নিযুক্ত হন মৌলভী রোস্তম আলী তরফদার।

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।