TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

চলে এলেন কলকাতায়

 চলে এলেন কলকাতায়


দরবেশ আহমদ চলে এলেন কলকাতায়। কলকাতা কর্মমুখর শহর। বহুজাতির লোক বহু ব্যবসায় সবাই ব্যস্ত। সবাই চলছে নিজ নিজ লক্ষ্য পথে। ব্যবসা, শিক্ষা, রাজনীতি, সাহিত্য সংস্কৃতি সবই আছে এবং সবাই চলছে পাল্লা দিয়ে স্রোত ধারার মতো।


মওলানা দরবেশ আহমদ কিছু দিন ভাসমান অবস্থায় থেকে কয়েকজন বিখ্যাত লোক খুঁজতে লাগলেন। যেমন মওলানা মনিরুজ্জামান এছলামাবাদী, মৌলবী নাঈমউদ্দীন, মওলানা আকরাম খী প্রমুখ। তাঁর আশা ছিল তাঁরা এই শহরে থেকেই কাজ করছেন।


খুঁজতে খুঁজতে একদিন এক পত্রিকার অফিসে তিনি এছলামাবাদী সাহেবকে পেয়ে যান। দরবেশ আহমদ নিজের পরিচয় দিয়ে তাঁর সমস্যার কথা জানান। মানিরুজ্জামান এছলামাবাদী ছিলেন প্রখ্যাত আলিম রাজনীতিবিদ, সংগঠক এবং মুসলিম সমাজের মুরুব্বী। তাঁর সহযোগিতায় মওলানা ৩৩৭ নং আপার চিৎপুর রোড়ে, কলিকাতা একটি বাসা ভাড়া নিয়ে দাওয়াখানা খুলে বসেন।


এখানে থেকেই স্বাক্ষাত পান আল-কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক মৌলবী নঈম উদ্দীনের। অথচ বাংলা ভাষা ভাষীদের মাঝে ব্যাপক ভাবে প্রচলিত যে ভাই গিরীশচন্দ্র সেন কুরাআন মাজীদের প্রথম বাংলা অনুবাদ কারী। মৌলবী নঈম উদ্দীন ছিলেন প্রকৃত ইসলামী চিন্তাবিদ, সুসাহিত্যিক, ইসলাম প্রচারক, সমাজ সংস্কারক এবং সুবক্তা। অবিভক্ত বাংলা জ্ঞানরসহীন বিশাল মরুভূমিতে কি পরিমান প্রাণাবেগ ও আকাংক্ষায় বক্তৃতা দিয়ে ঝড়ের মতো দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন তা ভাবতে আজ অবাক লাগে। করটিয়া থেকে ঢাকা, ঢাকা থেকে বার্মা, সিলেট, সিলেট থেকে রংপুর তারপর কলকাতা, কলকাতা থেকে আসাম, বিহার আর দার্জিলিং ছিল তাঁর হাতের তলায়।


মওলানা দরবেশ আহমদ এই দাওয়া খানায় বসেই পরিচয় লাভ করেন মুনশী মেহেরুল্লার। তিনি ছিলেন সুবক্তা, তার্কিক, ইসলাম প্রচারক, সমাজ সংস্কারক এবং বহু গ্রন্থ প্রণেতা।


সেই সময়ে ইংরেজদের ছত্রছায়ায় থেকে খ্রিস্টান মিশনারীরা নানা রকম ধোকা দিয়ে অজ্ঞ মূর্খ মুসলমানদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করে মুসলমানদের সর্বনাশ করতে ছিল। খ্রিস্টান মিশনারীরা হাট বাজার গ্রাম গঞ্জে ঘুরে ঘুরে প্রচার কাজ চালিয়ে ছিল।

মেহেরুল্লাহ তর্ক করে মিশনারীদের বুঝিয়ে দেন ইসলামই সত্য এবং একমাত্র ধর্ম, তাদের প্রচারিত ধর্ম মিথ্যা। এর ফলে মিশনারীরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে ইসলাম গ্রহণ করে। তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে মুসলমানদের ইসলাম বুঝাতে থাকেন এবং মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত শিরক বেদাত ও কুসংস্কার দূর করেন। তৎক্কালে বাংলার এই তিন দিগন্তের তিন মনীষী মৌলবী নঈমউদ্দীন, মওলানা দরবেশ আহমদ এবং মুনশী মেহেরুল্লাহ দাওয়া খানায় বসে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।


তাঁদের আস্তানা হয়ে ওঠে দরবেশ আহমদ এর দাওয়াখানা। নঈমউদ্দীন ছিলেন দরবেশ আহমদের থেকে ২৩ বছরের বড় আর মেহেরুল্লা ছিলেন ১৩ বছরের ছোট।


তাঁদের পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা এবং আন্তরিকতা এই বয়সের পার্থক্যে বাঁধা ছিল না। তারা তিনজন হয়ে ছিলেন এক চিন্তা এক ধ্যান এক কর্ম এবং একই আদর্শের অনুসারী পথিক।


মওলানা দরবেশ আহমদ, মৌলবী নঈম উদ্দীনের কর্মে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হন। কোনো কোনো লেখক নঈম উদ্দীনকে মওলানা দরবেশ আহমদের ভক্ত শিষ্য হিসাবে উল্লেখ করে ইতিহাস বিকৃত করেছেন। দরবেশ আহমদ নঈম উদ্দীন সাহেবকে 'বড় ভাই' বলে সম্বোধন করতেন। পরবর্তী এক সময়ে নঈম উদ্দীনের আহ্বানে বগুড়া থেকে টাঙ্গাইল চলে যান দরবেশ আহমদ।


এর পর দরবেশ আহমদ নিজেকে শুধু দাওয়া খানার মধ্যে সীমিত না রেখে কাজের পরিধি আরো বাড়াতে চাইলেন। তাঁর বগুড়ার এক বন্ধু একদিন তাঁকে কলকাতার দাওয়াখানায় হাজির হয়ে বললেন, বন্ধু তোমার মতো এতো বড় পন্ডিতের এতো ছোট জায়গায় বসে বসে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। আরো কিছু করা উচিত। চলো আমার সঙ্গে। বগুড়া শহরে আমার কিছু জায়গা আছে। একটা হাসপাতাল করা যাবে। স্কুল স্থাপন করা যাবে। এখানের চেয়ে আমার ওখানে তোমার ভালো হবে। দুজনে একত্রে কাজ করতে পারবো।

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।