ফিক্হার মধ্যে সাম্প্রদায়ীক পার্থক্য বিদ্যমান কিন্তু সকলেরই মূলনীতি একও অভিন্ন
একথা সুস্পষ্ট যে পৃথিবীতে নুতন আর কোন নবীর আগমন ঘটবে না, কোন আসমানী কিতাবও অবতীর্ণ হবে না, নুতন কোন শরীয়াত এর অস্তি ত্ব লাভ হবে না। আমাদের সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সর্বশেষ আসমানী কিতাব পবিত্র কোরআন শরীফ দান করা হয়েছে। উহাতে ইসলামী শরীয়াতকে সর্বশেষ শরীয়াত বলে ঘোষনা দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে দ্বীনের পরিপূর্ণতা নিহিত আছে বিধায় নুতন ভাবে কোন জিনিষের আবির্ভাব হবেনা।
কিন্তু মানুষের প্রাকৃতিও স্বভাব এর মধ্যে রয়েছে এক নিজস্ব জাতীগত মত ও পার্থক্য। নিঃসন্দেহে বলা যায় যে দ্বীনও শরীয়াত আসলে একও অভিন্ন শুধু পার্থক্য হলো স্বভাব ও জাতীগত পার্থক্য। যেমন উদাহারন স্বরূপ বলা যায় যে ইউরুপীয়ানদের স্বভাব এক রকম, এশিয়ানদের স্বভাব অন্য রকম, আবার আফ্রিকানদের স্বভাব ভিন্ন রকম আর আমাদের সবার জন্য একই শরীয়াত প্রযোজ্য।
আর এজন্যই শারীয়াতের এমন পথ আইয়্যেম্মাই কিরামের প্রয়োজন ছিল যাহারা স্বস্ব জাতির স্বভাব প্রকৃতি অনুযায়ী তাদেরকে দ্বীনি শরীয়াতের তা'লীম দিবেন সেই মহা মনিষীগণ ও আবার বিভিন্ন মতা-বিলম্বি যেমন: ইমাম আবু হানিফা (রহঃ), ইমাম শাফয়ী (রহঃ), ইমাম মালেক (রাঃ), ইমাম আহম্মদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) এই চর্তুদ্বয় আইয়েম্মায়ে কিরাম যাহারা চাঁদ-সুরুজের নায় জগতময় আলোকিত করেছেন।
অনেক হাদীসের ইমাম যাহারা আইন বিচারক ও ছিলেন যেমন ইমাম বোখারী (রহঃ), ইমাম হাম্মাদ, ইবনে ছালমা (রহঃ), ইমাম ছুফইয়ান সাওরী (রহঃ), ইমাম ছুফইয়ান ইবনে আইনিয়া (রহঃ) প্রমূখ ইমামগন যাহারা বিজ্ঞ ফক্বীহ্ ছিলেন। কিন্তু তাহাদের ফিকাহ উপরোল্লেখিত চতুর্থদ্বয় আইম্মায়ে কিরামের ফিকাহর কাছে নিঃপ্রভ হয়েছে। কিন্তু চার ইমামের ফিকাহই বিশ্ব ব্যপী প্রশিদ্ধি লাভ করেছে। সমগ্র পৃথিবীর মানুষের নিকট তাহারা কুফাহা হিসাবে সীকৃতি লাভ করেছেন। সমগ্র তুর্কিস্থান আফগানিস্থান, এবং হিন্দুস্থানের এক বিরাট অংশ হানাফী মাযহাব অনুসারী।
পশ্চিমা দেশ এর অধিকাংশ অধিবাসী মালিকী মাযাহাব ভূক্ত। নজদ এর অধিবাসীগন হানাবেলা এবং হিজাজও মিশরের অধিকাংশ শাফয়ী মাযহাব অনুশারী। মোট কথা তামাম পৃথিবীর মানুষ এই চার ইমামের ফিকহি মতামতের দ্বারা পরিবেষ্টিত। আর এই চর্তুদ্বয় ইমামের সম্মিলিত মাযহাবকেই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বলা হয়। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বিশ্বব্যপি ছড়িয়ে আছে ও সারা বিশ্ব জুড়ে তাদের মাজহাবই সুপ্রসিদ্ধি লাভে সক্ষম হয়েছে।
এই পৃথিবীতে কোন নবীর আগমন ঘটবে না। নুতন ভাবে আর কোন আসমানী কিতাব ও নাযিল হবে না সমগ্রমানব জাতীর পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসাবে পবিত্র কোরআনকে অবতীর্ন করা হয়েছে। যাহাতে সমস্ত ফিকহি মতভেদের সমাধান দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক গোত্রের নিজস্ব পছন্দ মাফিক ভিন্ন ভিন্ন ফিকাহ প্রযোজ্য।
যেমন: শাফয়ী মাযহাব এর অনুশারীগন তাদের ফিকাহ অনুযায়ী তাহারা আমল করে থাকেন। অনুরূপ, ভাবে হানাফী মাযহাবের অনুশারীদেরও সতন্ত্র একটি ফিকাহ রয়েছে। তাহারা তাদের ফিকাহ অনুযাযী আমল করে থাকেন।
শরীয়তের দুটি দিক রয়েছে-একটি হলো তার মৌলিক দিক অপরটি হলো তার শাখা গত দিক। প্রকৃত পক্ষে শরীয়ত তো হলো যা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উম্মতকে যা বাতলিয়ে দিয়েছেন। ইজতিহাদের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিভিন্নতা রয়েছে। আমাদের পথ প্রদর্শক ও অতীত যামানার মহামনিষীগন বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটে পবিত্র কোরআন ও হাদীস থেকে যুগ সমস্যার সমাধান দিয়েছেন। যা পরবর্তীতে একটি সতন্ত্র ফিকাহ শাস্ত্র হিসাবে রূপ নিয়েছে।
রচয়ীত ফিকাহর একটি বৈশিষ্ট হলো তাতে মানুষের প্রকৃতও স্বভাবের দিকে বিশেষ ভাবে লক্ষ রাখা হয়েছে। মানুষ যেই স্বভাবের অধিকারী হবে সে স্বীয় স্বভাব অনুযায়ী ফিকাহর অনুশারী হবে। কিন্তু সকল মাযহাবের ফিকাহবীদগনই সত্যের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থেকে আল্লাহ পাকের কুবুলিয়্যাত লাভে ধন্য হয়েছেন।
