TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

পরিবেশের প্রভাব

    আমার জীবনে তিনটি স্মরনীয় পরিবেশ দেখেছি। তম্মধ্যে একটি হল দারুল উলুম দেওবন্দের পরিবেশ-অপরটি গাংগুহী (রহঃ) এর খানকার পরিবেশ, আরেকটি হল থানা ভবনের পরিবেশ।

আমার বয়স যখন ৮/৯বৎসর বয়স তখন আমি হযরত গাংগুহী (রহঃ) এর খানকাহ থেকে কান্না জড়িত কন্ঠে জিকিরের আওয়াজ ভেসে আসতে শুনেছি। আর সেখানকার পরিবেশটাই এমন ছিল যে সকলেই আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকতেন।

গাংগুহী (রহঃ) এর দরবারের সামনে একটা পুকুর ছিল শহরের প্রায় ৬০/৭০জন ধোপা নিয়মিত সেখানে কাপড় ধৌত করত। অশিক্ষিত ধোপা হওয়া সত্বেও বড় বড় মাটির তৈরী গামলা থেকে কাপড়গুলো উঠিয়ে স্বজোড়ে আল্লাহর জিকিরের তালে তালে কাপড়গুলো আছড়াইতে ছিল। কাপড়গুলো আছড়ানোর সময় এমনভাবে ইল্লাল্লাহর জিকির করতেছিল যে গোটা পুকুরের মাঝে ঢেউয়ের তরঙ্গ শুরু হয়ে গেল। যদিও বেচারা একেবারেই মুর্খ ছিল। খানকাহ থেকে যেমন সর্বদা জিকিরের আওয়াজ আসতো ঠিক তেমনি ধোপাদের জামাত থেকেও জিকিরের আওয়াজ আসতো। আর এটা ছিল হযরত গাংগুহী (রহঃ) এর দরবারের পরিবেশের তাছির।

দারুল উলুম দেওবন্দে দেখেছি সেখানে বেনামাজী হয়ে থাকা খুবই মুশকিল ব্যপার। কারণ প্রতি ওয়াক্ত নামাজের সময় দেড় হাজার লোক নামাজে আদায়ের জন্য যখন ঘর থেকে বের হয়ে আসে তখন এই দৃশ্য দেখে অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নামাজ আদায় করতে বাধ্য। বেনামাজী হয়ে থাকাটা খুবই কষ্ট কর।

ঘটনাক্রমে যদি হঠাৎ কারো নামাজ ক্বাযা হয়ে যায় সেটা অন্য ব্যপার। কিন্তু একেবারে নামাজ তরককারি বনে যাওয়াটা অসম্ভব ব্যপার ছিল। সেখানকার আমলের এমনই এক পরিবেশ যে পরিবেশের প্রভাবের কারনেই মানুষ নামাজ পড়তে বাধ্য হয়ে থাকে। থানা ভবনের পরিবেশটাই ছিল সততা, বিস্বস্ততা এবং তাকওয়া পরহেজ গারী এর মূর্ত প্রতীক। সেখানে আমীর ফকীর সহ বিভিন্ন শ্রেণীর লোকের সমাগন হত। খানকার প্রতিটি কক্ষগুলো সর্বদা খোলা থাকতো। সেখানকার কারো কোন মালামাল চুরির অভিযোগ ছিল না। কেউ কোন জিনিষ হারিয়ে ফেললে হারিয়ে যাওয়া বস্তু অন্য কোন ব্যক্তি বিনা অনুমতীতে হিফাজত করাও নিষেধ ছিল।

কারন সেখানকার অধিবাসী গনকে বিস্বস্ততা আর দিয়ানতদারির উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকতে বলা হয়েছে। পরস্পরে কেউ কারো কষ্টের কারণ হয়ে না দাড়ায় সে ব্যপারে সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়। নিজের দ্বারা অন্যের কষ্ট হওয়ার ব্যপারে এমন সতর্কতা অবলম্বন করা হয় যে হারনো কোন বস্তু যদি কারো হস্তগত হয় তবু সে উহাকে সংরক্ষন নাকরে বরং আপন স্থানেই রেখে দিবে কারন মালের মালিক হারানো বস্তুকে খুজতে খুজতে সম্ভাব্য স্থানে এসে মাল না পেয়ে পেরেশান হবেন এহেন কষ্টটুকুও কোন মুসলমানকে ইচ্ছাকৃত দেওয়া ইসলামী বিধানে বৈধ নয় যদি হারানো বস্তু কেউ স্পর্শ না করে আর বস্তুটি হারানোর স্থানেই পরে থাকে তাহলে মালের মালিক তালাশ করতে করতে উক্ত স্থানে এসে হারানো মাল পেয়ে যান তাহলে তিনি মাল হারানোর পেরেশানী থেকে চিন্তামুক্ত হবেন।

একজন একটি তোয়ালে মসজিদে ভুলক্রমে ফেলে রেখেছিলেন আর

সেই তোয়ালে তিনদিন যাবৎ সেখানেই পরেছিল। অবশেষে তিনদিন পর মালিক এসে তোয়ালে নিয়ে এলেন আসলে সেখানে এমনি ধরনের খিয়ানতদারী আমানত সততা বিশ্বাস যোগ্যতা ইত্যাদি বিষয়ের তালীম দেয়া হয়ে থাকে। এহেন পরিবেশ থেকে খিয়ানতদারীর চিন্তা করা অকল্পনীয় ব্যপার।

দারুল উলুম দেওবন্দের পরিবেশ থেকে বেনামাজী হওয়টা এবং গাংগুহী (রহঃ) খানকার পরিবেশ থেকে নিজে গাফেল থাকাটা অসম্ভব সেখানে জিকিরের মজলিসে কিছুক্ষন অবস্থান করলে সামান্য পরিমান হলেও জিকির করায় তাওফীক লাভ হয়। পরিবেশের মধ্যে এমনই একটি কুদরতী প্রভাব বিস্তার করে যা মানুষের হৃদয়ে লুকায়ীত থাকে।

মরহুম হযরত মাওলানা ইলীয়াছ (রহঃ) তার গোপনীয় অর্ন্তদৃষ্টির মাধ্যমে তাবলীগ জামাতের এক পরিবেশ সৃষ্টি করেন। মানুষ আপন ঘর ছেড়ে আল্লাহর ঘড়ে এসে জমা হয়ে কেউ ১চিল্লা কেহবা ২চিল্লা কেহবা ১০দিন আবার কেহ২০ দিন এর জন্য আল্লাহর রাস্ত ায় বের হয়ে যখন সকলেই আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকে তখন সেখানে কোন একক ব্যক্তি কিভাবে জিকির ব্যতিত থাকতে পারে? সেই ব্যক্তিও বাধ্য হয়েই মনের অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও জিকিরে মশগুল থাকে। মাওলানা শুধু তালীম তরবিয্যাতই শিক্ষা দেন নাই বরং তার পাশাপাশি আমলের তরীকাও বাতলিয়েছেন। তিনি দাওয়াত ও তাবলীগের মেহেনতকে একটি জামাতবদ্ধ আকৃতিতে রূপান্তরীত করেন।

জামাত বদ্ধ হওয়ার হিকমত হলো একক ব্যক্তির কথা বা দাওয়াত সহজে কেউ জানতে চায়না কিন্তু দলবদ্ধ হয়ে যখন দাওয়াত দেয়া হয় তখন তাদের দাওয়াত গ্রহন যোগ্যতা লাভে সক্ষম হয় আর তখন এমনই এক পরিবেশ সৃষ্টি হয় যে জামাত বদ্ধ লোকদের মধ্যেই দ্বীন সঠিকভাবেও মজবুত হয়ে সমাজে বিকশিত হয়ে উঠে। আল্লাহতায়ালার বিশেষ ইহসান আর অনুগ্রহ যে বর্তমানে জামাতবদ্ধ হয়ে আল্লাহর রাস্তায় মেহেনত করনেওয়ালাদের ছুরত ও সীরত এর মধ্যে কতো পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। তাবলীগ জামাতে যাওয়ার পূর্বে সে হয়তো ঠিকমত নামায আদায় করতো না কিন্তু তাবলীগে বের হওয়ার পর এখন নিয়মীত নামাজের পাবন্দি করে।

এই যে একটি পরিবর্তন তা একজন মানুষের জীবনে এক আমুল পরিবর্তন। আর এটা অসীম কুদরতের মালীক মহান রাব্বুল আলামীনের এক বিশেষ নিয়ামত। যখন কোন মানুষ এমন সুন্দর পরিবেশ এর ছোহবত হাছিল করবে তখন সে এই মোবারক পরিবেশের প্রভাবে প্রভাবান্বিত না হয়ে পারবে না।

হাদীসশরীফে নেক ছোহবতের দৃষ্টান্ত আতরের দোকানের সাথে তুলনা করা হয়েছে। যেমন আপনি আতরের দোকানে গিয়ে যদি আতর খরিদ নাও করেন তথাপি আতরের খুশবু থেকে অবশ্যই মাহরুম হবেন না। এবং মন ও আত্মাপ্রফুল্লতা লাভ করবে। আর মন্দের উদাহারন যেমন:-কামারের দোকানের সাথে দেওয়া হয়েছে যদি আপনি কামারের দোকানে গিয়ে তার পাশে বসে থাকেন তবুও অগ্নিস্ফুলিংগ এসে কাপড়ে পরে কাপড় সামান্য হলেও জ্বলবে আর তাতে কিছুটা হলেও ক্ষতি সাধন করবে।

মোট কথা নেক ছোহবত দ্বারা সুন্দর পরিবেশ গড়ে উঠবে আর খারাপ ছোহবত দ্বারা মন্দ পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।