TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

সেকালের আলিম সমাজ এবং একালের আলিম সমাজ

 সেকালের আলিম সমাজ এবং একালের আলিম সমাজ


সেকালের আলিম ওলামায়েগণ পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার উদ্দেশ্যে দেশের প্রচলিত রাজনীতি, শিক্ষানীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি সাংবাদিকতাসহ সকল সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করে জনসাধারণকে পথ নির্দেশ প্রদান করতেন। তাঁরা মনে করতেন কর্তৃত্ব হাতে না থাকলে ইসলামের কোন বিধানই সমাজে কায়েম করা যাবে না এবং যা কায়েম আছে তাও ঠিক থাকবে না। তাই তারা রাসূল (সাঃ) এবং সাহাবীদের আদর্শ অনুসরণ করতেন। রাষ্ট্রের সকল কাজে অংশগ্রহণ করতেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলে প্রতিবাদ করতেন। তারা ছিলেন সকল ক্ষেত্রেই দেশ ও জাতির মুখপাত্র।


এর ফলে ইসলাম বিরোধী লোক ও সমাজের অসৎ লোক আলিমদের ভয়ে কোনঠাসা হয়ে থাকতো, অন্যায় কাজ করতে সাহস পেতো না। আলিমগণ তখন অনুসরণ করতেন রাসূল (সাঃ) এর হাদীস। কোথাও অন্যায় হতে দেখলে হাত দিয়ে অর্থাৎ জোর খাটিয়ে তা প্রতিরোধ করো, যদি হাত দিয়ে তা প্রতিরোধ করতে না পারো তবে মুখে প্রতিবাদ করো, যদি মুখে প্রতিবাদ করার শক্তি না থাকে সাহস না থাকে তবে কি ভবে সেই অন্যায় দূর করা যায় চিন্তা ভাবনা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করো। এই তৃতীয় প্রকার পদ্ধতি হলো সব বেশি দুর্বল ঈমানের লক্ষণ, এটি ও যদি না থাকে তবে বুঝতে হবে যে তার মধ্যে ঈমান নেই। যার মধ্যে ঈমান নেই সে কী মুসলমান?


সেকালের আলিম-উলামা ও পীর বুজর্গগণ কুরআন সুন্নাহ অনুসরণ করতেন, সমাজের সাধারণ মানুষের উপর তাদের যে দায়িত্ব ছিল তা তাঁরা পালন করতেন। এ কারণে তখন সমাজে এতো অন্যায় অনাচার দূর্নীতি ছিল না। সমাজে অনেকটা শান্তি শৃংঙ্খলা ও নিরাপত্তা ছিল।


একালে আলিম পীর বুজর্গগণ কুরআন এবং রাসূল (সাঃ) জীবন আদর্শ পরিত্যাগ করে ইসলাম থেকে রাজনীতি ও সামাজিক কাজ বাদ দিয়ে, ইসলামকে একান্ত তাদের জুব্বার পকেটে তুলে রেখে বাইরে দোয়া দরূদ, মিলাদ মাহফিল করে হাদিয়া গ্রহণ করছেন, সভা, দান-খয়রাতের বয়ান করছেন, হাল যামানার সমস্যা কথা বাদ দিয়ে অতীতের কিচ্ছা কাহিনী নিয়ে ফাঁকা ওয়াজ করছেন, জিকির আসকার আর কুরআন খতম যাওয়ার এহছানি করে খতমের পর খতম দিয়ে ইসলাম খতম করে ফেলছেন। এর ফল কী হয়েছে?


মাদরাসা মকতব আছে, হেফজখানা আছে, মসজিদ আছে, ইসলামের নামে সভা-সম্মেলন আছে, ওয়াজ নছিহত আছে, আলিমদের গায়ে শানকরা পোষাক আছে, মসজিদ ভর্তি নামাজী আছে, কিন্তু কোথাও ইসলাম নেই। ইসলাম না থাকার ফলে কী হয়েছে?


ইসলাম না থাকার কারণে সমাজের সকল ক্ষেত্রে অন্যায় অনাচার, অবিচার, দূর্নীতি, সুদ, ঘুষ, খুন, গুম, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানী, ধর্ষণ, শঠতা, প্রবঞ্চনা, জোর-জুলুম, নির্যাতন নানা রকম অসৎ কাজে দেশ ভরে গেছে।


আলিমদের ইসলাম ত্যাগ করার কারণে সমাজে এতো অন্যায়, অনাচার-অবিচার ও অপকর্ম সংঘটিত হচ্ছে এর জন্য তারা কী দায়ী হবেন না? তারা কি তাদের ধোপ-


দুরস্ত জিল্লাদার জুকার কারণে লাল গালিচা মাড়িয়ে জান্নাতে চলে যাবেন?


আমাদের আলোচনার কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব মওলানা দরবেশ আহমদ। তিনি ছিলেন সেকালের আলিমদের মধ্যে একজন। তৎকালে আলিম সম্প্রদায় ধর্ম ক্ষেত্রে যেমন দিশারীর ভূমিকা পালন করেছেন, তোমনি রাজনীতি আর সমাজ ক্ষেত্রে ও নেতৃত্ব


দিয়েছেন। 'তোমাদের মধ্যে এমন একটি সম্প্রদায় থাকতে হবে, যারা কল্যাণের পথে (মানুষকে) ডাকবে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে। কুরআনের এই মর্মানুসারে তারা রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্রিয়াকর্মকে ধর্মীয় দায়িত্ব মনে করতেন এবং ধর্মীয় দায়িত্বের পাশাপাশি দেশের আইন প্রণয়ন, ধর্মীয় নীতি নির্ধারণ, দলীয় ও নির্দলীয় রাজনৈতিক মতামত সৃজন, আর শিক্ষা সংস্কৃতি বিকাশ সাধনে ও আন্তরিক ভূমিকা পালন করতেন। এমনি শত শত আলিম-উলামা ও পীর বুজর্গের নাম একটানে উল্লেখ করা যায়। এখানে নজির হিসাবে তাঁদের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করছি: ফুর ফুরার পীর মওলানা আবু বকর সিদ্দিকী (রঃ) (১৮৫৮-১৯৩৯), মওলানা হাজী শরীয়তুল্লাহ (১৭৮০-১৮৪০), মুহসিনুদ্দীন (দুদুমিয়া) (১৮৪০-১৮৬২), মওলানা আবদুল জব্বার (১৮৮১-১৯১৮), মওলানা আবদুল গফুর ওরফে নয়া মিয়া, মওলানা সাঈদ উদ্দীন আহমদ, মওলানা উবায়দুল্লাহ উবয়েদী (১৮৭১-১৯৪৪), শহীদ সৈয়দ আহমদ বেরলভী (১৭৮৬-১৮৩১), মওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (জ- ম.১২৯০ হি.) মওলানা শাহ্ আবদুল আজিজ (১৭৪৬-১৮২৪), মওলানা সুফী নূর মুহাম্মদ নিযামপুরী (মৃত্যু ১৮৫৮), মওলানা ইমামুদ্দীন (জ মৃ ১৮৫৭) মৌলবী আবদুল হাকীম বাংগালী, মওলানা নিসার উদ্দীন তিতুমীয়া (১৮৭২-১৯১), মওলানা আবদুর রউফ ওহীদ (১৮২৮-১৮৯৩), মওলানা মুহাম্মদ ওজীহ, মওলানা হাকীম হাবীবুর রহমান (১৮৮১-১৯১৭), মৌলবী নঈমউদ্দীন (১৮৩২-১৯০৮), মৌলবী (নওয়াব) শামসুল হুদা (১৮৮২-১৯২২), মওলানা মনিরুজ্জামান এছলামাবাদী (১৮৭৫-১৯৫০), মওলানা মুহাম্মদ আকরম খাঁ (১৮৬৯-১৯৬৮), মওলানা মুহাম্মদ আলী (১৮৭৮-১৯৩১), মওলানা আবুল কালাম আজাদ (১৮৮৬-১৯৫৮), মৌলবী আবদুল ওয়াহেদ বোকাইনগরী (১৮৮০-১৯৭৩), মৌলবী আবদুল গফুর সিদ্দিকী (১৮৭২-১৯৫৯), হাকীম আজমল খান (১৮৬৩-১৯২৮), মওলানা আহমদ আলী (১৮৮১-১৯৭১), মওলানা মনীরুদ্দীন আনওয়ারী, মওলানা আবদুল রহমান সাদী (১৯০২-১৯৭৭), মওলানা মোহম্মদ শামসুল হক পাঁচবাগী (১৮৯০-১৯৮৮), মওলানা আবদুল্লাহেল বাকী (১৮৮৬-১৯৫৬), মওলানা আবদুল আজিজ (১৮৯৩-১৯৫৯), পীর বাদশা মিয়া (১৮৮৪-১৯৫৯), মওলানা আহমদ আলী এনায়েতপুরী (১৮৯৮-১৯৫৯), মওলানা মাহমুদ মোস্তফা আল মাদানী (১৮৯৯-১৯৭১), মওলানা যফর আহমদ ওসমানী (১৮৯২-১৯৭৪), মওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমীন (১৮৮২-১৯৪৫), মওলানা আগা মুঈদুল ইসলাম (১৮৬৩-১৯৩০), মওলানা আবদুল হমিদ খান ভাসানী (১৮৮০-১৯৭৬)।

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।