TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

একবার ডাক সমুদ্র বলে...

আষাঢ়ের আকাশ। গাঢ় মেঘ নেই, আবহাওয়ায় মেঘলা আমেজ আছে। আজ আকাশে চাঁদও নেই। আছে নক্ষত্রের ফুটি ফুটি আলো।


সার্কিট হাউজের দোতলার বারান্দায় বসে আছে প্রভা। ও দেখছে নির্জন নিরালা সবুজ সমারোহের একাকী রাতের দৃশ্য। বিরাট বিশাল এলাকা জুড়ে জেলা পরিষদের কর্মকান্ড। খুব কম শহরেই এমন বিস্তীর্ণ এলাকায় সরকারি অফিস আদালত থাকে।


মূল শহর থেকে বেশ দূরেই জেলা পরিষদের কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। অফিস আদালত, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের আবাসন, স্কুল তারপর অনেক খোলা জায়গা অনেক বৃক্ষরাজি, বেশ নির্জন, কবিতার মত মসৃণ মায়াময়।


এমন নির্জন নিরালা রাত প্রভার জীবনে বহুবার এসেছে। কিন্তু সেগুলো আজকের এই রাতের মত ব্যাঞ্জনাময় নয়। আজরাত ওর জীবনে ভিন্ন। বহুবছর বাদে আজ ওর চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে, অনেক কাল পর প্রভা আজ কারো জন্য কাঁদছে।


আসিফের সাথে ছাড়াছাড়ির পর ও কাঁদেনি। আসিফ-প্রভার যৌথ জীবনে অনেক কেঁদেছে। যে কান্নার পেছনে অলক্ষ্যে ছিল অপমান ঘৃণা দুঃখ বেদনা যন্ত্রণা। কিন্তু আজ...


প্রভা তখন এই শহরের নামকরা একটা কলেজে ২য় বর্ষে পড়তো। আন্তকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। স্থান জেলা ষ্টেডিয়াম। প্রভাদের কলেজ শুধু লেখাপড়ায়ই শীর্ষে অবস্থান করছে তা নয় খেলাধুলা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেও শীর্ষে। কলেজের নিয়ম শৃঙ্খলাও বেশ কড়া। বেছে বেছে ছাত্রী ভর্তি করে এই কলেজ।


প্রভা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। খেলাধুলায় কোনদিনই ওর আগ্রহ ছিল না। তাই নিজে খেলছে না কিন্তু বন্ধুরা খেলবে, ওদের খেলা দেখতে হবে যাতে ওরা উৎসাহী ও অনুপ্রাণীত হয়।


দলবেধে যায় স্টেডিয়ামে। গ্যালারীতে বসে দেখছে ওদের কলেজের মেয়েরা প্রায় প্রতিটা বিষয়ে ছিনিয়ে আনছে প্রথমস্থান গর্বিত শিক্ষক মন্ডলী, উৎসাহী ছাত্রীরা, ওদেরই দীপ্তিময় সতীর্থরা জীবনের শেষশক্তি দিয়ে লড়ছে কলেজের সম্মান সাফল্যের জন্য।

আনন্দে ঝলমলে প্রভার কাছে হঠাৎই আসে এক বালক বয়সের বাদাম ওয়ালা। বাদামের দাম দাবী করে। প্রভা টুপ করে আকাশ থেকে মাটিতে পড়ে। ও কখন বাদাম কিনলো-নাহ। ও বা ওর বান্ধবীরা তো খেলায় মত্ত ছিল ওরা কখন বাদাম কিনল আর খেলই বা কখন, ওদের পায়ের কাছে তো একটা বাদামের খোসা পড়ে নেই। তাহলে এই বালক কেন ওর কাছে বাদামের দাম দাবী করছে। অভিজ্ঞ বাদামওয়ালাই বিষয়টা খোলাসা করে। বাদাম খেয়েছে বিপরীত গ্যালারীতে বসা সাদত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একদল ছাত্র। ওরাই দাম নিতে পাঠিয়েছে প্রভার কাছে।


হাত ইশারা করে ওরা প্রভা বাদাম ওয়ালাকে যেতে নির্দেশকরে। এই বালক বয়সেই ও এমন দৃশ্যের সাথে অহরহ সংযুক্ত তাই নাছোড়বান্দা স্বভাবটাও আয়াত্বে এনেছে। বিষয়টার মজা পেয়ে গেছে। বাদাম ওয়ালাতো বাদামের দাম কিছুতেই ছাড়বে না। বাদাম ওয়ালা পুরুষ তাই ঐ পক্ষের টানই টানছে প্রাণপনে।


প্রভা পড়ে যায় মহা ফ্যাসাদে। বন্ধুদের সাহায্য নিতে গিয়েও থেমে যায়। আজ স্টেডিয়াম ওদের দখলে। আর প্রভা হেরে যাবে পুরুষদের কাছে। নাহঃ কিছুতেই না। বিষয়টা বাড়তেও দেয়া যাবে না।


মধ্যমাঠে চলছে তখন শ্বাষরুদ্ধকর রিলেরেস। সবার মনোযোগ মধ্যমাঠে। এমনকি নাছোড়বান্দা বাদামওয়ালাও মেতে আছে খেলায়। ওপাড়ের অসভ্য ছেলেগুলোকে মনে মনে ইচ্ছে মতো গালি দিয়ে পথে নামে।


স্টেডিয়ামের বেশ কাছেই বাসা। হাটা পথেই যাওয়া যাবে, 'ইসঃ ছেলেগুলোর জন্য খেলা দেখা হল না' ভাবতে ভাবতেই পার করছে পথের দূরত্ব। ওঠিক কাজই করেছে, টাকাগুলো না দিয়ে। তবে বসে থাকতে পারলে ভাল হতো।


t


ওরা তোমাকে খুব জ্বালিয়েছে না।


চমকে থমকে দাঁড়ায় প্রশ্নকারীর চোখে চোখ রাখতেই আগুন জ্বলে উঠে প্রভার শান্ত চোখ দু'টোতে। শুধু পলকের জন্য। তারপর আবার সামনে পা বাড়ায়।


আমার কোন দোষ ছিল না। ওদের সাথে ছিলাম শুধু, আমার করার তেমন কিছু ছিলনা।


ধমকে দিতে ইচ্ছে হচ্ছে প্রভার। নইলে খামছে রক্তাক্ত করতে। তাহলে চিরদিনের মত মেয়েদের সাথে মজা করার স্বাদ মিটে যাবে। কিন্তু কথা বলারও রুচী নেই এখন।


বেশ অনেক দিন দেখা নেই যেদিনের সেই ঝাঝালো রোদে তাতানো ছেলেটির সাথে।

ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নির্বিগ্নে শেষ হয়েছে। এবার আন্ত জেলা সাংস্কৃতি প্রতিযোগিতা। কলেজ প্রভার উপর বেশ খানিকটা সাফল্য দাবী করে।


পর পর দুজন প্রতিযোগি তাদের পারফর্ম শেষ করে। এবার প্রভার পালা। প্রভা তার এতোদিনের অর্জিত বিদ্যা মনপ্রাণঢেলে গাইছে। হঠাৎ ওর চোখ পড়ে দর্শকসারিতে সেদিনের সেই ছেলেটি। মুগ্ধ দৃষ্টিতে আকুল হয়ে শুনছে প্রভার বিগলিত সুর, কথা, তাল। গান শেষ করে প্রভা বুঝতে পারে যতটা ভাল হবার কথা ছিল ততটা হয়নি। কারণ কারো চোখের দৃষ্টি।


পরপর আরো দুজন প্রতিযোগি অংশ নেবে। এই দৃষ্টিকে ওকে জ্বালাবে বুঝতে পারছে। ওকি চলে যাবে। নাহ! যাবে না, অন্যদের গান শুনবে তারপর যাবে, ভাবতে ভাবতেই গ্রীণ রুমের চেয়ারে বসে।


: সমুদ্র তোমার জন্য


অন্য কেউকে বলছে ভেবে পাশে তাকাতেই দেখে ঔছেলেটি। একরাশ দোলন চাপার গুচ্ছটা এগিয়ে দেয়, উপেক্ষার দৃষ্টিতে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকে প্রভা।


ফলাফলে দেখা যায় কলেজ হতাশ হয়নি প্রভার উপর নির্ভর করে। শিক্ষক আর বন্ধুদের শুভেচ্ছায় সিক্ত হতে হতেই বাড়ির পথে পা বাড়ায়।


:


আমি জানতাম সমুদ্র তোমার সুরে ভাসবে আমাদের এই জেলা। নাও এই দোলনচাপা।


উপেক্ষার দৃষ্টি ছাড়া প্রভার আর কিছুই নেই ওকে দেবার, আবার ঢং কি সমুদ্র। যাক প্রভার নামতো জানে না। সেটাই বা কেমন করে মাইকে কতবার যে ওর নাম উচ্চারিত হয়েছে। তাহলে সমুদ্র কেন।


: যা তুই সমুদ্রে ডুবে মর


বলতে গিয়েও থেমে যায় প্রভা, কথাটার ভিন্ন অর্থ খুঁজে নিতে পারে এই গায়ে পড়া ছেলেটি।


উপেক্ষার দৃষ্টি বেশ বাঁজে মাহিনের বুকে। যেদিন মাহিন কি করতে পারতো ওদের বাঁধা দিলে সেই বাঁধার মাঝ দিয়ে ওর বন্ধুরা ঠিকই একটা রসের ধারা বের করে ফেলতো এবং সেই রসের ধারার কেন্দ্র বিন্দু থাকতো প্রভা। প্রভাকে কিছুতেই সেদিনের ঘটনা খুলে বলতে পারছে না।


বুকের ভেতর অবরুদ্ধ কান্না গুমরে উঠে।


অথচ প্রভা পিঠে খোলা চুলগুলোকে খেলিয়ে খেলিয়ে বাড়ি ফিরছে একবারও তাকাচ্ছে না পথের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বেদনায় ম্লান হয়ে যাওয়া ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা মাহিনের দিকে।

টেষ্ট পরীক্ষার পর পড়াশোনায় ডুবে থাকে প্রভা ওর অতিপ্রিয় হারমনেয়ামেও হাত বুলায় না। বারান্দায় দাঁড়ায় না শুধু বই আর বই।


এইচ এসসির ফলাফলে খুবই খুশী প্রভা। প্রভার পরিবার, কলেজর সর্বোপরি জেলার সবার খুশীকে ছাপিয়ে যায় মাহিনের খুশী। সমুদ্রের ঢেউর আকৃতির এক ফুলের বোঁকে পাঠায় মাহিনের বাসায়।


সকালে সদর দরজাখুলে প্রভাদের কাজের ছেলে এই বোঁকে নিয়ে উঠোনে দাঁড়ালে পুরোবাড়িতে তুল কালাম। কে পাঠিয়েছে এই ফুল, কার এত বড় সাহস। মায়ের রাগের মুখে প্রভা জানায় এটা সাহস নয় মা এটা কাপুরুষের কাজ।


বাবা সিদ্ধান্ত নেয় প্রভাকে আর এই শহরে রাখা ঠিক হবে না।


ভর্তি সংক্রান্ত সকল কর্ম সমাধা করে যায় নিজের শহরের পাট চুকাতে। দেখা হয় মাহিনের সাথে। সেই দোলন চাপা হাতে দাঁড়িয়ে ছিল ওদের গেটে।


: সমুদ্র তোমার জন্য


: শুনুন আমি সমুদ্র নই।


:


তুমি আমার জন্য সমুদ্র। আমার কাছে সমুদ্র যেমন একান্ত প্রিয় তুমিও।


চলেই যাচ্ছে এই শহর ছেড়ে। এই শহরের এই মানুষটিকে ছেড়ে তাই হয়তো একটুক্ষণের জন্য দাঁড়ায়। দুজন দুজনের চোখে চোখ রাখে।


কিছুদিন পর বাবাও জেলা শহরের ব্যবসা গুটিয়ে ঢাকা চলে আসেন।


পড়ার চাপে প্রভা অভিনয় নাচ ছেড়ে দেয়। আঁকড়ে ধরে থাকে সংগীতকে। গানইওর প্রথম প্রেম, ওর সাধনা, ওর চলার পথের সাথী। প্রভা কথা আর সুরের দীর্ঘ পথে বুনে চলে সাফল্য।


সংগীত শিল্পী ফারহানা রেশমার খ্যাতি দেশ ছাড়িয়ে চলে যায় বহুদূর। ফারহানার খ্যাতির উজ্জল্যে চাপা পড়ে যায় প্রভা। ফারহানা আজ ওর নয় দেশের সম্পদ।


আসিফ ফারহানার ভক্ত, ফারহানার সব এলবাম ওর কালেকশনে। ফারহানার প্রতিটি অনুষ্ঠানের টিকেট আগে ভাগেই সংগ্রহ করে নিতে ভুল হয় না আসিফের। মা বাবার কাছে প্রস্তাব পাঠায়। পাত্র হিসেবে বেশ শাসালো, শিক্ষা, মেধা, সম্মান, সম্পদ।


মা বাবার পছন্দে আসিফের আগ্রহেই বিয়ে হয়। সুখের সংসারে হঠাৎই সংঘাত বাঁধে গানকে কেন্দ্র করে। যে আসিফের সংগ্রহে থাকতো ফারহানার গানের এ্যালবাম সেই মানুষটা গানের মানুষটাকে সংগ্রহ করে বন্দি করে রাখতে চায় তার চার দেয়ালে। আসিফ শুধু গানের নয় ফারহানার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ভেঙ্গে যায় ভালোবাসাহীন সংসার।

ফারহানার ব্যাক্তিগত সুখ দুঃখ বিলীন হয়ে যায় সুরে। ফারহনার আনন্দ সুর হয়ে ভেসে চলে ফারহানার দুঃখ সুর হয়ে পাখির কণ্ঠে কাঁদে।


বন্যাদূর্গতদের সাহায্য করার জন্য আয়োজকরা একটা গানের অনুষ্ঠান করবে। ফারহানার কাছে প্রস্তাব নিয়ে এলে আগ্রহেই সম্মতি দিয়ে দেয়।


সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম তাই দুপুরের পর পর রওনা হলেও পৌঁছাতে অসুবিধা হবে না এটা প্রভার হিসাব। যন্ত্রীদল বলেছে আজকাল হাইওয়েতেও যানজট থাকে। তবুও দুপুরে খাবার পরই রওনা হয় প্রভা।


ঢাকার সড়ক সীমানা শেষ হয়ে শুরু হয় প্রভার নিজের এলাকার সড়ক সীমানা। দুপাশের সবুজ ছায়া ভেঙ্গে ভেঙ্গে পৌঁছে যায় ওর শহরে। ওর শেশব কৈশোরের শহরে ওর প্রারম্ভ যৌবনের শহরে।


কত বছর পর প্রভা এল এই শহরে। ওর দীর্ঘ সংগীত জীবনে আসা হয়নি একবারও এই শহরে। প্রভার প্রাণের শহর, স্বপ্নের শহর!


কালো কাঁচের ভেতর দিয়ে শ্বাস টেনে নিচ্ছে শহরের সুবাস। কত পরিবর্তন হয়েছে এই শহর। ভেতরের সবুটুকু আকুলতা দিয়ে ও খুঁজছে পুরানো বাড়ি-ঘর, রাস্তা, বৃক্ষ। হঠাৎ হঠাৎ পেয়ে গেলে সেটাতে বুকের গভীরে জমানো স্মৃতির সাথে মিলিয়ে নিচ্ছে। চলমান মানুষজনের মুখে খুজছে পুরানো মানুষের মুখচ্ছবি, এবার পুরোপুরি বিফল হচ্ছে।


প্রভার পুরানো শহরটায় যোগ হয়েছে নতুন অনেক কিছু, নিজের শহরটাকেও চিনতে পারছে না, তবুও কেমন অচেনা মায়া, অজানা ভালোলাগা, চেনা আমেজে জড়িয়ে ধরে।


প্রভার স্কুল কলেজের বন্ধুরা আজ কোথায় আছে, কত পরিবর্তন হয়েছে ওদের। ওরা কি ফারহানা রেশমীর খোলস ভেঙ্গে ওদের প্রভাকে খুঁজে পায় কখনও। ওদের সেই বাড়িটাই বা কোন অবস্থায় আছে। বাবা বাড়িটা ভাড়া দিয়েছে মাসের প্রথমে এসে ভাড়ার টাকা নিয়ে যায়। ওরা কখনও আসেনি। কিন্তু আজ ওর বাড়ির মাটি স্পর্শ করতে মন চাইছে।


শহরে পৌঁছালে উদ্দ্যোক্তারা ওকে ফ্রেশ হবার জন্য সার্কিট হাউজে নিয়ে আসে। দ্রুতই ফ্রেশ হয়ে নেয়।


দরজায় টুক টুক আওয়াজ। সার্কিট হাউজের বেয়ারা, উদ্যোক্তাদের প্রধান ব্যক্তি এসেছেন। ওয়েটিং রুমে আছেন। আসছি বলে দেরী করেনি প্রভা।

জুলফির দুপাশে রূপোলী ছোঁয়া, মুখটায় বয়স দিয়েছে অমল সৌন্দয্য। চোখ দুটোতে ঝকঝকে দৃষ্টি, ঋজু ভঙ্গিতে দাঁড়ানো পুরো ছয় ফুটের শরীর নিয়ে স্মৃতির কুয়াশায় একজন।


: আরে দাড়িয়ে কেন বসুন।


প্রভার কণ্ঠে সুরে দাঁড়ায় ভদ্রলোক, প্রভার দৃষ্টি ঢেকে দেয় মেঘ, মেঘ সরিয়ে সরিয়ে চিনতে চেষ্টা করেন ভদ্রলোককে।


: আমি মাহিন, আপনার একজন ভক্ত।


: এই শহরের অনেককেই চিনতাম, আপনি যদি কাছাকাছি কোন পরিচয় দেন তবে হয়তো আমার চিনতে খুব সুবিধা হতো।


: আপনি চিনতেন আর আমি চিনি। আপনি যে সংগঠনের আমন্ত্রণে এসেছেন আমি সেই সংগঠনের প্রধান এটুকুই থাক।


: আপনার ভক্তরা কিন্তু অপেক্ষা করছে, যদি দয়া করে গাড়িতে উঠেন তবে সময় মতো পৌছাতে পারি।


: ওকে চলুন।


আপনার জন্য এনেছি।


প্রভা এতোক্ষণ খেয়াল করেনি। টেবিলে রয়েছে সমুদ্রের ঢেউ এর আকৃতির ফুলের বোকে। মাহিন বোকেটা তুলে দেয় প্রভার হাতে।


মাহিনের দৃষ্টি আঁটকে যায় সেই হাসিতে সেই ভুবন বিজয়ী হাসি। যা মাহিনের অনন্ত সাথী হতে পারতো। চাপা দীর্ঘশ্বাসটা গোপন করে মাহিন।


টাউন হলের দর্শক শ্রোতাদের বিমুগ্ধ করে যখন নিচে নামে তখনও মাহিন দাঁড়িয়ে আছে।


রাতে থাকার পরিকল্পনা ছিল কিন্তু আগামী কাল দুটো চ্যানেলে লাইভ প্রোগ্রাম চলে এসেছে। তাই যত রাতই হোক চলে যেতে হবে।


রাতে শুধু সবজি খায় প্রভা। সবার ভালোবাসায় শ্রদ্ধায় সিক্ত হতে হতেই গাড়িতে উঠে প্রভা। সাথে সাথে ওর মোবাইলে একটা এস.এম.এস আসে।


'সমুদ্র এতো কাছ থেকেও চিনলে না আমায়, তোমারই প্রতীক্ষায় প্রহর গুনেছি একাকী।'


গাড়ির দরজার কাছে দাঁড়িয়ে মাহিন, কি অমলিন ওর হাসি, কেউ একজন বলেছে বিশাল ব্যবসা সামলেও সংগঠনের হাল ধরে রেখেছেন মাহিন রায়হান। এতো সবকিছু সামলে নিজের বিয়েটাও করতে পারেনি। মাহিনের চোখ বলতে চাইছে প্রভা যা শুনতে চাইছে তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি।


কি বলতে চাইছে মাহিন। বয়সের উন্মাদনায় সেদিন প্রভার সাথে যা করেছি সেটা তার বন্ধুদের ভুল, ঐ ভুলটুকু না করলে প্রভার এই আন্তর্জাতিক মানের শিল্পী হওয়া দূরহ হয়ে উঠতো। কেন এই শহর থেকে কি কেউ বড় হয়নি।


প্রভাতো কবেই ভুলেগেছে সেই ঘটনা শুধু ঘটনাকেন ঘটনার সেই সূত্রধরকে আজ পর্যন্তকি জবাব দেবে প্রভা। খুব কঠিন জবাবই দেবে।


'যদি আরেকবার ডাক সমুদ্র বলে তবে আমি দিতে পারি আমার আকাশ তোমাকে।'


এস.এম.এস টা সেন্ড করার আগেই গাড়ি চলতে থাকে...

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।