নোয়াখালী থেকে রামপুর
দরবেশ আহমদ নোয়াখালী থেকে বাড়ি ফিরে এলেন ১৮৭০। পীরের নির্দেশের কথা তিনি পিতাকে জানালেন। পিতা তাকে উচ্চ শিক্ষার জন্য হিন্দুস্থান পাঠানোর নিয়ত করেন। এ সময়ে দরবেশ আহমদকে বিয়ে করানো ইচ্ছা করেন তিনি। সে সময় বাল্য বিয়ের রীতি খুব প্রচলন ছিল।
চর অলোয়ার আনসার আলী তালুকদার এলাকার মধ্যে ছিলেন ধনী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি ব্যবসা করতেন বলে অনেকের কাছে ব্যাপারী সাহেব বলে পরিচিত ছিলেন। সাফায়াত উল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন তিনি এবং ব্যাপারী সাহেবের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। ব্যাপারী সাহেবের মেয়ে দেখে সাফায়াত উল্লাহ তাঁর ছেলের জন্য তাঁর মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব করেন। মেয়ে আবিদা খাতুনের তখনো বিয়ের বয়স হয়নি। তবু বন্ধুর প্রস্তাবে ব্যাপারী সাহের রাজি হন এবং মেয়েকে দরবেশ আহমদের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের পর দরবেশ আহমদ প্রায় এক বছর শ্বশুর বাড়ি চর অলোয়া এবং রামপুরে ঘুরে ফিরে কাটান। এ সময়ে তাঁর মন অস্থির হয়ে ওঠে হিন্দুস্থানে যাবার জন্য। জ্ঞানার্জনের জন্য পুত্রের আগ্রহ বুঝতে পেরে সাফায়াত উল্লাহ এবং ব্যাপারী সাহেব দরবেশ আহমদকে উচ্চ শিক্ষার জন্য হিন্দুস্থান পাঠিয়ে দেন। বাড়িতে কাউকে কিছু না
বলে দরবেশ আহমদ হিন্দুস্থান গমন করেন।
দরবেশ আহমদ এ হিন্দুস্থান গমন উপলক্ষ্যে এলাকায় একটি কথা প্রচলিত আছে। এখনো সে কথাটা কোন কোন লোকের মুখে শোনা যায়। কথাটা আমার কাছে লিখে জানিয়েছে দরবেশ আহমদ সাহেবের নাতি রামপুর গ্রামের অধিবাসী সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক জনাব কছিম উদ্দীন আকন্দ। 'তিনি এক পত্রে লিখেছেন- সাফায়াত উল্লাহ একদিন ভোরে দরবেশ আহমদকে বললেন, বাবা, কামলাদের সঙ্গে হাল বাইতে যাও। দরবেশ আহমদ পিতার নির্দেশ মতো লাঙ্গল জোয়াল কাঁধে নিয়ে গরু তাড়াতে তাড়াতে কামলাদের পিছে পিছে মাঠের দিকে চললেন। বাড়ি থেকে কিছু দূর অগ্রসর হলে তাঁর মনে এক ভাবের উদয় হয়। তিনি মনে মনে ভাবতে থাকেন- তা হলে আমি কি মাঠের কমলাদের মতো কামলা হবো?
মাঠই কি হবে আমার কর্মস্থল? না তা তো হতে পারে না। আমাকে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আমাকে হিন্দুস্থান চলে যেতে হবে। এই সব কথা মনে মনে ভেবে তিনি কাঁধের লাঙ্গল জোয়াল ফেলে দিয়ে সেই সময় থেকেই তিনি উধাও হয়ে গেলেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তাঁর কোন সন্ধান পাওয়া গেল না।'
সে সময়ে আমাদের বাংলাদেশ থেকে অনেক শিক্ষার্থী হিন্দুস্থানের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা লাভের জন্য যেতেন। বিশেষ করে আগ্রা, দিল্লি ও দেওবন্দ শিক্ষার জন্য বিখ্যাত ছিল। যাক, কিছু দিন পর দেওবন্দ ফেরত এক শিক্ষার্থীর কাছে জানাতে পারেন যে দরবেশ আহমদ দেওবন্দ মাদরাসায় ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করছেন।
