তাছাউফের মধ্যে নৈতিক পার্থক্য থাকলেও মৌলীক ভাবে সবই এক
সূফীবাদের মধ্যে লক্ষনীয় বিষয় হলো যে সুফী বাদের মাধ্যে দর্শনশাস্ত্র ও আমলের বিভিন্ন তরীকা রয়েছে সেই আলোকে তাকে মুক্তির পথ বলা হয়। সূফীবাদ সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে তাই মানুষের মুক্তিও নাজাতের পথ। আর এই সূফী বাদের মূল লক্ষও উদ্দেশ্য হলো মানুষের অন্তরকে পবিত্র করা। অধিক মাত্রায় আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকাই তার মৌলিক শিক্ষা।
এখন বিবেচ্য বিষয় হলো আত্মশুদ্ধি বা অন্তরকে পবিত্র করার কি পদ্ধতি? অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায় আত্মশুদ্ধির বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে যেমন রয়েছে চিশতীয়া তরীকা, নখস বন্দিয়া তরীকা, সাহরোয়ারদীয়া তরীকা। এ সকল তরীকার মূল লক্ষও উদ্দেশ্য হলো অন্তরকে পবিত্র করা।
কুরআন ও হাদীসে বর্নিত হয়েছে অন্তর যখন মারা যায় তখন জিকির এর অনুশীলনির দ্বারা অন্তরকে সতেজ করা যায়। সূফীয়া-য়ে কিরাম নুতন কোন জিকির আবিষ্কার করেন নাই বরং কোরআনে যে জিকিরের উল্লেখ রয়েছে তাই তালিম দিয়ে থাকেন। কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত এমন দশটি বাক্য যাহাতে রয়েছে আল্লাহ তায়ালার নাম, তার প্রশংসা, মহিমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর জিকির, তার গুনকীর্তন ও বড়ত্বতা যেমন বলা হয়েছে:
سبحان الله والحمد لله ولا اله الله والله اكبر ولا حول ولاقوة الا بالله العلى العظيم
আউযুবিল্লা, বিসমিল্লাহম, ইস্তেগফার এবং দুরুদ শরীফ এসব কিছুই কোরআন ও হাদীসে উল্লেখ রয়েছে। সকল তরীকার বুজুর্গানেদ্বীন এই সব তাছবীর তালীম দিয়ে থাকেন। যদিও পরস্পরের তরীকা ভিন্ন ভিন্ন। আর তাহারা বিভিন্ন তরীকার ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে মানুষের অন্তরকে পবিত্র করার কাজে নিয়োজীত আছেন। মানুষের অন্তরকে পবিত্র করার কাজে নিয়োজীত আছেন।
মানুষের আত্মশুদ্ধির জন্য রিয়াজাত ও মুজাহাদা অর্থাৎ শ্রেনীভেদে পরিশ্রম ও সাধনার পৃথক পৃথক স্থর নির্নয় করা হয় পৃথক পৃথক সাধনা করার স্থর নির্ণয় করা এটা আত্মশুদ্ধির একটি কৌশল মাত্র। যদিকেউ এই পদ্ধতি গ্রহণ না করে তাহলে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে বলে এমন ধারনা আদৌ বিধি সম্মত নয়। এটাকেই দ্বীনের মূল অংশ বলা যাবে না। বরং এটা একটি আত্মশুদ্ধির কৌশলগত পদ্ধতি এর অংশ বিশেষ মাত্র।
আসলে কথা হলো ইলমে ফিকাহর মধ্যে যেমন গোত্রীয় মত পার্থক্য রয়েছে অনুরূপভাবে তাছাউফের মধ্যেও কর্ম পদ্ধতিগত পার্থক্য আছে। ফিকাহও তাছাউফের ব্যপারে ওলামায়ে কিরামের মাঝে নীতিগত মতবিরোধ থাকলেও প্রত্যেকরই মূলনীতি এক ও অভিন্ন।
