TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

তাবলীগ জামাতের কবুলিয়াতের প্রভাব

    মানুষের আত্নশুদ্ধীর ব্যপারে তাবলীগ জামাত যে ভূমিকা রেখেছে বর্তমান যুগে এর বিকল্প কোন শিক্ষা পদ্ধতি প্রায় নাই বললেই চলে। আত্নশুদ্ধীর এই তরীকা আল্লাহতায়ালা মাওলানা ইলিয়াছ (রহঃ) অন্তরে উদ্ভাবন করেছেন। আজ থেকে প্রায় ৩০/৪০ বৎসর যাবৎ এর গতীধারা বিরামহীন ভাবে অব্যাহত রয়েছে। পৃথিবীর যেখানে যেখানে আমার যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল পৃথিবীর এমন কোথাও নেই যেখানে দাওয়াতও তাবলীগের কোন জমাত অনুপস্থিত। লন্ডন, ফ্রান্স, আমিরিকা, আফ্রিকা সহ পৃথিবীর সর্বত্র এই জমাত নিরলশ ভাবে তাদের কাজ সঠিকভাবে আঞ্জাম দিয়ে যাইতেছে।

আল্লাহতায়ালার কিছু নিবেদীত প্রান আল্লাহ পাকের বাণীকে সর্বত্র পৌছে দেওয়ার নিমিত্তে আতোৎসর্গ করে যাইতেছেন। আর দ্বীন প্রচারে এত বড় কুরবানী করা এটা এই জামাতের কবুলিয়‍্যাতেরই একটি জলন্ত নিদর্শন। যদি ও এই উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন মেহেনতের ব্যপারে কিছু লোক আপত্তি করে থাকে, কিন্তু বাস্তব সত্য হলো যে সামাজিক ভাবে এমন কোন কাজের নজির নেই যার সুচনাতে কেউ না কেউ কোন আপত্তি না তুলে থাকে। এত সব আপত্তি উত্থাপন করার পর আমি তাদের এই জবাব দিয়ে থাকি। আরে ভাই কাজটি খুবই মঙ্গল জনক আর যেহেতু আল্লাহ পাক একজন বিশিষ্ট আলেমও বুজুর্গ ব্যক্তির অন্তরে এই পবিত্র কাজের ধরন ও পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছেন বিধায় নিঃসন্দেহে এটা অত্যন্ত ভাল কাজ।

হ্যাঁ যদি এটা কোন নেতার চিন্তা গভেষনার মাধ্যমে আবিষ্কৃত হতো তাহলে হয়তো বা এটা বুঝা যাইত যে এর দ্বারা কোন রাজনৈতীক ফায়দা হাছিল করার হীন সার্থে এর আবিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু এটা যেহেতু একজন আল্লাহওয়ালা বুজুর্গ ব্যক্তির চিন্তা গভেষনার দ্বারা আল্লাহ তায়ালা তার মাধ্যমে সমাজে চালু করিয়েছেন সেহেতু এই কাজের মধ্যে অবশ্যই কোন খায়ের নিহীত আছে।

বর্তমান যুগে মানুষের আত্নশুদ্বী লাভ করার এক উত্তম তরীকা বা পদ্ধতি হল দাওয়াত ও তাবলীগের মেহেনতের উদ্দেশ্যে আপন জানও মাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়া। আর এই মেহেনতের বরকত সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।

আমি একবার ফ্রান্স সফরে গেলাম সেখানেতো আর আমার পরিচীত কেউ নাই এর পরেও সেখানে গিয়ে দেখি আমাকে ইস্তেকবাল বলার জন্য হাজারো মানুষ আমার জন্য অপেক্ষমান রয়েছে।

এই দৃশ্য দেখে আমি আশ্চার্য্যাহ্নিত হলাম ও মনে মনে ভাবতে লাগলাম যে আমি এই প্রথমবারই ফ্রান্সে আসি আর এখানে আমার জন্য এত মানুষ অপেক্ষা করছে এবং আমার জন্য একজন খাদেমও নিযুক্ত করা ছিল সেই খাদেমের সহযোগীতায় আমাকে গন্তব্যস্থানে পৌছে দেয়া হল। আসলে তাদের এই খিদমাত ও আন্তরীকতা প্রদর্শন এটা তাদের মহব্বত আর ভালবাসারই বহিপ্রকাশ অথচ আমি ব্যক্তিত্বহীন সাধারন একজন লোক মাত্র। কিন্তু এরপরেও হৃদয়ের ভালবাসার টানে দুর দুরান্ত থেকে মানুষ আমার এখানে দলে দলে সমবেত হইতেছে।

উপস্থিত জনতা সেখানে একটি জলছার ব্যবস্থা করে আমাকে মাহফিলে কিছু বয়ান করার অনুরোধ করল। কিন্তু সমবেত প্রায় সকলেই আরবী ভাষা-ভাষী আমি তাদের উদ্দেশ্যে বললাম যে আমি আরবী ভাষা কিতাবে অধ্যায়ন করেছি সত্য কিন্তু আরবী ভাষায় কথা বলতে হলে চর্চার বিশেষ প্রয়োজন। তাই আরবী ভাষায় বয়ান না করার অপারগতার কথা জানিয়ে ওজর খাহী পেশ করে উর্দু ভাষায় বয়ান করার কথা ঘোষনা করলাম। এবং আমার উর্দু ভাষায় বয়ানের আরবী তরজমা করার প্রস্তাব দিলাম।

কিন্তু সেখানকার আরবী ওয়ালারা দরখাস্ত করলো যে আমরা হযরতের জবানে মাত্র পাচ মিনিটের জন্য হলেও আরবী ভাষায় বয়ান শুনবো। যা হোন তাদের অনুরোধ রক্ষার্থে যতটুকুই সম্ভব হয়েছে ১৫/২০মিনিটের জন্য হলেও আরবী ভাষাতেই কিছু বয়ান করেছি। আমেরিকা, ফ্রান্স, সহ বিভিন্নদেশের সর্বত্রই এই তাবলীগ জামাত দেখেছি।

সারা বিশ্বে তাদের উপস্তিতি এটা আল্লাহতায়ালার মকবুলিয়্যাত ছাড়া আদৌ সম্ভব নয়। এই দাওয়াতও তাবলীগের মেহেনতের দ্বারা প্রত্যেকের দিলের মধ্যে বিশেষ এক ধরনের প্রভাব লক্ষকরেছি সর্ব সাধারনের মাঝে এই কাজের প্রভাব বিস্তারকরা, এই মেহেনতকে নিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরা এত সব কিছুই আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে কবুলিয়্যাতের প্রমান বহন করে। এবং এই কাজের ধারাবাহীকতা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারীত হয়েছে।

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।