TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

অলোয়ায় প্রাইমারি স্কুল স্থাপন

 অলোয়ায় প্রাইমারি স্কুল স্থাপন


সেই দিন এই এলাকা-বাসীদের জন্য বড়ই শুভদিন খুশির দিন গৌরব ও গর্বের স্মরণীয় দিন, যেদিন মওলানা দরবেশ আহমদ অলোয়া এবং আশ-পাশের কয়েক গ্রামের মাতাব্বরদের নিয়ে সেই নির্দিষ্ট জমিটিতে একটি প্রাইমারী স্কুল ঘর তুলে ফেললেন। সবার মনে প্রাণে নতুন কাজের নতুন উৎসাহ ও আনন্দ। এলাকায় সাড়া পড়ে গেল নতুন স্কুল স্থাপনের।


হঠাৎ শুভ কাজটিতে বাঁধা পড়ে গেল। তৎকালীন শিয়ালকোল ইউনিয়নের প্রভাবশালী প্রেসিডেন্ট উমেশ চন্দ্র ঘোষ মওলানা দরবেশ আহমদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করলেন। পুলিশ তাঁকে ধরে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠায়। তিনি জামিনে মুক্তি লাভকরে মামলা চালাতে থাকেন। মামলায় তিনি জয়লাভ করে অলোয়াতে পুরোদমে স্কুল চালাতে লাগলেন। চারদিকে মওলানা দরবেশ আহমদের সুনাম সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়লো। মুসলমানগণ মওলানার সঙ্গে সকল কাজে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেল। তারা ভালো ভাবে বুঝতে পারলো হিন্দুরা মুসলমানদের সকল ভালো কাজে এ যাবত যেমন বাঁধা দিয়ে আসছে তেমনি বাঁধা দিতেই থাকবে।


স্কুল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে উমেশ ঘোষের বিরোধীতা দরবেশ আহমদের জন্য শুভ হলো। তাঁর সঙ্গে এলাকার অনেক লোক ঐক্যবদ্ধ হলো। ঘোষ মশাই নিজের দোষ বুঝতে পেরে মওলানা দরবেশ আহমদের কাছে এসে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। মওলানা প্রতি জনগণের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আরো বেড়ে গেলে।


উমেশ চন্দ্র ঘোষ ছিল এ এলাকায় প্রতিপত্তিশালী এবং অত্যাচারি। তার ছিল সুদের ব্যবসা। মুসলমানরাই ছিল সুদের গ্রাহক। গ্রাহকদের কাছ থেকে সুদের টাকা আদায়ের জন্য কিছু লোক ছিল। তারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা আদায় করতো। যারা সুদের টাকা সময় মতো পরিশোধ করতে পারতো না, তাদের ছাগল, গরু জোর করে ধরে নিয়ে যেতো। ছাগল, গরু না থাকলে বউ ঝির গহনা অথবা চালের টিন খুলে নিতো। করো ঋণের টাকার পরিমান বেশি হয়ে গেলে তাদের জমি লিখে নিতো। উমেশ ঘোষের সুদের টাকা আদায়ের এই লোকদেরকে এলাকার লোকেরা কষাই বাহিনী নাম দিয়ে ছিল। কিন্তু কেউ মুখ খুলে তার বিরুদ্ধে কোনো কথা বা কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে সাহস পেতো না।


দরবেশ আহমদের বিরুদ্ধে মামলা করে উমেশ ঘোষ পরাজিত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলে মুসলমানদের মনে কিছু সাহস সঞ্চয় হয়। লোকে কিছু কিছু কথা বলতে শুরু করে। এবার মাঠের রাখালরা পথে ঘাটে ছড়া কাটতে থাকে:


১. উমেশ চন্দ্র ঘোষ করে

 ফোঁস ফোঁস?

নিজের দোষ ঢেকে বলে

দরবেশ সাবের দোষ।


২. উমেশ চন্দ্র ঘোষ

করে ফোঁস ফোঁস

ঘুষ পেলে উমেশ বাবুর

দিল হয় খুব খোশ।


৩. ঘোষ ঘোষ ঘোষারে

ভীষণ রক্ত চোষারে।

উমেশ চন্দ্র মশাই

মানুষ নয় টানুষ নয়

আস্ত একটা কষাই।

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।