ইহরাম
'ইহরাম' শব্দটি আরবী। এর আভিধানিক অর্থ হারাম বা নিষিদ্ধ করা। হজ্ব ও উমরা পালনেচ্ছুক ব্যক্তিগণ যখন ইহরাম বেঁধে হজ্ব অথবা উমরা পালন করার দৃঢ় নিয়তে তালবিয়া পাঠ করেন তখন তাদের উপর কতিপয় হালাল এবং মুবাহ কাজ ও ইহরামের কারণে হারাম হয়ে যায়। এ কারণে একে 'ইহরাম' বলে।
ইহরাম বাঁধার নিয়ম ও সুন্নত তরীকা:
ক্ষৌরকার্য এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর গোসল করা সুন্নাত। কোন কারণে গোসল করতে না পারলে ভালভাবে ওযু করে নিবেন। অতঃপর সেলাইবিহীন কাপড় তথা ইহরামের কাপড় পরিধান করুন। এরপর ইহরামের নিয়তে দুই রাকাত সুন্নাতুল ইহরাম নামায আদায় করুন। প্রথম রাকআতে সূরা ফাহিতার পর সূরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ইখলাস পাঠ করা উত্তম। অতঃপর সালাম ফিরানোর পর কাবা শরীফের দিকে মুখ করে বসবেন এবং মস্তক
অনাবৃত করে আপনি যে হজ্বটি করবেন তা নির্ধারণ করে পূর্বে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী নিয়ত করবেন। নিয়ত শেষ হলে তিনবার (পুরুষ হলে) প্রথমত: উচ্চস্বরে অতঃপর ক্রমান্বয়ে আস্তে আস্তে তালবিয়া পাঠ করবেন:
তালবিয়া:
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ .
উচ্চারণ: "লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল-হামদা লাকাওয়ালমুলকা, লা শারীকা লাকা। ওয়ান্নিমাতা
অর্থ: "আমি উপস্থিত, আল্লাহ। আমি উপস্থিত। আমি উপস্থিত, তোমার কোন শরীক নাই, আমি উপস্থিত। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নিয়ামত তোমার এবং রাজত্বও তোমারই তোমার কোন শরীক নাই"।
অতঃপর দরুদ শরীফ পাঠ করবেন এবং যা ইচ্ছা প্রার্থনা করবেন। তালবিয়া পাঠ করার পর নিম্নের দোয়াটি পাঠ করা। মুস্তাহাব।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ رِضَاكَ وَالْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَضَبِكَ
وَالنَّارِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আছআলুকা রিদাকা ওয়াল জান্নাতা ওয়া আউযুবিকা মিন গাদাবিকা ওয়ান্নারী।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট তোমার সন্তুষ্টি ও জান্নাত চাই এবং তোমার ক্রোধ ও জাহান্নাম হতে পানাহ চাই।
নিয়ত ও তালবিয়া পাঠ করার পর ইহরাম বাঁধার কাজ সমাপ্ত হয়ে যায়। এরপর হতে ইহরাম অবস্থায় যে সব কাজ নিষিদ্ধ তা বর্জন করে চলবেন।
