সিরাজগঞ্জ প্রজা সম্মিলনী
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৩২ সালের ডিসেম্বরে সিরাজগঞ্জ প্রজা সম্মিলনীর আয়োজন করেন। হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী সম্মিলনীর উদ্বোধন করলেন। খান বাহাদুর আবদুল মোমিন সভাপতি। এই সম্মিলনী নিখিল বঙ্গ প্রজাসমিতির উদ্যোগে হয়নি। মওলানা ভাসানী নিজের দায়িত্বে ডেকে ছিলেন। সুতরাং শেষ পর্যন্ত এটি একটি জিলা প্রজা সম্মিলনীতেই পর্যবসিত হতো। কিন্তু একটি বিশেষ ঘটনায় এই সম্মিলনী সারা দেশীয় গুরুত্ব লাভ করে। সিরাজগঞ্জের এস ডি ও, মওলানা ভাসানী ও সম্মিলনীর অভ্যর্থনা সমিতির মেম্বারদের উপর ১৪৪ ধারা জারি করেছিলেন। হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী সাহেব ও মোমিন সাহেব এই নিয়ে গর্ভনরের সঙ্গে দরবার করেন। শেষ পর্যন্ত গর্ভনর এস ডি ও এর আদেশ বাতিল করান। এই ঘটনা খবরের কাগজে প্রকাশিত হওয়ায় বাংলার প্রায় জেলা থেকে প্রজা-কর্মীরা বিনা নিমন্ত্রণে এই সম্মিলনীতে বাঁধ ভাঙ্গা স্রোতের মতো এসে উপস্থিত হন। আবুল মনসুর আহমদ তাঁর 'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' গ্রন্থে লিখেছেন: যথাসময়ে সম্মিলনী শুরু হইল। সমবেত জনতার এক চতুর্থাংশ লোক প্যান্ডেলের চারিপাশ ঘিরিয়া বসিল। মঞ্চোপরি বসিয়া চারিদিকে চাহিয়া অবাক হইলাম। জনতার তিন চতুর্থাংশ লোক কচুরির পানার মতো ভাসিয়া বেড়াইতেছে। বাকী মাত্র এক চতুর্থাংশ লোক সভায় বসিয়াছে। তবু সভার আকার এত বিশাল যে উহাদের সকলকে শুনাইয়া বক্তৃতা করিবার মত গলা অনেক নেতারই নাই। কাজেই তৎকালে সভায় মাঝখানে প্যান্ডেল করিয়া যাত্রাগানের আসরের মত বক্তারা মঞ্চের উপরে চারিদিকে ঘুরিয়া ঘুরিয়া বক্তৃতা করিতেন। বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে তৎকালে মাইক ছাড়াই নেতারা বড় বড় সভার বক্তৃতা করিতেন এবং শ্রোতারা নীরবে কান পাতিয়া শুনিত। সুরেন্দ্রনাথ ব্যনার্জী, বিপিন পাল, দেশ বন্ধু চিত্তরঞ্জন, মহাত্মা গান্ধী, অধ্যাপক জে. এল ব্যনার্জী, মৌলবী ফজলুল হক, মওলানা আজাদ, মওলানা আকরাম খাঁ, মৌলবী ইসমাইল হোসেন সিরাজী, মওলানা আবদুল্লাহিল বাকি, মওলানা দরবেশ আহমদ, আমার শশুড় মওলানা আহম্মদ আলী আকালুবী, আমার চাচা শশুড় মওলানা বিলায়েত হোসেন প্রভৃতি নেতাদের সানাইর মত স্পষ্ট গলার বলন্দ ছিল।
উল্লেখ্য এই বিশাল সম্মিলনীতে মওলানা দরবেশ আহমদ টাঙ্গাইল, করটিয়া অঞ্চলের বহু কর্মী নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন।
এই সম্মিলনীতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন ও গৃহীত হয়।
তাদের মধ্যে কয়েকটি হলো: ১. জমিদারি উচ্ছেদ, ২. খাজনার নিরিখ হ্রাস, ৩.
চক্রবৃদ্ধি সুদ বেআইনী ঘোষণা, ৪. নজর সেলামি বাতিল ইত্যাদি।
