TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

বন্ধু নির্বাচন

    ইতিপূর্বে যে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে যে সংশোধনের দ্বিতীয় পদ্ধতিতে কোন বন্ধুর সাহায্য নেয়া প্রয়োজন। সুতরাং বন্ধু নির্বাচনেও খুব ভেবে চিন্তে করতে হবে। কারণ পৃথিবীতে একই প্রকৃতি, স্বভাব ও মনমানসিকতার হয়না বরং তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মতও পার্থক্য বিদ্ধমান।

জনৈক কবি বলেন:

دلا اندر جها ایران سه قسم اند زبانی اندونانی اندجانی بنانی نان بده از در بدر کن تلطف کن بسیاران ربانی ولیکن یارجانی را بدست آر مداراتش بگیری تا توانی

অর্থাৎ বন্ধু তিন প্রকার।

১ম প্রকার দস্তরখানী দোস্ত। যদি আল্লাহ তায়ালা দস্তর খানা ছালামত বা সমৃদ্ধশালী রাখেন তবে এই প্রকারের বন্ধুর কোন অভাব নেই অনায়াসে প্রচুর পাওয়া যাবে।

২য় প্রকার যবানী দোস্ত। এদের ও পৃথিবীতে কোন অভাব নেই।

৩য় প্রকার বন্ধু হল জানি অর্থাৎ আন্তরীক ও সত্যিকার বন্ধু যারা শুধু শুখের সময় নয় বরং দুঃখের সময় ও কঠিন বিপদের সময়ও বন্ধুর পাশে থাকে। এই প্রকৃতির বন্ধুর সংখ্যা নিতান্তই কম। যারা দস্তরখানী বন্ধুর রূপ ধারন করবে তাদের কথাতো মোটেও কর্ণপাত করা যাবে না। কেননা যখন দস্তরখানা সংকোচীত হয়ে আসবে তখন তাদের বন্ধুত্ব ও নিশ্বেস হয়ে যাবে। অবশ্য তাদের ইচ্ছা ও চাহিদা পুরণ করে সামান্য কিছুর বিনিময়ে পিছু হটে যেতে হবে। আর যারা যবানী বন্ধুত্ব করে তাদের সাথেও জবানী বন্ধুত্ব রাখতে হবে।

যেমন জনৈক কবি কোন এক বাদশার প্রশংসা করে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। তার সিংহাসনকে সপ্তআকাশের চেয়ে উর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। তার মাথার মুকুটকে নক্ষত্রের মত উজ্জল তুলনা করে আরো বিভিন্ন ধরনের প্রশংসা করেন। আবৃত্তি শেষ হওয়ার পর তাকে দুইশত স্বর্ণমুদ্রা দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে পরবর্তিতে সাক্ষাতের কথা বলেন। কবি অত্যন্ত খুশি হয়ে পুরষ্কার লাভের আশায় অপেক্ষা করতে থাকে।

ঘড়ে ফিরে সে এই আকাঙ্খা পোষন করে যে, বাদশার পক্ষ থেকে দুইশত মুদ্রাতো মিলবেই, তাই সে পাচশত টাকা ঋন করে উত্তম খাবারের ব্যবস্থা করে আত্মীয় স্বজনদের মেহমানদারী করে। ভাল ভাবে কাপড়-চোপর ক্রয় করে। নতুন পোষাক পরিধান করে।

কিছু দিন পর পুরস্কার লাভের আশায় রাজদরবারে হাজির হয়ে বাদশার দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য ছালাম পেশ করল, বাদশা তার দিকে ফিরেও তাকালেন না। দ্বিতীয়বার পুনরায় ছালাম দিল তাতেও কোন ভ্রুক্ষেপ করলেন না। তৃতীয়বার কাশি দিয়ে বাদশার দৃষ্টি আকর্ষন করতে ব্যর্থ হলো। অবশেষে বলেই ফেলল কিছু দিন পূর্বে আপনার শানে কবিতা পাঠ করেছিলাম। আপনি এর বিনিময়ে আমাকে দুই হাজার স্বর্ণ মুদ্রা দানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বান্দা হাজির। আমীর সাহেব মাথা উত্তোলন করে বললেন ভাই তুমি যেই কবিতা আবৃত্তি করেছিলে তাতে তো শুধু শব্দই শব্দ ছিল বাস্তবতার সাথে তার কোন সম্পর্কই ছিলনা। শব্দের প্রাচুর্যের দ্বারা তুমি আমাকে খুশি করেছিলে, তাই আমিও তোমাকে শব্দের দ্বারা খুশি করে ছিলাম। যেরূপ তুমি আমাকে দিয়েছিলে তদ্রুপ আমিও তোমাকে দিয়ে দিয়েছি। এখন আর কি চাই?

একথা আলোচনা করছিলাম যে, বন্ধুদের মধ্যে এক ধরনের এমন হয় যারা শুধু শব্দমালার প্রাচুর্য ব্যবহার করে যাদের কথায় বাস্তবতা বলতে কিছুই নেই। সম্পূর্ণ বাস্তব এর বিপরীত হয় এমন বন্ধুদের কথায় ভরষা করতে নাই। কিন্তু এমন কিছু বন্ধু আছে বিপদাপদে কাজে আসে, নিজে দুঃখ কষ্ট সহ্য করে কিন্তু বন্ধুর গায়ে একটু আচড় লাগতে দেয়না। এমন বন্ধু হাজারে একজনই মিলে।

কবি তার কবিতায় এই ধরনের তৃতীয় প্রকার বন্ধুর কথা উল্লেখ করে তার সাথে আন্তরিক সম্পর্ক করে তার মহব্বত আর ভালবাসাকে যথার্থ মূল্যায়ন করার জন্য নছিহত পেশ করেন। যাহোক আত্মশুদ্ধির জন্য যদি কোন শায়েখ বা বুজুর্গ ব্যক্তি না পাওয়া যায় তবে আপন বন্ধুদের মাধ্যমেই আত্মশুদ্ধির পথ বেছে নেয়া উচিৎ।

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।