তিনি এলেন অলোয়া
তিনি এলেন অলোয়া
প্রকৃত প্রস্তাবে তিনি কত সনে অলোয়ায় আসেন, তা সঠিকভাবে বলা আজ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে মনে হয় মওলানা দরবেশ আহমদ অলোয়াতে আসেন বিংশ সূচনা লগ্নেই তাঁর অলোয়ায় আগমন। তাঁর আগমনের এক চমৎকার কাহিনী বর্ণনা করেছেন শ্রী রাখাল চক্রবর্তী। শিয়ালকোল হাট থেকে ফিরছেন মৌলানা সাহেব। অলোয়ায় পথে শুনলেন তাঁর বাড়ী আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। শোনামাত্র তিনি মোনাজানত করলেন
হাত তুলে এবং হাতের লাঠি ঠুকলেন মাটিতে আর বললেন এইখানেই হবে তাঁর নতুন বাসস্থান। আর এই ভাবেই বাসস্থান হবার পৌরব পেল অলোয়া। অলোয়া তখন ছিল হিন্দু প্রধান গ্রাম।
তাঁর শ্বশুর বাড়ি-ঘর তৈরিতে সার্বিক সহযোগিতা করেন। ভেতরে থাকার একটি ঘর, বাইরে বৈঠকখানা, মেহমান খানা আর তার পাশে হাসপাতাল করার উপযোগী একটি বড় ঘর তৈরি হলো। করে একটা স্থায়ী ঠিকানা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি গ্রামে এসে মওলানা বাড়ি এসেই হাসপাতাল চালু করলেন এবং একজন লোক নিয়ে তাঁদেরকে প্রশিক্ষণ দিলেন। এরপর থেকে মওলানা দরবেশ আহমদ টাঙ্গাইল শহরের হাসপাতাল এবং অলোয়া নিজ বাড়ির হাসপাতল দুটি এক সঙ্গে চালাতে লাগলেন। হাসপাতাল চালু করার পরেই দরবেশ আহমদের মনে পড়ে গেল হাফেজ মাহমুদ আলী খান পন্নী সাহেবের সেই উপদেশ বাণী গ্রামে চলে যান, মকতব, মাদরাসা ও স্কুল স্থাপন করে শিক্ষার আলো চারদিকে ছড়িয়ে দিন। মুসলমানদের দুরবস্থার কারণ যে শিক্ষার অভাব তা গ্রামে গ্রামে মানুষ ডেকে সভা করে বুঝিয়ে দিন। গ্রামে অজ্ঞ মূর্খ মানুষ ইচ্ছে করে কেউ আপনার কাছে আসবে না, আপনাকেই তাদের কাছে যেতে হবে। তাদের পথ দেখাতে হবে তাদের ঘরে জ্ঞানের আলো জ্বেলে দিতে হবে।..
তাঁর মনে পড়লো দেওবন্দ মাদরাসার হুজুরদের প্রণদায়িনী জাগরণমূলক উপদেশ:
জ্ঞান জুব্বার পকেটে আর মাথার পাগড়িতে ভরে রাখলে লাভ নেই, লাভ হলো তা বিতরণের মাঝে, প্রচারের মাঝে। আপনাদের অর্জিত জ্ঞানের আলো দিয়ে দেশের মানুষের অন্ধকার ঘর আলোকিত করতে না পারেন তবে জ্ঞান অর্জন বৃথা এবং জীবন ও বৃথা।
তাঁর মনে পড়তে লাগলো মওলানা মনিরুজ্জামান এছলামাবাদীর রাজনীতির কথা, ফুরফুরার পীর হযরত মওলানা আবু বকর সিদ্দিকী (রাঃ) এর কথা, মৌলবী নঈম উদ্দীনের অক্লান্ত সাধনার কথা আর মুনশী মেহেরুল্লার সংগ্রামী জীবনের কথা। ভাবতে ভাবতে তিনি উৎসাহ ও আবেগে ফুলে ওঠলেন। তিনি কর্মের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ার সংকল্প গ্রহণ করলেন।
মওলানা দরবেশ আহমদ নতুন বাড়ি এসে নতুন পরিবেশে কাজ করার জন্য একদিন তাঁর বৈঠক খানায় গ্রামের কয়েকজন মুরব্বীদের ডেকে তাঁর মনের কথা অর্থাৎ কাজের কথা বললেন। তিনি বললেন, গ্রামে একটি স্কুল স্থাপন করা প্রয়োজন, শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের আত্মসচেতনতা জাগিয়ে তোলা প্রয়োজন। মওলানার বক্তব্য সবাই শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করলেন, স্কুলের জন্য একজনে জমি দিতে রাজি হলেন এবং সবাই তাঁকে এ কাজে সহযোগিতা করার স্বীকৃতি ও দিলেন।
