শিক্ষা জীবন: নোয়াখালী
সেকালে প্রত্যেক মুসলিম পরিবাবে ইসলামী শিক্ষা চালু ছিল। গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় কোন বাড়ির বাংলা ঘরে অথবা উঠোনে চট বিছিয়ে বসে ছেলে মেয়েরা সকাল বেলা কিছু সময় আরবি, বাংলা ও অংক শিখতো। সাফায়াত উল্লাহর বাড়িতে এ রকম শিক্ষার ব্যবস্থা ছিল। দরবেশ আহমদ বাড়িতেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর স্মৃতিশক্তি ছিল অসাধারণ। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে তিনি কুরআনের কয়েকটি সূরা ও দোয়া কালাম মুখস্ত করে ফেলেন। পুত্রের স্মৃতিশক্তি ও লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে সাফায়াত উল্লাহ খুব খুশি হন এবং তাঁকে উচ্চ শিক্ষা দেবার চিন্তা করতে থাকেন। আশে পাশে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় কোথায় তাঁকে পড়ানোর ব্যবস্থা করা যায়, এ চিন্তায় তিনি অস্থির হয়ে পড়েন।
এ সময়ে ফুরফুরার শরীফের পীর হযরত আবু বকর সিদ্দীকী (র.) এর অনেক খলিফা বাংলা ও আসামের বিভিন্ন স্থানে আস্তানা করে ইসলাম প্রচার করতেন। তাঁরই একজন খলিফা তখন নোয়াখালী এসে আস্তানা করেছিলেন। তিনি বর্ষাকালে নৌকা নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে ইসলাম প্রচার করতেন। বাংলাদেশে বিভিন্ন স্থানে তাঁর অনেক ভক্ত শিষ্য হয়েছিলেন। তিনিই ছিলেন এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারক এবং পীর। একবার এক বর্ষায় সেই পীর সাহেব নৌকো নিয়ে রামপুর আসেন। পীর সাহেবের শিষ্যগণ গ্রামের লোকজন ডেকে সাফায়াত উল্লাহর বাড়িতে জমায়েত করেন। পীর সাহেবের লোকজনের কাছে খুব সহজ ভাষায় ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব মহত্ব ও সৌন্দর্যের বয়ান করেন। মুসলমানদের দায়িত্ব কর্তব্য কি, মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা, বর্তমান অবস্থার কারণ কি, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কি বুঝিয়ে দেন তিনি। তিনি বলেন, একমাত্র অশিক্ষার কারণেই বর্তমান মুসলমানদের সকল দুর্গতি তাই মুসলমানদের এখন শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
সাফায়াত উল্লাহ এতো দিনে যেনো একটা পথের সন্ধান পেলেন। তিনি দরবেশ আহমদকে পীর সাহেবের সঙ্গে শিক্ষার জন্য পাঠাবার নিয়ত করলেন। দরবেশ আহমদের বয়স তখন দশ বছর। তিনি পীর সাহেবকে বলে কয়ে পুত্রের শিক্ষার জন্য তাঁর হাতে তুলে দিলেন ১৮৬৫ সালে। দরবেশ আহমদ নোয়াখালীতে লজিং থেকে পীরের সান্নিধ্যে লেখাপড়া শুরু করেন। পাঁচ বছর তিনি সেখানে লেখাপড়া করেন। অতপর পীর সাহেব তাঁকে উচ্চ শিক্ষা লভের জন্য হিন্দু স্থান গমনের পরামর্শ দেন ১৮৭০ সালে।
