TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

হজ্ব সম্পর্কিত কতিপয় পরিভাষা এবং বিশেষ স্থানের ব্যাখ্যা

ইহরাম: ইহরাম আরবী শব্দ। আভিধানিক অর্থ হারাম বা


নিষিদ্ধ করা। কোন ব্যক্তি যখন হজ্ব অথবা উমরাহ এর নিয়্যত করার পূর্বে দু প্রস্থ সেলাইবিহীন সাদা কাপড় পরিধান করেন এবং তালবিয়া পাঠ করেন, তখন তার জন্য কতিপয় হালাল এবং মুবাহ কাজ ও ইহরামের কারণে নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এ জন্যই একে ইহরাম বলা হয়। ইহরাম অবস্থায় হাজী যে দু'টো চাদর ব্যবহার করে একেও রূপক অর্থে ইহরাম বলে।


মীকাত: "মীকাত" একটি আরবী শব্দ। এর আভিধানিক


অর্থ নির্দিষ্ট সময় বা স্থান। হারাম সীমানায় প্রবেশে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য ইহরাম ছাড়া যে স্থান অতিক্রম করা জায়েজ নয় শরীয়তের পরিভাষায় সে স্থানকে মীকাত বলে। বাংলাদেশিদের জন্য মীকাত হলো ইয়ালামলাম পাহাড়। মক্কা নগরীর সর্বদিকে প্রবশে পথে পাকা খুঁটি দ্বারা মীকাত নির্ধারণ করা আছে।


তাওয়াফ: আভিধানিক অর্থ কোন কিছুর চতুষ্পার্শ্ব প্রদক্ষিণ করা, শরীয়তের পরিভাষায় বাইতুল্লাহ শরীফের চতুর্দিকে প্রদক্ষিণ করাকে তাওয়াফ বলা হয়।


তাওয়াফের নিয়ম: তাওয়াফ আরম্ভকারী ব্যক্তি হাজরে


আসওয়াদ পাথর (কালো পাথর) বরাবর রেখার উপর দাঁড়িয়ে তাওয়াফের নিয়ত করতঃ কাবাঘর ঘুরে পুনরায় উক্ত রেখায় আসা। এমনভাবে সাতটি চক্কর দেয়ার নাম তাওয়াফ।


সাঈ: সাঈ শব্দের অর্থ দৌড়ানো। সাফা ও মারওয়া হচ্ছে মসজিদে হারাম সংলগ্ন দুইটি পাহাড়। এই পাহাড় দুইটি সেই ঐতিহ্যবাহী স্থান যে স্থানে হযরত হাজেরা (আ.) পানির সন্ধানে দৌড়াইয়াছিলেন।


হজ্বের অধ্যায়ে সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মধ্যখানে বিশেষ পদ্ধতিতে সাত চক্কর দৌড়ানোকে সাঈ বলা হয়।


মাতাফ : (তাওয়াফ করার জায়গা) অর্থাৎ কাবা ঘরের চতুর্দিকে খোলা আকাশের নীচে প্রশস্থ অঙ্গন। যেখানে হাজী সাহেবগণ আল্লাহর ঘরের চতুর্দিকে ঘুরেন বা চক্কর দেন।

মুলতাযাম: হাজরে আসওয়াদ থেকে কাবা ঘরের দরজা পর্যন্ত স্থানটিকে 'মুলতাযাম' বলে। [তাওয়াফকারী ব্যক্তিরা মাথা, গাল সহ পুরো দেহকে লাগাইয়া দোয়া করেন।]


মাকামে ইবরাহীম: এটি জান্নাতী নিলকান্তমনি পাথর, এর


উপরে ধারণকৃত হযরত ইবরাহীম (আ.) এর পদযুগলের চিহ্ন বিদ্যমান রয়েছে। হযরত ইবরাহিম (আ.) এর উপর দাঁড়িয়ে কাবাঘর নির্মাণ করেছিলেন। এর পেছনেই তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামায পড়তে হয়।


হাতীম: কা'বা ঘরের উত্তরাংশে ধনুকের ন্যায় দেয়াল ঘেরা স্থানটির নাম 'হাতীম'। তাওয়াফকালীন সময়ে এই দেয়ালের বাইরে দিয়ে তাওয়াফ করতে হয়। এই অংশটি হযরত ইবরাহীম (আ.) এর নির্মিত কা'বা ঘরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর ভেতর নামায আদায় করার মানেই হল কাবা ঘরের ভিতরে নামায পড়া।


মীযাবে রহমত: কা'বা ঘরের উত্তরে দেয়াল ঘেরা অংশের


উপরে কা'বা ঘরের ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি নীচে পড়ার নালাটিকে 'মীযাবে রহমত' বলে। এ স্থানটিতে দোয়া কবুল হয়।


রমল: কা'বা ঘরের তাওয়াফকালীন প্রথম তিন চক্করে ছোট ছোট কদমে বীর দর্পে বাহু হেলিয়ে দুলিয়ে তাওয়াফ করার নাম রমল।


ইজতিবা। ইহরামের কাপড় পরিধেয় অবস্থায় তাওয়াফ শুরু করার প্রাক্কালে গায়ের চাদরের ডান মাথাটি ডান হাতের বগলের নীচ থেকে পেঁচিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের উপর রাখা।

দম: ইহরাম অবস্থায় কোন নিষিদ্ধ কাজ করার কারণে বকরী/দুম্বা জবাই করার যে জরিমানা হয়, তাকে 'দম' বলে।


ওকুফে আরাফাহ : ৯ই জিলহজ্ব পবিত্র হজ্ব পালনের মহান


উদ্দেশ্যে দ্বি-প্রহরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাত ময়দানে অবস্থান করা উল্লেখ্য যে, ৯ই জিলহজ্বের দ্বি প্রহরের পর থেকে সুবহে সাদেকের পূর্ব পর্যন্ত কোন একটি মুহুর্ত আরাফাত ময়দানে অবস্থান করলে হজ্বের ফরজ আদায় হয়ে যায়।


মাশআ'রুল হারাম: এটি মুযদালিফায় অবস্থিত। মুযদালিফার মসজিদের নিকটবর্তী স্থান সমূহকে মাশআ'রুল হারাম বলে।


জামারাত: তিন শয়তানকে পাথর নিক্ষেপণের জায়গা।


রমী: মিনায় অবস্থিত তিনটি শয়তানের উপরে ১০, ১১, ১২ এবং ১৩ ই জিলহজ্জ তারিখে নিয়মানুযায়ী পাথর নিক্ষেপ করাকে রমী বলে।


Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।