TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

গুণাবলীর দ্বারাই মানুষ মুল্যবান ও সম্মানীত হয়

    আপনারা অবগত আছেন যে স্বভাব গত ভাবেই আল্লাহ তায়ালার মধ্যে সৌন্দর্য আর গুনাবলী স্বয়ংসম্পূর্ণতা আর পরিপূর্ণতা বিদ্বমান রয়েছে।

অপর দিকে সৃষ্টি জীবের মধ্যে স্বভাবগত গুনাবলী আর পূর্নতা বলতে কিছুই নেই। সর্বজন স্বীকৃত যে, এজগতের প্রত্যেক বস্তুর মূল্যায়ন ও সম্মান তার গুণাবলী দ্বারা হয়। যার মাঝে অধিক গুণের সমাবেশ ঘটবে তার মূল্যায়ন ও সম্মান সে অনুপাতেই হবে। সে মর্যাদার উচ্চ শিখরে আরোহন করার সৌভাগ্য লাভ করবে। এলেমের অধিকারি হওয়ার ফলে আপনি একজন আলেম ব্যক্তিকে সম্মান প্রদর্শন করে থাকেন। তিনি যদি আপনার ওস্তাদ হন তাহলে তো তিনি অধিক সম্মানীত ব্যক্তি হবেন। ঘটনা চক্রে যদি তিনি হাকিম বা বিচারক হয়ে থাকেন তবে তো অত্যাধিক সম্মানে ভূষিত হবেন।

মোট কথা মানুষের গুণাবলী যে পরিমান বৃদ্ধি পাবে সে ব্যক্তি সেই পরিমান সম্মানীত হবে। আমরা সবাই জানি যে মানুষের মাঝে স্বত্তাগত কোন গুণ নেই। গুন হল একটি আরোপিত বস্তু যা কোশেষ আর মেহেনতের দ্বারা হাছিল করতে হয়। আর এ জন্যেই আপনারা আপন সন্তানাদীর লালন পালন করেন ও শিক্ষা দীক্ষা দানে ব্রতি হয়ে থাকেন। যদি সে লেখা পড়া থেকে নিজেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে তাহলে তাকে বিশেষ গুনে গুনান্নিত করার কৌশলে প্রলোভন দেখিয়ে লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার প্রচেষ্টা করে থাকেন।

যা হোক আপনাদের তো এতটুকু কথা বুঝে আসছে যে পৃথিবীর প্রত্যেক জিনিসের মূল্যায়ন তার বিশেষ গুনের দ্বারা প্রতীয়মান হয়ে থাকে।

সন্দেহাতীত ভাবে বলা যায় যে সকল আম্বিয়ায়ে কিরাম (আঃ) গণই সম্মানীত ছিলেন। আবার তাদের মধ্যে ছাইয়্যেদুল আম্বিয়া (সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম) এর পবিত্র সত্ত্বা বরকতও সম্মান এর দৃষ্টিতে সর্বোচ্চ স্থানের অধিকারী ছিলেন। নবুওয়াত ও রিসালাতের জন্যই তিনি এই সম্মানে ভূষিত হয়ে ছিলেন। রিসালাতের কারনেই তার অনুসরন করা আমাদের জন্য অবশ্য করনীয়। এপ্রসংগে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন: হে মানবসকল আমি যদি শরীয়াতের হুকুম বর্ণনা করি তবে তাহা মেনে নেয়া তোমাদের জন্য অবশ্য কর্তব্য। আর যদি ব্যক্তিগত পরামর্শ দেই তবে তা মেনে নেয়া অত্যাবশ্যকীয় নয়। এটা অবশ্য ভিন্ন কথা যে প্রত্যেক মুসলমানের অন্তরে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি সীমাহীন মুহাব্বাত রয়েছে বিধায় তার একটি ইঙ্গিতকে আদেশ মনে করে প্রফুল্ল চিত্তে তার উপর আমল করা। কিন্তু আমলের নিয়মতান্ত্রিক কথা সম্পর্কে ও তিনি আলোকপাত করেছেন।

হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত বারিয়া (রাঃ) কে হযরত মুগীছ (রাঃ) সাথে বিবাহ দেন। যিনি হযরত আয়েশা (রাঃ) এর বাদী ছিলেন। হযরত বারিরা (রাঃ) পরমা সুন্দরী ছিলেন। আর হযরত মুগীছ (রাঃ) কৃষ্ণকায় দেহের অতি সাধারন লোক ছিলেন-যার কারনে উভয়ের মাঝে মনোমালিন্যতা লেগেই থাকতো-আর তারা তাদের দাম্পত্য জীবনে তেমন সুখি হতে পারেননি। তাদের মাঝে আত্মকলহ আর ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। পরিশেষে হযরত আয়েশা (রাঃ) হযরত বারিরা (রাঃ) কে আযাদ করে দেন। এখানে শরীয়তের বিধান হলো বাদী যখন আযাদ হয়ে যায় তখন পূর্বের বিবাহকে বহাল রাখা বা না রাখা তার ইচ্ছাধীন হয়ে যায়। হযরত বারিরা (রাঃ) চিন্তা করলেন যে এটা একটি সুবর্ণ সুযোগ আর এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা উচিত। অতএব তিনি বিবাহ ভেঙ্গে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

হযরত মুগীছ (রাঃ) যখন হযরত বারিরা (রাঃ) এর ইচ্ছা সম্পর্কে জানতে পারেন তখন তিনি মদীনার অলিতে-গলিতে উদ্ভ্রান্তের মত চত্ত্বর দিতে দিতে ঐ অবস্থায়ই হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দরবারে হাজির হন। তার দরবারে উপস্তিত হয়ে আরজ করেন ইয়া রাসুলাল্লাহ আপনিই বারিরা (রাঃ) সাথে আমাকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন, এখন আপনিই তা রক্ষা করুন। অতএব হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত বারিরা (রাঃ) কে ডেকে হযরত মুহীছ (রাঃ) এর পক্ষে সুপারিশ করলেন। এবং বারিরা (রাঃ) কে তাদের বৈবাহীক সম্পর্ক বিচ্ছেদ না ঘটিয়ে বরং সর্ম্পকটি অটুটরাখার জন্য বিভিন্ন ভাবে বুঝাতে চেষ্টা করেন, হযরত বারিরা (রাঃ) খুব বিচক্ষন ছিলেন তিনি তৎক্ষনাত জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ এটা কি শরয়ী কোন নির্দেশ নাকি আপনার ব্যক্তিগত পরামর্শ। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বললেন এটা আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ। বারিরা (রাঃ) তখন বললেন আমি এটা গ্রহন করবো না। অতএব হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও এতে কোনরূপ অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন না।

এতে প্রমানিত হয় যে ব্যক্তিগত ভাবে হযরত আম্বিয়ায়ে কিরাম (আঃ) গণ যদি কোন কিছু বলেন তবে তা পালন করা অপরিহার্য নয়। এমনিতে মুহাব্বাত ও বিশ্বাসের দৃষ্টিকোন থেকে আপনি যাই কিছু মনে করেন না কেন। সুতরাং আম্বিয়ায়ে কিরাম (আঃ) গনের মর্তবাও অবস্থা যদি এই হয় সেখানে আমাদের মত লোকের মর্তবা ও অবস্থা আর কি-ই বা হবে আর কোন 'গননায় আসবো আমরা। 

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।