TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

মওলানা দরবেশ আহমদের শিক্ষা পদ্ধতি

 মওলানা দরবেশ আহমদের শিক্ষা পদ্ধতি


মওলানা দরবেশ আহমদ দেওবন্দ মাদরাসা থেকে কুরআন হাদীস ও ফিকাহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করে যে শিক্ষা মানস পটে ধারণ করে নিয়ে এসেছিলেন, যে শিক্ষা তাঁর উদ্ভাদগন দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর ও উপযোগী মনে করে তাঁকে শিক্ষা দিয়ে অনুপ্রানিত করেছিলেন, তিনি দেশে এসে গণ-মানুষের মধ্যে সেই শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে সংকল্প করেছিলেন। আর সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য তিনি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে ছিলেন। বিশাল সমাজে মাত্র কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যথেষ্ট ছিল না। তাই তিনি মুসলমানদেরকে ইসলামী শিক্ষা আদর্শ ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য গ্রামে গ্রামে ঘুরে জনসভা ও আলোচনা বৈঠকের ব্যবস্থা করেছিলেন। অন্যদিকে দরিদ্র ও অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে তাদের সুস্থ করে তোলার জন্য দেশের স্থানে স্থানে দাওয়াখানা স্থাপন করেছিলেন। অর্থাৎ মানবসেবার জন্য তিনি একাই নানা মুখী ব্যবস্থা করে ছিলেন ।

তিনি মনে করতেন শিক্ষা কেবল বর্ণ-পরিচয় শেখানো নয়, কেবল ভাষা পড়া ও লেখা শেখানো নয়, বহুভাষা শেখানো ও শিক্ষার উদ্দেশ্য নয়। শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীর সুস্থ মন-মানস বিকাশ সাধন ও চরিত্র গঠন।


মওলানা দরবেশ আহমদের শিক্ষার উদ্দেশ্য ছিল, একজন শিক্ষার্থী কয়েক বছর শিক্ষা গ্রহণ করে সে যেনো সমাজে দায়িত্বশীল ও কর্মক্ষম হয়ে গড়ে ওঠে। কোনো শিক্ষার্থী যেনো বেকার বা অলস হয়ে বসে না থাকে। সর্বোপরি শিক্ষার্থীরা যেনো সমাজে একজন মানুষ হয়ে গড়ে ওঠে।


মওলানা জানতেন পাঠ্যপুস্তক যারা রচনা করেন তাঁরা একেকজন একেক রকম মন-মানসিকতার লোক। আর বিদ্যালয়ে যারা শিক্ষাদান করেন তারা ও নানা মতাদর্শের শিক্ষক। কিন্তু শিক্ষার্থীদের তো একটি মাত্র মতাদর্শে ঐক্যবন্ধ করে মানস গড়ে তোলা প্রয়োজন। এজন্য মওলানা দরবেশ আহমদ ছাত্রদের শিক্ষার জন্য শুধু পাঠ্য পুস্তক ও শিক্ষকদের উপর নির্ভর করতেন না। তিনি শিক্ষার ব্যাপারে দিক নির্দেশনা দেয়ার জন্য দু'মাস অন্তর একদিন শিক্ষক সমাবেশ করতেন। সমাবেশ অনুষ্ঠানে শিক্ষাদান পদ্ধতি ও আদর্শের দিক নির্দেশনা দিতেন। তিনি শিক্ষাদানে ছাত্র শিক্ষকদের সমস্যার ও সমাধান দিতেন।


এ ছাড়া আরেকটি জরুরি বিষয় শিক্ষক সমাবেশে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করতেন। সেটি হলো পাঠ্য পুস্তকের বাইরের বিষয়, সমাজ সংস্কার ও ধর্ম সংস্কারের বিষয়। তখন মুসলিম সমাজে শিরক বিদাতসহ অসংখ্য অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার ঢুকে পড়ে ছিল। এ সব অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার মুসলমানদের ইমান যেমন ধ্বংস করে ফেলেছিল তেমনি জাতিয় উন্নতি ও অগ্রগতির পথে বাঁধা হয়ে পড়েছিল। মুসলমানরা নিজেদের নাম লেখার ও আদব কায়দার পদ্ধতি ভুলে গিয়েছিল। এমন কি ছেলেমেয়েদের সুন্দর নাম রাখার বিষয়টি ভুলে গিয়েছিল। মুসলমানরা হিন্দুদের শেখানো পদ্ধতিতে নামের আগে 'শ্রী' ও নামের শেষে 'বাবু' লিখতো, কারো সঙ্গে দেখা হলে 'আসসালামু আলাইকুম' না বলে 'আদাব' বলতো, কেউ 'নমস্কার' বলে মাথা নত করতো। ছাত্ররা শিক্ষকদের 'আদার স্যার' বলতো। মুসলমানরা নেংটি পরতো, হাঁটুর উপর কাপড় পরতো। অনেকদিন গোছল করতো না, দাড়ি ছেটে গোঁফ বড় করে রাখতো। হিন্দুদের পুঁজায় চাঁদা দিতো, মনষা দেবী, শীতলা দেবী ও লক্ষীপুজা করতো, হিন্দুদের রান্না খাবার খেতো। মুসলমানরা ছেলে মেয়েদের নাম রাখতো টোনা, গোনা, পচা, শীতলা, খড়ম, মোনা, কালু, ফালু, বোচা, হাবা, গবা, গেদু, গেন্দা, নোয়া, পাচু, ধলা, রূপা, দাসু, শিবু, নিবারণ, হাদা, মাদা ইত্যাদি।


মওলানা দরবেশ আহমদ শিক্ষকদের যার যার এলাকায় এসব কুপ্রথা দূর করার জন্য উপদেশ দিতেন। হিন্দু জমিদারদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলে মুসলমান ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার অধিকার ছিল না। এ জন্য তিনি মুসলমানদের পাড়ায় পাড়ায় ছেলেমেয়েদের পড়ার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিতেন। এ ব্যাপারে দরবেশ আহমদ

সাহেবের, ভাতিজা জিগাতলা নিবাসী আহমদ হাতেম আলী মাস্টার খুবই তৎপর ছিলেন।


এ ভাবে মওলানা দরবেশ আহমদ শুধু স্কুল, মকতব, মাদরাসার মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা সীমাবন্ধ করে না রেখে গ্রামে গ্রামে পাড়ায় পাড়ায় ছড়িয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।


এর ফলে অশিক্ষিত মুসলিম সমাজের দীর্ঘ কালের অন্ধ বিশ্বাস ও কুসংস্কারের জমাট বাঁধা অন্ধকার তাঁর শিক্ষার আলোয় আস্তে আস্তে সরে যেতে থাকে এবং মানুষ নতুন ভোরের আলো দেখে জেগে ওঠতে থাকে।

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।