দ্বীনের একত্ববাদ ও শরয়ী মতভেদ কোরআনের দ্বারাই প্রমানিত
আমার মূলবক্তব্য এটাই ছিল যে হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে বর্তমান যুগ পর্যন্ত দ্বীন একই ছিল কিন্তু প্রত্যেকেরই শরীয়াত বিভিন্ন পর্যায়ের ছিল অর্থাৎ আল্লাহর একত্বকাদের ব্যপারে সকল নবীর দ্বীন একই পর্যায় ভুক্ত ছিল। আর একত্ববাদ সকল আমলের মূলউৎস।
যাকে এভাবে বলা হয়েছে:
كان دين الانبيأ لا اله الا الله
অর্থাৎ একই দ্বীনের শরীয়াত এর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। দ্বীনের ব্যপারে পবিত্র কোরআনের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় কোরআনে কারীম তার ব্যাখ্যা এভাবে দিয়েছে ইরশাদ হয়েছে:
شرع لكم من الدين ما وصی به نوحا و الذي أوحينا اليكم وما وصینا به ابراهیم و موسی و عیسی ان اقیمو الدين ولا تتفرقوافيه
আমি হযরত নূহ (আঃ) কে যে উপদেশ দিয়েছি অনুরূপ হযরত ইব্রাহীম (আঃ), মুছা (আঃ), ঈসা (আঃ), ও মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেও কোন মতপার্থক্য না করে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য নছিহত প্রদান করেছি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যার অবস্থা ও ধরন একই ছিল।
আলোচ্য আয়াতে কারীমায় আয়াতের شرع لكم এর মধ্যে বহু বচন ব্যবহার করে আল্লাহ তায়ালা দ্বীনের ব্যপারে পারস্পরিক মতভেদকে দুরিভূত করে প্রত্যেক সম্প্রাদায়কে এর অন্তর্ভূক্ত করেছেন। আবার শরীয়তের ব্যপারে ইরশাদ করেন:
لكل امة كعلنا منكم شرعة ومنهاجا
আমি শরীয়াতের আমলের পদ্ধতিগত ভাবে প্রত্যেক জাতী ও গোত্রের মধ্যে বিভিন্নতা প্রদান করেছি। দ্বীন শব্দ উল্যেখ করে সম্মিলিত একক দ্বীনকে বুঝানো হয়েছে। আর শরীয়াত এর উল্যেখ করে বিভিন্ন-জাতীর বিভিন্ন স্তরকে বুঝানো হয়েছে।
কোরআনে কারীমের উল্লেখিত আয়াত দ্বারা একথাই প্রতিয়মান হয় যে দ্বীন হলো একটি একক জিনিষ আর শরীয়ত হলো বিভিন্ন জাতী ও গোত্র ভেদে নিজস্ব স্বভাব আর মানসীকতা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে।
