তাবলীগী ভাই
আল্লাহর রাস্তা থেকে যখন সবাই একই জযবা আর উৎসাহ উদ্দিপনা নিয়ে বাড়ী ফিরবে তখন সাথীদের মাঝে পারস্পরিক মোয়াখাত বা ভ্রাতৃত্ববোধ ও বন্ধুত্ব ভাব গড়ে উঠবে। যারই ফলশ্রুতিতে একে অপরকে তাবলীগী ভাই বলে সম্বোধন করে থাকে। একজন অপর জনকে দেখলে তাবলীগী ভাই আসতেছে বলে থাকে। মনে হয় যেন তারা একে অপরের ভাই হয়ে গেছে।
জামাতের নামাজের মধ্যেও এক বৈশিষ্ঠ নিহিত রয়েছে। মানুষ যখন নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে একত্রিত হয় তখন তাহাদের পরস্পরের চক্ষু সমূহ একত্রিত হয় অর্থাৎ দেখা সাক্ষাৎ হয় যার ফলে নিজেদের মধ্যে হৃদ্যতার ভাব সৃষ্টি হয়। আর যখন তাদের মধ্যে কেউ অনুপস্থিত থাকে তখন অন্যেরা তার খোজ খবর নেয় যে অমুক ব্যক্তিতো দৈনিকই আসতো আজ কেন আসেনি, জানা গেলযে অনুপস্থিত ব্যক্তি অসুস্থ। তারপর লোকজন তার সেবা শুশ্রুসার জন্যে যাবে। আর এভাবে লোকজন রুগীর সেবা শুশ্রুসার সাওয়াব পেয়ে যাবে। এবং আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভকরবে।
হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে:
অসুস্থ অবস্থায় বান্দা আল্লাহর খুবই নৈকট্য লাভ করে। বান্দা নেয়ামতের মাঝে থেকে ততটুকু আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারেনা যতটুকু সে মুসিবতের অবস্থায় করতে পারে।
হাদীস শরীফে আরো বর্ণিত হয়েছে:
আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের উদ্দেশ্য করে বলবেন যে আমি অসুস্থ হয়েছিলাম তুমি আমার শুশ্রুষার জন্য উপস্থিত হওনি। তখন বান্দা বলবে, আয় আল্লাহ আপনি এমনই এক সত্বা যিনি এ সকল বিষয় থেকে পবিত্র, আপনার অসুস্থ হবারতো প্রশ্নই উঠে না। আল্লাহ তায়ালা বলবেন আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল, যদি তুমি তার সেবার জন্যে উপস্থিত হতে তবে তুমি আমাকে তার পাটি বা বিছানার মাঝেই বিদ্ব্যমান পেতে। সাথে সাথে তোমারও ঐ রূপ নৈকট্য লাভ হতো যে রূপ ঐ বান্দা আমার নৈকট্য লাভে ধন্যহয়েছে।
মোট কথা হলো একজন রুগীর শুশ্রুষার উদ্দেশ্যে যাওয়া সেবা করার ছওয়াবের সাথে সাথে আল্লাহর নৈকট্যও লাভ হবে। আর আল্লাহ না করুন যদি তার ইন্তেকাল হয়ে যায় তবে সবাই তার কাফন দাফনে লেগে যাবে এর জন্যও সাওয়াব পাবে। যেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধু সাওয়াব আর সাওয়াব। এটাই হল মসজিদে উপস্থিতীর বরকত আর সময় মত মুসলমানদের মধ্যে পরস্পরে দেখা সাক্ষাতের ফলাফল। এখন আপনারা লক্ষ করবেন যে তাবলীগের মেহেনত করনে ওয়ালারা সব সময়ই মসজিদকেই তাবলীগের মারকাজ নির্বাচন করে থাকেন। অতএব মসজিদের ঐ বরকত যা মসজিদে গমনকারীদের জন্য নির্ধারিত তাবলীগ কারীদের জন্য তো অধিক পরিমানে নসীব হবে। তাছাড়া একত্রে পানাহার, বসবাস আর একত্রে উঠা বসার ফলশ্রুতিতে যে ভাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠিত হয় তা থেকে কোন তাবলীগকারী বঞ্চিত থাকতে পারেনা।
অতএব নিঃসন্দেহে একথা বলা যায় যে তাবলীগে বের হলে শায়েখ, বন্ধু নেককার, দ্বীনদার লোক পাওয়ার সাথে সাথে নিয়্যাতও শুদ্ধ হয়। আবার ভাল কথা বলার সুযোগও ঘটে।
