বাস্তবতার নিরিখে
প্রশ্ন উত্থাপনের পরিধী অনেক প্রশস্ত আর খুবই সহজ। হযরত গাঙ্গুহী (রহঃ) বলতেন যে ইলমী লাইনে ফতোয়া দেয়া হলো সবচেয়ে কঠিন ও অত্যন্ত কষ্ট সাধ্য কাজ। কেননা কোন বিষয়ে ফতোয়া দেওয়ার জন্য অনেক গুলি বিষয় সামনে রাখতে হয়। যতক্ষন পর্যন্ত সবগুলি দিক সামনে না আসে ততক্ষন পর্যন্ত ফতোয়া দেয়া মুস্কিল। কখনো কখনো এমন হয়যে দুটি ঘটনা এবং দুটি মাসআলা একই পর্যায় ভুক্ত কিন্তু দুটির হুকুমই পৃথক পৃথক। তাইতো হযরত বলেন: যত বিজ্ঞ আলেমই হউক না কেন মুফতী হওয়া তার জন্য অত্যাবশ্যক নয়। তারপর বলেন এর চাইতে সহজতর কাজ হলো শিক্ষাদান করা-ফতোয়া প্রদান করার ব্যপারে আনুসাঙ্গিক শত শত দিক সামনে রাখতে হয়। চিন্তা ভাবনা করতে হয়। দেমাগে চাপ প্রয়োগ করতে হয়।
আর দরছ বা শিক্ষাদানকারি একটা লাইন বা বাক্য দেখে তার সারাংশটা বলে দেয়। তিনি আরো বলেন যে শিক্ষা দান করার চাইতেও সহজ হলো তাকরীর বা ওয়াজ করা। আর ওটাতো সাধারন বোধগম্য।
আমি উপরোল্লিখিত ঐ তিন বিষয়ের উপর আরো একটি বিষয় অতিরিক্ত বাড়িয়ে বলে থাকি যে ঐ সবগুলো থেকে অধিকতর সহজ সাধ্য কাজ হলো কোন প্রশ্ন করে দেয়া। যার সম্পর্কে ইচ্ছা প্রশ্ন উত্থাপন করে দেন চাই সে সাহাবায়ে কিরামদের ব্যপারে হউক আর আম্বিয়ায়ে কিরাম বা মুজতাহিদীনদের সম্পর্কেই হউক, আশ্চর্য্যের ব্যপার হলো প্রশ্নকারী কখনো শ্রান্ত ও নিরুৎসাহীত হয়না। আর শ্রান্তই বা হয় কি করে কেননা এতে না কোন প্রামানিক দলীলের প্রয়োজন আছে না কোন বুদ্ধির প্রয়োজন আছে। প্রত্যেক বিষয়ে শুধু এতো-টুকু বলে দেন যে এটা ভুল। আর প্রশ্ন করার জন্য কোন ইলমের প্রয়োজন হয়না। আর সাধারনত প্রশ্নকারী ঐ সকল লোকই হয়ে থাকে যাদের কাছে কোন প্রকার সনদ বা ডিগ্রী নাই না ইলমের ডিগ্রী আর না আমলের ডিগ্রী আছে। কত সহজ কাজ প্রশ্ন করা এহেন সহজ কাজ তো যে কেউই করতে পারে।
অতএব ভাইয়েরা যদি কিছু লোক এমন নিকৃষ্টতম আর সহজ কাজ করে বেড়ায় তাহলে তাদের সে কাজ করতে দিন তাতে আপনার কি ক্ষতি? আপনি আপনার কাজে নিয়োজীত থাকেন। কাল কিয়ামতের ময়দানে প্রশ্ন কারীরা ও দাড়াবে, আর যারা কাজ করেছে তারাও সারিবদ্ধ ভাবে দাড়াবে। প্রত্যেকেরই শ্রমের ফলাফল তার সামনে আসবে।
