উম্মতে মুহাম্মাদীর অল্প আমলে অধিক নেকি
উম্মতে মুহাম্মাদী পৃথিবীতে সর্ব শেষে আগমন করেছে এবং তাহারা পূর্ববর্তী উম্মতের মধ্যে প্রবীন। আর প্রবীন লোকদের জ্ঞানবুদ্ধি ও অভিজ্ঞতা সাধারনত বেশি থাকে কিন্তু তাদের আমলী শক্তি হ্রাস পেতে থাকে। বৃদ্ধ লোকদের পক্ষে অধিক আমল করা কঠিন ব্যপার। কিন্তু তাদের জ্ঞানবুদ্ধি এতই প্রখর যে যুবকরা পর্যন্ত তাদের পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত মেনে চলতে বাধ্য হয়। তাহারা সমকালীন যুগের উত্থান-পতনের ইতিহাসকে সামনে রেখে অভিজ্ঞতার আলোকে তা আলোচনা করে থাকেন।
উম্মতে মুহাম্মাদীয়া প্রবীন ও সর্বশেষ উম্মত। এই উম্মতের মাধ্যমেই পৃথিবীর পরিসমাপ্তি ঘটবে। আর বর্তমান পৃথিবীও যেন মানবতার প্রবীনতম যুগ। যেমন হযরত আদম (আঃ) এর যুগ ছিল মানবজাতীর জন্য শৈশবকালীন যুগ। তৎকালীন যুগের শরয়ী আহকামত ছিল শিশু শুলভ আর বর্তমান যুগের বিধান গুলো হলো বৃদ্ধ শুলভ।
বৃদ্ধলোকদের আমলের দায়ীত্বকে যদিও হালকা করা হয়েছে কিন্তু তাদের আমলের তারিফ আর প্রশংসা সর্বত্র খ্যাতিলাভ করেছে যেমন কোন বিবাহ অনুষ্ঠানে কোন মুরুব্বীকে বলা হলো যে আপনাকে খাবার দাবারের পর্যবেক্ষন করার বড় দায়ীত্ব দেয়া হলো, মুরুব্বী লোকটি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুধু বসে ছিল অপর দিকে যুবকগন কঠোর পরিশ্রম করে খাবার পরিবেশন করলো অথচ সন্ধ্যার সময় লোকজন বলা বলি করতে লাগল যে মুরুব্বী অনেক পরিশ্রম করেছেন।
বাস্তবীকপক্ষে তিনি কোন পরিশ্রমই করেন নাই কেবল সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত বসেই ছিলেন। আরাম করেছেন কিন্তু তাকে বড় কাজের লোক বড় কর্মঠ ইত্যাদি বলে বাহ্বা দেওয়া হয়। প্রকৃত পক্ষে কোন কাজতো করেনই নাই এমনকি একটি বরতনও তুলেদেন নাই। আসলে মুরুব্বির কাজকে হালকা করাই উদ্দেশ্য ছিল, আর যুবকদেরকে তার নির্দেশ মোতাবেক কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে। কারন মুরুব্বীদের উপদেশের মধ্যে যথেষ্ট গ্রহন যোগ্যতা রয়েছে।
উম্মতে মুহাম্মদী অতীতের উম্মতের হালাত সম্পর্কে পুরাপুরি ওয়াকিফহাল বিধায় তাহারা অধিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। পূর্ববর্তী উম্মতের জন্য কিছু সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম মাসায়েল এর আমলের নির্দেশ ছিলনা কিন্তু উহা বর্তমানে উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য প্রবর্তন করা হয়েছে পৃথিবীর জন্য প্রচলন করা হয় নাই। কেননা তাহারা এমন এক উম্মত যাদের সামনে হযরত আদম (আঃ), হযরত নূহ (আঃ), হযরত মুছা (আঃ), হযরত ঈসা (আঃ) এর জাতী সমূহের হালাত সুস্পষ্ট ছিল। পবিত্র কোরআনে কারীমে এক একটি বিষয়কে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এবং পবিত্র হাদীস শরীফে সমস্ত ঐতিহাসিক বিষয় বস্তুকে ব্যখ্যা করেছে। পূর্ববর্তী জাতীসমূহের হালাতগুলি বর্তমান জাতীর সামনে রয়েছে বিধায় তাহারা সচ্ছ ও সুন্দর অধিক জ্ঞানের অধিকারী। কিয়ামতের দিন উম্মতে মুহাম্মদীর স্বাক্ষীর মাধ্যমে সমস্ত জগদ্বাসীর বিচারকার্য সমাধা হবে। তাহারা যে জাতীর ভ্রান্ত হওয়ার ব্যপারে স্বাক্ষী দিবে সেটাই আল্লাহপাকের দরবারে গ্রহনযোগ্য হবে। ভাল-মন্দের বিবেচনা সমস্ত কিছুই তাদের স্বাক্ষীর উপর নির্ভরশীল কেননা এই উম্মত ছাড়া পৃথিবীতে আর কোন অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী উম্মত নাই এ প্রশংঙ্গে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন:
وكذالك جعلنكم امة وسطا لتكونوا شهد أعلى الناس ويكون الرسول علیکم شهیدا
উন্মতে মুহাম্মদীকে মধ্যবর্তী উম্মতদের ন্যায় বিচারক করে সাব্যস্ত করা হয়েছে। অন্নান্য জাতীর মুক্তির জন্য স্বাক্ষীদাতা হিসাবে এই উম্মতকে নির্বাচন করা হয়েছে। এবং তাদের স্বাক্ষীর গ্রহনযোগ্যতার ব্যপারে স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম সত্যায়ন করেছেন।
এই উম্মতের আমলকে হালকা করে অধিক জ্ঞানের অধিকারী করা হয়েছে। পূর্ববর্তী উম্মতকে যে সমস্ত আমলের দুঃসাধ্য দায়ীত্ব দেওয়া হয়েছে বর্তমান উম্মতের জন্য তা এক দশমাংশ বা তার অর্ধেক ও নয়। এই উম্মতকে অনেক সহজসাধ্য আমলের দায়ীত্ব দেওয়া হয়েছে কিন্তু তাদের আমলের প্রতিদান অধিক করে দেয়া হয়েছে। একটি নেক আমলের জন্য দশ থেকে সাতশত গুন বা তার চেয়েও অধিক সাওয়াব বৃদ্ধি করা হবে।
যেমন আল্লাহপাক বলেন:
والله يضعف لمن يشأ
আল্লাহপাক যাকে যতখুশি নেকি বৃদ্ধি করে দিতে পারেন যা একটি নেকি দশটি নেকির সমান হতে পারে। আবার দশটি থেকে সাতশত, সাতশত থেকে হাজার নেকির সমান হতে পারে। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে:
تصدقوا ولو بشق تمرة
সদকা করো আল্লাহর রাস্তায় যদি একটি খেজুরের আটিও হয়। আর ঐ সদকাকৃত বিচিটি আল্লাহপাক সংরক্ষন করে কিয়ামতের দিন ওহুদ পাহাড় পরিমান সাওয়াব দান করবেন। এত অধিক পুরস্কার লাভ করে মানুষ আশ্চর্য্যন্বিত হয়ে যাবে। তখন আল্লাহপাক বলবেন তুমি যে একটি মাত্র আটি দান করেছিলে আর সেই একটি মাত্র বিচির সাথে এত অধিক বিচি সংযুক্ত করা হয়েছে যা ওজনে ওহুদ পাহাড় পরিমান হয়েছে।
