তাবলীগের জন্য দলবদ্ধ হওয়া
বিশাল ভারত বর্ষে বর্তমান সময়ের দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ দায়ীয়ে ইসলাম হযরত মাওলানা ইলিয়াছ (রহঃ) কিছু কাল পূর্বে শুরু করেন। আল্লাহ তায়ালা তার অন্তরে একাজের গুরুত্ব ও মাহাত্ব ঢেলে দেন। তিনি একাজটির জন্য দলবদ্ধভাবে কাজ করার পদ্ধতি অবলম্বন করেন, কেননা নিয়ম আছে, যখন কোন কাজ বা কথা সম্মিলীত ভাবে বলা হয় তখন মানুষের মাঝে এর বিশেষ প্রভাব অবশ্যই পড়ে। আর একই কথা যখন বিভিন্ন জনে বিভিন্ন জায়গায় বলতে থাকে তখন বিলম্বে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
আল্লাহ তায়ালা সুরা ইয়াসীনে এরশাদ করেন।
اذار سلنا اليهم اثنين فكذبوهما فعزز انبثالث فقالوا انا اليكم
مرسلون -
অর্থাৎ যখন আমি তাদের নিকট দুজন রাসুল প্রেরন করি তখন ওরা তাদেরকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করে। তখন আমি তাদের দু'জনকে তৃতীয় একজন নবী পাঠিয়ে শক্তিশালী করলাম। তারা বললো আমরা সবাই তোমাদের কাছে প্রেরিত হয়েছি।
ঠিক এ জন্যেই মাওলানা ইলিয়াছ (রহঃ) দাওয়াতের কাজে সংঘবদ্ধ পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। কেননা তিনি একথা ভালভাবেই উপলব্ধি করেছিলেন যে বর্তমান যুগ হলো সমন্বয় ও সংঘবদ্ধতার যুগ। খেলাধুলা, ব্যবসা, বাণিজ্য, শিল্প কারখানা ও কৃষি বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়, সভা হয়, সেমিনার হয়, সবখানেই দলীয় রং দৃষ্টি গোচর হয়। এমনি দলগত পরিবেশে একক ও ব্যক্তি বিশেষের কথা তেমন কার্যকরী হবেনা বা প্রভাব ফেলতে পারবে না। এ ধরনের ফিকির করেই মাওলানা ইলিয়াছ (রহঃ) দাওয়াতের কাজকে দলবদ্ধ ভাবে আরম্ভ করেন। যখন জামাত বন্ধু হয়ে কিছু লোক কাধের উপর সামান নিয়ে পাঁয়ে হেটে কারো নিকট দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে আসে এবং তাদের মুখমন্ডলে সফরের চিহ্ন বিদ্যামান। তখন ঐ ব্যক্তির উপর বিশেষ প্রভাব পড়বে। তখন সে চিন্তা করবে আমার কাছে তাদের কিছুই পাবার প্রত্যাশা নেই। তবুও কোন জিনিস তাদেরকে এমন দুঃখ কষ্ট সহ্য করতে অনুপ্রাণিত করলো। অতএব এই লোক গুলো যা বলছে তা অবশ্যই সঠিক ও গ্রহনযোগ্য, তাই এ বিষয়টি তাদেরকে খুবই প্রভাবিত করে।
