৪র্থ দিনের তা'লীম রমযানে কিয়ামুল লাইলের বিধান
المجلس الرابع
প্রিয় পাঠক। আল্লাহ তাআলা ইবাদতকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন।
এর মধ্যে কিছু ফরজ, যাতে কম বেশী করার অবকাশ নেই। কিছু নফল ও সুন্নাত, যদ্বারা আল্লাহ তাআলার নৈকট্য ও পূর্নতা অর্জন করা যায়।
সালাত তার অন্যতম। আল্লাহ তাআলা বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যা পাঁচ ওয়াক্ত হলেও সাওয়াবের বেলায় ৫০ ওয়াক্তের সমান। আল্লাহ তাআলা নফল সালাতকে ফরজ সালাতের ক্ষতিপূরণ এবং তার নৈকট্য লাভের মাধ্যম করেছেন। কিছু সুন্নাত সালাত এমন রয়েছে, যা ফরজ সালাতের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন, দু' রাকাত ফজরের ফরজের পূর্বে, চার রাকাত জোহরের ফরজের পূর্বে ও দু' রাকাত পরে। দু' রাকাত মাগরিবের ফরজের পর ও দু' রাকাত এশার ফরজের পর। আর কিছু রয়েছে সালাতুল লাইল, যার আদায়কারীদের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَالَّذِينَ يَبْتَوْنَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَ قِيَامًا ( الفرقان: (٦٤)
অর্থঃ এবং যারা পালনকর্তার উদ্দেশ্যে সেজদাবনত ও দণ্ডায়মান হয়ে রাত যাপন করে। (ফুরকান: ৬৪)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُوْنَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُوْنَ فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنِ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُوْنَ (السجدة : ١٦-١٧)
অর্থঃ তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা হতে পৃথক থাকে। তারা নিজ পালনকর্তাকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদের যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে। কেউ জানে না, তার জন্য কৃতকর্মের কি কি নয়ন প্রীতিকর প্রতিদান রয়েছে। (সিজদাহ:১৬,১৭)
রাসূল (সা.) বলেন:
أَفْضَلُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ صَلَاةُ اللَّيْلِ. (مسلم)
অর্থঃ ফরজ সালাতের পর অধিক ফযিলতপূর্ণ হল রাতের সালাত। (মুসলিম)
রাসূল (সা:) অন্যত্র বলেন:
أيها الناس أفشوا السلام وأطعموا الطعام وصلوا الْأَرْحَامَ وَصَلُّوا بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ
لدخلوا الجنة بسلام (رواه الترمذي وقال حسن صحيح وصححه الحاكم)
অর্থঃ হে লোক সকল। সালামের প্রচলন ঘটাও, গরীব দুঃখীদের খানা
খাওয়াও, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখ, রাতে যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, তখন সালাত আদায় কর, তাহলে নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিযী)
সালাতুল বিত্র সালাতুল লাইলের একটি অংশ। যার সর্বনিম্ন পরিমাণ এক রাকাত। তাই শুধুমাত্র এক রাকাত বিত্র পড়া যায়।
রাসূল (সা.) বলেন:
مَنْ أَحب أن يُؤثر بوَاحِدَةٍ فَلْيَفْعَلْ (ابو داود والنساني)
অর্থঃ যে বিত্র সালাত এক রাকাত পড়তে চায়, সে যেন এক রাকাত পড়ে। (আবু দাউদ, নাসায়ী)
বিত্র সালাত তিন রাকাতও পড়া যায়।
রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন।
مَنْ أَحب أن يُؤثر بثلاث فَلْيَفْعَلْ (ابوداود والنساني)
অর্থঃ যে তিন রাকাত বিত্র পড়তে চায় সে যেন তিন রাকাত পড়ে।
(আবূ দাউদ, নাসায়ী)
তবে কেউ যদি এক সালামে বিতর সালাত শেষ করতে চায়, তাও পারবে।
ত্বাহাবী (রা.) বর্ণনা করেছেন:
إِنْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ الله عَنْهُ أُوثَرَ بِثَلاثِ رَكْعَاتٍ لَمْ يُسَلِّمْ إِلَّا فِي آخِرِهِنَّ.
অর্থঃ উমর (রা.) তিন রাকাত বিত্র পড়েছেন ও সর্বশেষে সালাম ফিরিয়েছেন। (এ হাদীসকেই হানাফী মাযহাবে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে) যদি কেউ দু' রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে তৃতীয় রাকাত পড়তে চায়, তবে তাও করতে পারবে।
রমযানে সালাতুল লাইলের অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
রাসূল (সা.) বলেছেন:
مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيْمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ، (متفق عليه)
অর্থঃ যে ব্যক্তি রমযানে ঈমানের সাথে ও সাওয়াবের আশায় রাত জেগে সালাত আদায় করবে, তার পূর্বকৃত সকল (ছগীরা) গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
(বুখারী, মুসলিম)
রাসূল (সা.) এর বাণী: إِيْمَانًا بِاللَّهِ وَ بِمَا أَعَدَّهُ مِنَ الثَّوَابِ لِلْقَائِمِين
অর্থঃ আল্লাহ তাআলা সালাত আদায়কারীর জন্য যে সাওয়াব বরাদ্দ করেছেন, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।
রাসূল (সা.) এর বাণী : إِحْتِسَابًا أَيْ طَلَبًا لِثَوَابِ اللَّهُ لَمْ يَحْمِلْهُ عَلَى ذَلِكَ رِيَاءً وَ لَا سُمْعَةً وَلَا طَلَبَ مَالٍ وَ لَاجَاهِ.
অর্থঃ আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে একমাত্র সাওয়াবের আশায়, যা লোক দেখানো, সুনাম অর্জন, সম্পদ বা সম্মান লাভের আশায় হয় না।
এশার সালাতের পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত সকল সালাত কিয়ামুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত। তাই তারাবীহর সালাতও কিয়ামুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এ সালাতের প্রতি আগ্রহী ও যত্নবান হওয়া উচিত। এতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অশেষ সাওয়াবের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
রাসূল (সা.) সর্বপ্রথম মসজিদে নববীতে তারাবীহর জামাতের প্রচলন করেন। পরে উম্মতের উপর ফরজ হওয়ার আশংকায় জামাতে আদায় ছেড়ে দেন।
প্রমান:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى فِي الْمَسْجِدِ ذَاتَ لَيْلَةٍ وَصَلَّى بِصَلَاتِهِ نَاسٌ ثُمَّ صَلَّى مِنَ الْقَابِلَةِ وَكَثرَ النَّاسُ ثُمَّ اجْتَمَعُوا مِنَ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ أَوْ الرَّابِعَةِ فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ: قَدْ رَأَيْتُ الَّذِي صَنَعْتُمْ فَلَمْ يَمْنَعْنِي مِنَ الْخُرُوجِ إِلَيْكُمْ إِلَّا أَنِّي خَشِيتُ أَنْ تُفْرَضَ عَلَيْكُمْ، قَالَ : وَذَلِكَ فِي
رمضان (متفق عليه)
অর্থঃ আয়শা (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) এক রজনীতে মসজিদে সালাত আদায় করলেন, লোকজনও তার সাথে সালাত আদায় করল। পরবর্তী রজনীও তিনি সালাত আদায় করলেন, তাতে লোকজন আরো বৃদ্ধি পেল। তৃতীয় কিংবা চতুর্থ রজনীতে অনেক লোকের সমাগম হল। কিন্তু রাসূল (সা.) উপস্থিত হলেন না। প্রভাতে রাসূল (সা.) তিনি বললেন, তোমরা যা করেছ, তা আমি দেখেছি। কিন্তু তোমাদের উপর ফরজ হয়ে যাওয়ার ভয়ে আমি উপস্থিত হইনি। 'বর্ণনাকারী বলেন, ঘটনাটি রমযান মাসে ঘটে ছিল। (বুখারী, মুসলিম)
হাদীসে আরো বর্ণিত আছে:
عَنْ أَبِي ذَرِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : صُمْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يَقُمْ بِنَا حَتَّى بَقِيَ سَبْعٌ مِنَ الشَّهْرِ ، فَقَامَ بِنا حَتَّى ذَهَبَ ثلث الليل ثُمَّ لَمْ يَقُمْ بِنَا فِي السَّادِسَةِ ثُمَّ قَالَ بِنَا فِي الْخَامِسَةِ حَتَّى ذَهَبَ شَطْرُ اللَّيْلِ أَي نَصْفُهُ فَقُلْنَا: يَارَسُوْلُ اللَّهِ لَوْ نَفَلْتَنَا بَقِيَّةً لَيْلَتِنَا هَذِهِ فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّهُ مَنْ قَامَ مَعَ الْإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ، (رواه أهل السنن بسند صحيح)
অর্থঃ আবুজর গিফারী (রা.) বর্ণনা করেন, আমরা রাসূল (সা.) এর সঙ্গে সিয়াম পালন করছিলাম। (এর মধ্যে) রমযানের সাতদিন বাকি থাকার পূর্ব পর্যন্ত তিনি আমাদের নিয়ে সালাত (তারাবীহ) আদায় করেন নি। বাকি সাতদিনের প্রথম রাতের এক তৃতীয়াংশ গত হওয়ার পর আমাদের নিয়ে সালাত পড়লেন। তারপর ষষ্ঠ রজনীতে আমাদের নিয়ে সালাত পড়লেন না। ৫ম রজনীতে রাতের অর্ধাংশ গত হওয়ার পর পুনরায় আমাদের নিয়ে সালাত পড়লেন। আমরা বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ। বাকি রজনীতে যদি আমাদের নিয়ে নফল সালাত আদায় করতেন? রাসূল (সা.) উত্তরে বললেন, নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি ইমামের সাথে শেষ করা পর্যন্ত সালাত আদায় করবে, তার আমলনামায় পূর্ণ রজনী সালাত আদায়ের সাওয়াব লেখা হবে। (আহলুস সুনান)
বিত্রসহ তারাবীহর সংখ্যা নিয়ে সলফে সালিহীনের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন ৪১ রাকাত, কেউ ৩৯, কেউ ২৯, কেউ ২৩, কেউ ২০ আবার কেউ ১৩ এবং কেউ বলেন ১১ রাকাত। এসব মতামতের মধ্যে ১১ অথবা ১৩ রাকাতের মতামত অগ্রগণ্য। তবে শুধু ২০ রাকাত তারাবীহ বর্তমানে অধিক প্রসিদ্ধ এবং মক্কা-মদীনার বর্তমান আমলও তাই, তেমনি ওমর (রা:) ও সকল সাহাবায়ে কেরাম (রা:) ২০ রাকাত তারাবীহ্ সালাতের উপর ঐকমত্য পোষণ করেন। হাদীসে উল্লেখ রয়েছে:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّهَا سُئِلَتْ كَيْفَ كَانَتْ صَلَاةُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ؟ فَقَالَتْ مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلَافِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشَرَةَ رَكَعَةً.
অর্থঃ আয়শা (রা.) হতে বর্ণিত, তাকে প্রশ্ন করা হল, রমযানে রাসূল (সা.) এর সালাত কেমন (কত রাকাত) ছিল? তিনি বললেন, রমযান এবং রমযানের বাইরে ১১ রাকাতের বেশী ছিল না। (বুখারী ও মুসলিম)
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন:
كانت صَلَاةُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَ عَشَرَةَ رَكَعَةٌ يَعْنِي مِنَ اللَّيْلِ. (البخاري)
অর্থঃ রজনীতে রাসূল (সা.) এর সালাত ১৩ রাকাত ছিল। (বুখারী)
অন্য হাদীসে উল্লেখ রয়েছে:
عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَبَي بْنَ كَعَبْ رضي الله عنه وتميمَ الدَّارِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنْ يَقُوْمَا لِلنَّاسِ إِحْدَى عَشَرَةَ رَكَعَةً.
(الموطأ)
অর্থঃ সায়েব বিন ইয়াজিদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) উবাই বিন কা'আব ও তামীমদারী (রা.) কে লোকদের ১১ রাকাত সালাত পড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন। (মুয়াত্তা)
সাল্ফে সালিহীন তারাবীহ খুব লম্বা কেরাতে আদায় করতেন।
সায়েব বিন ইয়াজিদ (রা.) বলেন:
كَانَ القَارِي يَقْرَأُ بِالْمِئَتَيْنِ يَعْنِي بِمِنَاتِ الْآيَاتِ حَتَّى كُنَّا نَعْتَمِدُ عَلَى الْعَصَى مِنْ طُولِ الْقِيَامِ.
অর্থঃ কারীগণ দুইশত পড়তেন, অর্থাৎ দুইশত আয়াত পর্যন্ত পড়তেন। এমনকি আমরা দীর্ঘ রাকাতের কারণে লাঠির উপর ভর দিয়ে সালাত আদায় করতাম। এটা বর্তমান সময়ের অধিকাংশ মানুষের আমলের ব্যতিক্রম। মানুষ তারাবীহ খুব দ্রুত আদায় করে, ধীর ও শান্তভাবে আদায় করে না অথচ তা সালাতের জন্য অপরিহার্য এবং এ ছাড়া সালাত পূর্ন হয় না। তারা এ বিষয়টি উপেক্ষা করে এবং তাদের পিছনে যে সকল দুর্বল, অসুস্থ ও বয়স্ক লোক থাকে তাদের প্রতি খেয়াল করতে গিয়ে নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্যদেরও ক্ষতি করে।
উলামায়ে কেরাম বলেন, মুসল্লী ধরে রাখার জন্য ইমামের তাড়াহুড়া করা
মাকরূহ, যা আমাদের সমাজে প্রচলিত। আল্লাহ তাআলার নিকট এরূপ কাজ থেকে আশ্রয় চাই।
পুরুষদের জন্য তারাবীহর সালাতের জামাত উপেক্ষা করা উচিৎ নয়।
যতক্ষণ ইমাম তারাবীহ ও বিত্র শেষ না করেন, ততক্ষণ প্রস্থান করবে না। যাতে পুরা রজনী দাড়িয়ে সালাত আদায়ের সাওয়াব পাওয়া যায়। যদি ফেৎনার আশংকা না থাকে, তাহলে মসজিদে তারাবীহর জামাতে নারীদের উপস্থিত হওয়া জায়েয।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: لَا تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهُ مَسَاجِدَ اللَّهِ
অর্থঃ তোমরা নারীদের মসজিদে আসতে বাধা দিও না"।
(হাদীস)
এটা সালফে সালিহীনের আমলও বটে। তবে শর্ত হল, পর্দার সাথে আসতে হবে। খোলামেলা, সুগন্ধি ব্যবহার করে, উচ্চ আওয়াজে এবং সৌন্দর্য প্রদর্শন করে আসা বৈধ নয়।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا. (النور: ۳۱)
অর্থঃ (ঈমানদার নারীদের বলুন) তারা যেন স্বাভাবিক প্রকাশমান সৌন্দর্য ছাড়া আর কিছু প্রদর্শন না করে। (আন-নূরঃ৩১)
বোরকা, লম্বা চাদর বা এ জাতীয় পোষাক ব্যবহারের পরও যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পায়, তাতে কোন ক্ষতি নেই। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) নারীদের ঈদের সালাতে উপস্থিতির অনুমতি দিতেন। উম্মে আতিয়া (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের বললেন, তোমরা পুরুষদের পিছনে কাতার বাধবে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বাণী:
خَيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ أَوَّلُهَا وَشَرُّهَا آخِرُهَا وَخَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا وَشَرُّهَا
اولها، (مسلم)
অর্থঃ পুরুষদের জন্য উত্তম হল প্রথম কাতার এবং মন্দ হল পিছনের কাতার। নারীদের জন্য উত্তম হল পিছনের কাতার এবং মন্দ হল প্রথম কাতার। (মুসলিম)
নারীগণ ইমামের সালাম ফিরানোর পরপর ঘরে ফিরে যাবে। উজর ছাড়া বিলম্ব করবে না।
উম্মে সালমা (রা.) বলেনঃ
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَلَّمَ قَامَ النِّسَاءُ حِيْنَ يَقْضِي تَسْلِيمَهُ وَهُوَ يَمْكُتُ فِي مَقَامِهِ يَسِيرًا قَبْلَ أَنْ يَقُوْمَ قَالَتْ نَرَى وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَنَّ ذَلِكَ لِكَيْ يَنْصَرِفَ النِّسَاءُ قَبْلَ أَنْ يُدْرِكْنَ أَحَدًا مِنَ الرِّجَالِ (البخاري)
অর্থঃ রাসুল (সা.) যখন সালাম ফিরাতেন, তখন সালাম শেষ করার সাথে সাথে নারীগণ দাঁড়িয়ে যেতেন। রাসূল (সা.) দাঁড়ানোর পূর্বে বামদিকে মুখ করে বসে থাকতেন। উম্মে সালমা (রা.) বলেন, আমার মনে হয় (আল্লাহই ভাল জানেন) সেটা এজন্য করতেন, যাতে নারীরা পুরুষদের বের হওয়ার পূর্বে ফিরে যেতে পারে। (বুখারী)
হে আল্লাহ! আমাদের উল্লেখিত আলোচনার উপর আমল করার তাওফিক দিন। যেভাবে অন্যদের তাওফিক দিয়েছেন। হে দয়াময় প্রভূ। আমাদের পিতা-মাতা এবং সকল মুসলিমদের ক্ষমা করুন এবং দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন আমাদের নবী (সা:), তার বংশধর ও তার সাহাবীদের উপর।
سُبحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لا إِلهَ إِلَّا أَنْتَ اسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ.
