TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

আদুরী

: মাগীডার দেমাগ অইছে খুব। কেমনে যে টাইট দেওয়া যায়।


আড়চোখে আদুরীর সামনে। ছড়ানো পা'দুটোতে চোখ রেখে নিজের নুলাপাটা ভেঙ্গে বসে নেয়ামত।


: নাহঃ মাগীডা একবারও তাকায় না, ওর চোখে কি ছানি পড়ছে নাকি।


মনে মনে কথা কয়টা আউড়াচ্ছে, হঠাৎ দমকা বাতাসে আদুররি বুকের কাপড় এলোমেলো করে দেয়, সাথে সাথেই নেয়ামতের দৃষ্টি হামলে পড়ে আদুরীরর আঁচল সরে যাওয়া ফর্সা চামড়ার ঈষদ ঝুলে যাওয়া স্তনে। চকিত উড়ন্ত আঁচল ধরে ফেলে এবং সুন্দর করে বুকের ওপর বিছিয়ে দেয়। এবার একটু বেশিই ঢেকে ঢুকে নেয় আদুরী।


: কি রে মাগী সামনে কি তর ভাসুর বইয়া রইছে নি।


বলতে গিয়েও থেমে যায়। অস্ফুট শব্দ হয় 'মাগী'।


পকেট হাতড়ে সিগারেট বের করতে গিয়েও থেমে যায়। ভোর হলেও এর মধ্যেই লোক চলাচল শুরু হয়ে গেছে। এসময় কোন মতেই সিগারেটের মত অপব্যায়ী বিলাসী দ্রব্য ধরিয়ে ব্যবসায় বারটা বাজাবে না নেয়ামত।


এই ব্যবসাটা হল নেয়ামতের জাত ব্যবসা, সে জাঁকিয়ে বসেছে ব্যবসায়, লাভও মন্দ নয়। গ্রামে জমি বাড়িও করে ফেলেছে এর মধ্যেই, বড় বউ দুই ছেলেসহ সেখানেই থাকে।


ও যাদের কাছে হাত পেতে দু'চারটি টাকা নেয় তাদের কারো কারো চেয়ে ওর আয় বেশি। আয় বেশি হলে কি হবে, হাত তো পাততে হয় তাদেরই কাছে। ওর ব্যবসার নিয়মই তো এমন।


এখন যদি নেয়ামত সিগারেটে সুখ টান দিতে দিতে এলুমুনিয়ামের থালাটা দাতাদের দিকে বাড়িয়ে ধরে তবে ব্যবসা তো লাটে উঠবেই, সাথে সাথে বাকি পাটাও নু'লা হয়ে যাবে।

আদুরীর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মনের জ্বালা বাড়তে থাকে, এক্ষুণি সিগারেটে সুখ টান দিয়ে মনের জ্বালা কমানোর মোক্ষম সময়।


: কি না করছিরে মাগী তর লাইগা, খালি তর শইলডা আমার হইব এই না ভাইবা রে। কি না করছি।


এখন সে সব কথা মনে হলে নিজের হাত নিজের দাঁত দিয়ে কামড়াতে ইচ্ছে করে নিয়ামতের।


একটার বয়স তিন অন্যটার দুই, এই রকম দু'টো শিশুকে আদুরীর কাছে রেখে আদুরীর স্বামী নেয়ামতের দোস্ত শফিক ভেগে যায়।


ঘরে কোন টাকা পয়সা নেই উপরন্ত দুই মাসের ঘর ভাড়া বাকি। তখন কে এগিয়ে এসেছিল? তখন নেয়ামতই এগিয়ে এসেছিল। আদুরীর স্তন দুটোর প্রতি বরাবরই বড় লোভ ছিল নেয়ামতের। নেহায়েত দোস্তের বউ তাই যখন তখন তাকাতেও পারতো না, এখন তো দোস্ত নাই, নেয়ামত মুখিয়েই থাকে যখন তখন।


নেয়ামতই আদুরীকে সাথে করে এ বস্তি ও বস্তি খোজে শফিককে। পায় না, শেষে আদুরীই খোঁজা বাদ দিয়ে বাসা বাড়ির কাজ ধরে।


তখন থেকেই খেয়াল করেছে আদুরী নেয়ামতের অহেতুক সাহায্য নিতে আগ্রহী নয়।


নেয়ামতের দৃষ্টি থেকে ওর শরীরও বাঁচিয়ে রাখতে চেষ্টা করে।


আদুরীর বাসা বাড়ির কাজ চলছিল ভালই, কিন্তু কাল হয়ে দাঁড়ায় ওর গা ভর্তি যৌবন। বাড়ির মালিক নানা বাহানায় সেই যৌবন ভান্ডারে হাত ছোঁয়াতে চায়। শরীর বিনিময়ের প্রস্তাবও দেয়। আদুরীর এড়িয়ে যাবার ভঙ্গিতে মালিকের স্ত্রী খানকিপনা খুঁজে পায়।

কাজ করতে এসেছো কাজ করো, শরীর দেখিয়ে পুরুষ ডাকো কেন?


খালাম্মা পুরুষ আমার ডাকোন লাগেনা, খালুই কুত্তার লাহান আমার পিছে পিছে ডাকে, হ্যারে যুদি শিকল দিয়া বাইন্দা রাখতে না পারেন তাইলে আমারে ছাড়াইয়া দেন।


যে কথা সেই কাজ মাসের বেতন নিয়ে ওই বাড়ি ছেড়ে দিয়ে নতুন বাড়িতে যায়।


নতুন বাড়িতে দু'দিন কাজ করেই বুঝতে পারে আগের বাড়ি থেকে এ বাড়িতে উপদ্রটা দ্বিমুখী। বাপ ছেলে দু'জনেই চায় আদুরীকে। শেষ পর্যন্ত আগের পথেই আবার হাটা, বেতন নিয়ে কেটে পড়া।


নেয়ামতের দ্বিতীয় স্ত্রী সফুরার সাথে আদুরীর হৃদ্যতা ছিল আগে থেকেই। শফিক বস্তি থেকে উধাও হবার পর সেই সম্পর্কটা গাঢ় হয়েছে। এ ওর কাছে যায়, যে কোন বিষয়ে খোলামেলা আলোচনাও করে দুজন। সফুরাই পরামর্শ দেয় আদুরীকে এই পথে পা বাড়াতে।


: তুমি পুলাপানডিরে তুমার মায়ের কাছে থুইয়া আহো গিয়া।


সফুরার কথার উত্তর দিতে ক্ষণিক ভাবে আদুরী, দু'জনেই সম ঘরেরই মেয়ে, আদুরীর মায়ের অর্থনৈতিক মাপকাঠি নিশ্চয়ই অজানা নয়, তারপরও কোন আক্কেলে এমন একটা প্রস্তাব দেয় সফুরা।


: আমার মায়ের নিজেরই-তো খাওন জুটেনা, আমার দুইডারে খাওয়াইব কোইথে?


: খালি তুমার দুইডা না তুমার মায়ের খাওনও দিবা তুমি লগে দুইডার লেহাপড়ারও খরচা।


: মনে হয় দুইডার বাপে আমার থে আলাদিনের বাত্তি থুইয়া গেছে, ঘষা দিমু আর খাওন আইব।


: হ্যার বাত্তি থাকলে হে হেই বাত্তি তুমারে দিব ক্যা, তুমার বাত্তি, তুমার লগেই আছে।


: আইচ্ছা ভাইঙ্গা কওছে দেহি কি কইবার চাও তুমি আমি বুইলে চোউখে আন্ধার দেখি, আর তুমি আমারে আসমান ছুওনের খোয়াব দেহাও পুলাপানের লেহাপড়া, কথায় কয় না প্যাডে নাই ভাত, কৌটায় থুইছি কড়ি।


গজ গজ করতে থাকে আদুরী।


: হোন, বাসা বাড়ির কামতো কইরা দেখলাই, হেইডা পারলা না নিজে লেহাপড়াও হিক নাই যে অফিসে বইয়া চাকরী করবা, কিন্তু জেবনতো বাঁচাইতে হইব না কি কও।


বলে আদুরীর দিকে তাকায়, আদুরী তখন মধ্য সমুদ্রের ঢেউ এর মধ্যে ভাসছে আর ডুবছে।


তাই কইছিলাম কি স্বাদিন ব্যবসায় নাইমা পড়, ঠিক ঠাক মত বইতে পারলে কইলাম আলা মিয়ার বাত্তিই।


চমকে উঠে আদুরী, কোন স্বাধীন ব্যবসার কথা বলছে সফুরা।

বেশিদিন কইরো না, ট্যাহা পয়সা জমাইয়া গেরামে যাইও গা।


: কিন্তুক করুমডা কি হেইডাতো কইলা না।


: কাইল বেয়ানে আমাগো বাড়ি আইয়ো আমি হ্যারে কইয়া ঠিক কইরা দিমুনে।

তারপর থেকে আদুরীর এই পথে নামা। নেয়ামতের ইশারায়ই এই জায়গাটা পেয়েছে আদুরী। একবারে মসজিদের গেটের কাছে। নামাজীরা নামাজ শেষ করে বেরুবার মুখেই দেখে দুঃখী মুখে বসে আছে আদুরী, নামাজীদের মনটা তখনও পূণ্যে ভরা আখেরাতের সওদার আশায় আদুরীর থালায় ফেলে দেয় নগদানগদি।


আদুরীর আগে এই জায়গায় বসতো এক বুড়ি, বুড়িটা প্রচন্ড জ্বরে ঘরে পড়ে ছিলো, আর এই ফাঁকে আদুরী তার জায়গাটা দখল করে নেয়।


সুস্থ্য হয়ে ফিরে বুড়ি দেখে তার জায়গাটা দখল হয়ে গেছে। রাগে ফেটে পড়ে বুড়ি, আদুরীর চুলের মুঠি ধরে বেধড়ক পেটাতে থাকে।


ঘটনার আকস্মিতায় হকচকিয়ে গেলেও নিজেকে সামলে নিয়ে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে বুড়ির উপর হামলে পড়ে আদুরী।


বয়সের ভারে নুজ্য আর কয়েকদিনের রোগাভোগা শরীর পেড়ে ওঠেনা আদুরীর ভরা যৌবনের শক্ত সমর্থ শরীরের সাথে।


শক্তিতে কুলিয়ে উঠতে না পেরে দল পাকায়, সেখানেও সুবিধা করতে পারে না। নেয়ামতই এই এলাকার সর্দার। আর আদুরী নেয়ামতের আর্শীবাদ পুষ্ট।


বুড়িও নেয়ামতের সুদৃষ্টি থেকে বাদ যায় না, তাকেও সুবিধাজনক স্থানে বসায় এবং সর্দারের বখড়া নিয়মিতই নেয়ামতের পকেটে যায়।


আদুরীর কাছ থেকে এখনও কোন বখড়া নেয় নাই নেয়ামত। তার চাহিদা যে কাগজের নোটে নয় এটুকু বেশ বুঝতে পারে আদুরী।


নেয়ামতের ঋণ শোধ করতেই একদিন একটা মুরগী কিনে নেয়ামতের বাড়িতে গিয়েছে আদুরী। সফুরা আর আদুরী মিলে জমিয়ে রান্না করে তিনজনে জাকিয়ে বসে খেয়েছে। এই বিষয়টা নেয়ামতের পছন্দ হয়নি।


নেয়ামত আদুরীর বস্তিতে ওর খোঁজ খবর নিতে গেলে কপাট খুলে কখনই ঘরে বসায়নি নেয়ামতকে, দাওয়ায় পিড়ি এগিযে দিয়ে পাশের দোকান থেকে চা এনে খাইয়েছে, আর নিজে গৃহকর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।


অপমানিত নেয়ামত ফিরে এসেছে আগামীর প্রত্যাশায় 'মাগী তর কপাট আমি খুলমুই, নেয়ামত দিব আর নিব না তাই কি হয় রে'।


একদিন ব্যাগ ভর্তি করে বাজার করে নিয়ে যায় আদুরীর কাছে। তখনও ভিক্ষা শেষে আদুরী ঘরে ফেরেনি, আদুরীর অপেক্ষায় বিড়ি ধরিয়ে টানতে থাকে। বিড়িটা মাঝপথে তখনই ফেরে আদুরী। ঘরের দাওয়ায় নেয়ামতকে দেখে অবাক হলেও হতবাক হয় না।


ঘর থেকে পিড়ি এনে নেয়ামতকে বসতে দিয়ে দোকানে যায় চা আনতে।

শুধু চা নিয়েই ফেরেনা সাথে, চাল ডিম আলুও থাকে।


: তুমি আবার ডিম আলু আনলা ক্যা, ব্যাগে দেহ কত বড় ইলশা মাছ আনছি।


: খালি তুমার ইলশাই খাইবা আমার আন্ডা আলুর তরকারী খাইবা না।


: তাইলে রান্ধন খাওনেই ম্যালা সময় যাইব গা।


চোখ পিট পিট করে রসিকতার সুরে কথা বলে নেয়ামত।


: রান্ধুন আর খাওনই তো মাইনসের আসল কাম নেয়ামত ভাই।


: রান্ধুন আর খাওনই কি আসল কামরে আদুরী।


প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিয়ে আকাশের দিকে উদাস হয়ে তাকিয়ে বিড়ির ধোয়া ছাড়তে থাকে নেয়ামত, ওর এই উদাস ভঙ্গি দেখে ফিক করে হেসে ফেলে আদুরী।


ঘর থেকে শীল পাটা বের করে মরিচ বাটতে থাকে আদুরী। প্রতিটা পেষনিতে আদুরীর স্তন ব্লাউজের গলা ভেদ করে বেরিয়ে আসতে চায়, তাতে সমুদ্রের ঢেউর মত ফুলে উঠে আদুরীর শরীর। নেয়ামত এমন দৃশ্যে একেবারে মোহিত হয়ে যায়।


সফুরার দৃষ্টি এড়িয়ে বহু বয়সের বহু মেয়ে মানুষের শরীরের স্বাদ নেওয়ামত নিয়েছে


বহুবার। তবে আজকে আদুরীর স্বাদটা নিশ্চয়ই অন্যরকম হবে।


চুলোয় ভাতের ফেন ঘন হয়ে উঠেছে, কাঠি দিয়ে ভাত নেড়ে একটা ভাত তুলে পরখ করে চাল সিদ্ধ হয়ে গেছে। খুব সাবধানে চুলো থেকে পাতিল নামিয়ে মাড় ঝড়তে দিয়ে চুলোতে তরকারীর পাতিল বসায়। আদুরীর ঝটপট রান্না দেখে বেশ আনন্দিত হয় নেয়ামত, ওর প্রায় দুবছরের চেষ্টা আজ সফল হতে যাচ্ছে।


নেয়ামতের মনে আজ সুখের বান ডেকেছে। পকেট হাতড়ে একটা বিড়ি করে চুলোর আগুনে ধরিয়ে সবে মাত্র একটা সুখ টান দিয়েছে, অমনি চটের আড়াল সরিয়ে প্রবেশ করে সুফুরা, কোলে দুই বছরের ছেলে।


: এই অসমযে দাওয়াত পাঠাইছ ক্যা, তুমার দাওয়াত হুইন্যা মনে হইলো নতুন কইরা ঘর বান্ধতাছ।


তরকারীতে ঝোল দিয়ে নুন চেখে উঠোনে নেমে সফুরাকে পিড়ি এগিয়ে দিয়ে সোজা টান টান হয়ে দাঁড়ায়। এতো ক্ষণের কর্মক্লান্তির ঘাম আঁচলে মুছে নেয় ধীরে সুস্থ্যে।


: নতুন কইরা ঘর বানলে তো অজাইত্যাগো লগেই বানতে হইব তাইনা।


'অজাইত্যা' শব্দটা নেয়ামতের হৃদপিন্ডে বেঁধার মত করে উচ্চারন করতে করতে এতো ক্ষণের চুলোর গনগনে দৃষ্টিতে নেয়ামতের দিকে তাকায়। দৃষ্টিতেও যে মানুষ পুড়ে যেতে পারে এই প্রথম বুঝতে পারে ও।


তাইলে আবার দাওয়াত ক্যা।

সফুরা দাওয়াতের সূত্র খুঁজে পায় না কিছুতেই।


নেয়ামত ভাইর যেমুন কাম, দেহনা কত বাজার সদাই নিয়া আইছে। সেই বাজারের রান্ধন তুমারে ফালাইয়া কেমনে খাই, কওতো দেহি।


আদুরীর ঠান্ডাকণ্ঠে সফুরা নেয়ামতের চারপাশে আগুন জ্বেলে দেয়।


কাইল থিকা আমার ঘরে বাজার নাই, আর তুমি এই হানে এই সুময়ে বাজার লইয়া আইছো ব্যাপারটা কি?


আদুরীই সফুরার অগ্নিতে পানি ঢেলে দেয়।


: থাউক বইন কথা বাড়াইওনা। নেয়ামত ভাইর সওদা পাতি তুমি লইয়া যাইও, আর অহন আমি যা রানছি সেগুলানই ব্যাকতে মিলা লও খাই গিয়া।


সেদিনের পর আজই দেখা হল আদুরীর সাথে। এমন একটা কান্ড ঘটাবার পর একবারও দুঃখ প্রকাশ করছেনা আদুরী। সামনের দিকে পা দু'টো ছড়িয়ে এমনভাবে বসে আছে মনে হয় নেয়ামতকে কোনদিনই দেখে নাই, চেনে না 'মাগীডারে এমুন টাইট দিমু না' দাঁতে দাঁত ঘষতে থাকে নেয়ামত।


পরদিন সকালে এসে দেখে তার জায়গায় আরো দু'জন বুড়ি বসে আছে। একজন আবার কাঠের গাড়িতে চলে। তারমানে দাঁড়াচ্ছে আদুরীর ব্যবসা লাটে উঠলো।


নামাজ শেষে নরম মনের নামাজীরা পূণ্য সঞ্চয়ের আশায় দুই বুড়ির মধ্যেই তাদের দান পর্ব সীমাবদ্ধ রাখবে। আদুরী স্বামী পরিত্যাক্তা ঘরে দুইটা ক্ষুধার্ত সন্তান এমন দোহাইয়েও কাজ হবে না, সোজাসাপটা জবাবও তারা দিয়ে দেবে।

জুয়ান মেয়েলোক ভিক্ষা কর কেন, কাম করতে পার না।


মুসুল্লীদের জবাব পরে দেয়া যাবে। এখন এই বুড়িদের একটা ব্যবস্থা করতে হবে।


কাজটা যে নেয়ামতই করেছে এটা হলফ করে বলতে পারে আদুরী। কিন্তু নেয়ামত এমন নিস্পৃহ ভঙ্গিতে বসে আছে দেখলে মনে হয় এই ঘটনার সাথে কোন ভাবেই সে জড়িত নয়।


একদিন ঘরে ফিরে দেখে ওর ঘরে চুরি হয়ে গেছে। নেবার মত তেমন কিছু শফিক থাকতেও ছিলনা, এখন তো আরো নেই। তারপরও আদুরীর সংসার নিংড়েই নিয়ে গেছে চোর। আদুরীর সন্দেহের তীরটা এবারও নেয়ামতের দিকেই।


এই এলাকার কাঙ্গালী ভোজের দাওয়াত নেয়ামতের কাছেই আসে। সেই ঠিক করে দেয় কতজন কার নেতৃত্বে কোন বাড়িতে যাবে।


অনেক দিন ধরেই আদুরী খেয়াল করছে কোন কাঙ্গালী ভোজেই আদুরীকে যোগ করছে না নেয়ামত। তাতেও কোন দুঃখ নেই আদুরীর।

গত কিছু দিন থেকেই একটা উটকো ঝামেলা শুরু করেছে কানা কছির উদ্দিন।


আজকাল যখন তখন আদুরীর গা ঘেষতে চায়, আজে বাজে প্রস্তাবও দেয়, বিশ্রি ভাবে হাসে, কানা কছির কে এড়িয়ে যাবার উপায় নেই, ঢোকার মুখেই কানার সাথে দেখা হবেই। গায়ের উপর উপুড় হয়ে গড়িয়ে পড়লেও শক্ত করে কিছু বলতেও পারে না। কানা চোখে না দেখেই হয়তো পড়েছে, এটাই ওর মোক্ষম যুক্তি।


আগে কানা কছির কেন কোন জাত ভাইতো দুরে থাকুক, চেনা জানা পথচারীও আদুরীর দিকে কুদৃষ্টিতে তাকাতে পারতোনা। এটাও যে নেয়ামতের ইঙ্গিতেই হচ্ছে সেটা আদুরীর খুব ভালভাবেই জানা।


গত রাতে গ্রাম থেকে মা এসেছে আদুরীর ছেলেমেয়ে গুলোকে নিয়ে, ওরা কতদিন মাকে দেখছে না। আদুরীও আজকাল টাকা পয়সা ঠিকমত পাঠায় না।


সকালেই আদুরী থালা নিয়ে বসে গেছে। যা দু'চার পয়সা হবে সেটা দিয়ে, দুপুরের খাবারে সংস্থান করবে।


এক ফাঁকে বাজার থেকে চাল আর মিষ্টি কুমড়ার ফালি কিনে দিয়ে এসে আবার ফিরে আসছে।


সকাল থেকে এপর্যন্ত দুই গ্লাস পানি ছাড়া আর কিছুই পড়েনি আদুরীর পেটে। ক্ষুধা তৃষ্ণায় হাটতেও পারছেনা, পথের পাশে একটা গাছ তলায় শুয়ে পড়ে আদুরী।


হঠাৎ দেখে দুর থেকে নেয়ামত লেংচাতে লেংচাতে আসছে। নেয়ামতের লেংচানোই বলে দেয় কোন বাড়ি থেকে কাঙ্গালী ভোজের খানা খেয়ে পকেটে নগদ নারায়ন নিয়ে আসছে।


নেয়ামতও আদুরীকে দেখে বুঝে যায় তার ঔষধ হাড়ে ধরে গেছে। শেষ ডোজটা দেবার জন্য মনে মনে প্রস্তুতি নেয়।


আদুরী উঠে বসেছে দেখে নেয়ামত আদুরীর কাছে এসে গা ঘেষে বসে, আদুরী আজ জোরে শোরে বাঁধা দিচ্ছে না দেখে ওর ভেতরে ঝলকে উঠে এতোদিনের লালিত বাসনা।


কতটুকু বসিয়ে রাতের কাঙ্গালী ভোজের বর্ণনা দিলে আদুরীর পেটের ক্ষুধা শানিয়ে উঠবে, আঁড়চোঁখে সেটারও পরিমাপ করে নেয়ামত। কায়দা করে বিশ টাকার চকচকে নোটটাও বের করে দেখিয়ে দেয়।


আজ যদি নেয়ামত ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায় তবে আদুরীকে এই ব্যবসায় এখানে থাকতে দেবে না। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে ফেলতে ফেলতে একটা জাম্পেশ ঢেকুর তুলে। পেটের বিরিয়ানীর গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে আদুরীর ক্ষুধার্ত নাকে গিয়ে লাগে।


: দাওয়াত খাইতে গেছলা বুঝি নেয়ামত ভাই। রান্ধনডা কেমুন আছিল।

মোক্ষম সময়ের সদ্বব্যবহার করতে ছাড়ে না নেয়ামত।


রাহ্মনের কতা কি কমুরে আদুরী মনে হইলো জেবনে পরথম খাইলাম এমুন রান্দন ল, ল হাতডা হুইঙ্গা দেখ।


হাতটা আদুরীর নাকে ধরে, বড় শ্বাস টেনে নেয়ামতের হাতে লেগে থাকা খাবারের গন্ধটা ভেতরে টেনে নেয়। গন্ধেই মনে হয় আদুরীর ক্ষুধা মিটে যাবে। আদুরীর মুখে তাকিয়েই শেষ অস্ত্রটা ছাঁড়ে নেয়ামত।


মোড়ের বড় লোহার গেটওয়ালা বাড়িডা আছে না হেইহানে রাইতের কালে দাওয়াত দিছে বেশি না জন বিশেক যামু। তরেও লগে লইয়া যামুনে।


সাথে সাথে আদুরীর চোখে ভেসে উঠে মা আর ছোট ছোট ছেলে মেয়ে দু'টির মুখ।


গ্রামে এমন দাওয়াতের আয়োজন হর হামেশা হয় না, হলেও মা নিশ্চই সেই রান্না করা খাবারের ভাগ পায় না। আর ছেলে মেয়ে দু'টি তো কোন দিনই এমন নামী বাবুচীর মসলাদার সুস্বাদু দামী খাবার খেতে পায় না। ওদেরও যদি নেয়ামতের বিশজনের সাথে যোগ করতে পারতো তা হলে কতই না ভাল হতো।

আমার মা আর পোলা মাইয়া দুইডা কইলাম যাইব।


আদুরীর প্রস্তাবে মাথা নেড়ে সম্মতি দিতে দিতে ওর অবাধ্য হাত দু'টো আদুরীর পুরুষ্ট শরীরের আনাচে কানাচে হাতড়ে বেড়ায়।


আজই মোক্ষম সময়, এক্ষুণি যদি আদুরীর শরীরের কিছুটা দখল বুঝে না নেয় তবে দাওয়াত খেয়েই বেঁকে বসবে আদুরী।


অসহ্য ভাবে কাতুকুতু দিচ্ছে নেয়ামত আদুরীকে।


তর দুই পোলা মাইয়ার সব দায়িত্ব আমার।


আদুরীর চোখে ভাসছে বড় লোহার গেটওয়ালা বাড়ির সামনে বড় বড় ডেগে রান্না করছে। মোচওয়ালা বাবুর্চীর দলবল। খাবার বিতরন করবে বাড়ির মালিকের সেচ্ছাসেবক দল। আর সেই খাবারের অস্ত্রে নেয়ামত দখল করছে আদুরীর যৌবন। আদুরীর চোঁখ ভরে উঠে জলে, মুখ দিয়ে অস্ফুট স্বরে বের হয়।


খিদা হায়রে খিদারে...


Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।