লেখক পরিচিতি
জন্ম ৪ ফেব্রুয়ারি, টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার সিংজোড়া গ্রামে।
মা মরহুমা রিজিয়া ইসলাম। বাবা মরহুম আলহাজ্ব মীর নূরুল ইসলাম।
মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আসাদুজ্জামান আরজু তার জীবনসাথী। স্ব স্ব ক্ষেত্রে সফল তিন পুত্র কন্যার জননী।
তিনি 'ডাইনামিক কিন্ডার গার্ডেন'-এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। অনিয়মিত ভাবে কলামও লিখে থাকেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে। লেখালেখির জন্য পেয়েছেন বেশ কয়েকটি পদক ও সম্মাননা। উল্লেখযোগ্য হল নজরুল সম্মাননা পদক ও ড. আশরাফ সিদ্দিকী স্বর্ণ পদক।
বাংলা একাডেমীসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের সদস্য। প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ: স্বর্গের কাছাকাছি (গল্প) ১৯৯৫, আকাশ আমার আকাশ (কবিতা) ২০০৪, ছুঁয়ে যায় মেঘের আকাশ (গল্প) ২০০৬, তুমি আমি তেপান্তর (গল্প) ২০০৮, তবুও তুমিই সীমান্ত (গল্প) ২০১০, জ্যোৎস্না জলে স্নান সন্ধ্যা ২০১১, কলকাতা থেকে (কবিতা) দীপ্র তাজরী ও আপুজানের (শিশুতোষ গল্প) ২০১১।
বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত নাটকসমূহ: পায়ের তলে বান ভাসি, চাপাখালা; বসন্ত তোমারই, সুন্দর সকালের জন্য, মেঘ ভাঙ্গা রোদ, বৈশাখ এলো আনন্দ নিয়ে, মধুর আমার মায়ের হাসি, সংসার সমুদ্রে (ধারাবাহিক) কর্ণেল ভিলা, রূপালী পর্দায় দেখুন, টুক পলানতি টুক, রাজা বাদশার কারবার, একজন সৈয়দ ও খোশনবিশের তোলপাড়, মির্জা বনাম তালুকদার, মেম্বর সাব, মুন্সিবাড়ি, রঙের সংসার (ধারাবাহিক), বারবার ফিরে আসে ।
এই সময়ে যে ক'জন কথাশিল্পীর অমেয় সৃজন প্রতিভায় বাংলাদেশের ছোটগল্প ঋদ্ধ ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে রোকেয়া ইসলাম তাদের অন্যতম। চলমান জীবনের বেদনা-বিক্ষোভ, নর-নারীর মানসিক দ্বন্দ্ব, সংঘাত, প্রেম-যন্ত্রণা, ঈর্ষা-অনুরাগ এবং আবেগতাড়িত যৌন জীবনের রক্তিম অভিজ্ঞতা তার ছোট গল্পের মূল উপাদান। প্রতিদিনের চেনা জানা মানুষেরাই তার গল্পে সঞ্জীবনী মন্ত্রে উজ্জ্বল।
রোকেয়া ইসলামের গল্পের বক্তব্য প্রখর ঝাঁঝালো। কারণ, জীবনকে তিনি প্রত্যক্ষ করেন আপোষহীন তীর্যক ভঙ্গিতে। তার জীবন বীক্ষণরীতি অনেকটা অম্লান।
আলোচ্য গল্প সংকলনটিতে তার সাতটি গল্প স্থান পেয়েছে। এর প্রতিটি গল্পেই পাঠককে ভিন্ন স্বাদ এনে দেবে। সচেতন এই কথাশিল্পী রোমান্টিক কাব্যময় ভাষায় গড়ে তুলেছেন তার গল্পের শরীর। অধিকাংশ গল্পের বিষয় চরিত্রায়ন, প্লট পরিচর্যা, এমনকি ভাষারীতি উল্লেখধর্মী। রোকেয়া ইসলামের গল্পগুলিতে চরিত্রের অন্তর্জগৎ অপেক্ষা বহির্বাস্তব ঘটনা চিত্রনকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তার গল্পের ঘটনাই চরিত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। আর ব্যক্তিত্বের মাত্রা নির্ধারিত হয়- ঘটনার মানদণ্ডে ।

