উম্মতে মুহাম্মাদীর প্রতি আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ অনুগ্রহ
একটি বিচির প্রতিদান যদিও হাজার গুন বৃদ্ধি করা হয়েছে কিন্তু উম্মতের আমল সহজ করা হয়েছে। যদি কেউ একটি নেক কাজের কেবল মাত্র ইচ্ছা পোষন করে এখনো কাজটি সম্পাদন করে নাই তবুও তাকে একটি নেক দেওয়া হবে। আর যদি নেক কাজটি সম্পাদন করে তবে কতগুন সাওয়াব বৃদ্ধি করা হবে? পক্ষান্তরে কেউ যদি গুনাহ করার এরাদা করে তবে তার প্রতিদানের ক্ষেত্রে উপরোক্ত মোয়ামেলা করা যুক্তিযুক্ত ছিল। একটি গুনাহর ইচ্ছা করার জন্য একটি গুনাহ লিখা উচিত ছিল। কিন্তু তা-না করে বরং গুনাহ করার ইচ্ছা করে যদি তা পরিহার করা হয় তবে পাপ কাজের পরিবর্তে একটি নেকি লেখা হয়। কেননা পাপ কাজ থেকে বিরত থাকাও একটি আমল। খোদানাখাস্তা যদি মন্দ কাজটি করেই ফেলে তাহলে এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে বর্নিত আছে: ফেরেস্তাগণ মন্দকাজের গুনাহ তাৎক্ষনিক ভাবে না লিখে বরং কিছুক্ষন বিলম্ব করেন এই জন্যই যে, হইতে পারে সে গুনাহ থেকে তওবা করতে পারে- যেমন হাদীসে ইরশাদ হয়েছে:
التائب من الذنب كمن لا ذنب له
পাপ কাজ থেকে তওবাকারি এমন পবিত্র হয়ে যায় মনে হয় সে যেন কোন গুনাহই করে নাই। আর যদি তওবা না ও করে তবু তার সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ঘোষনা করা হয়েছে:
ان الحسنت يذهبن السيات
তোমরা যদি অধিক পরিমানে তাল আমল করে থাক তা হলে এই ভাল আমলই তোমাদের মন্দ আমলকে বিনষ্ট করে দিবে। এভাবেই তার প্রতিকার করা হয়ে থাকে। এই উম্মতের আমলের বোঝাকে হালকা করে তার প্রতিদানকে অধিক পরিমানে বৃদ্ধি করে তাদের আমলকে চূড়ান্ত পর্যায়ে অত্যন্ত সরল ও সহজসাধ্য করা হয়েছে।
পূর্ববর্তী জাতী সমূহকে হুশিয়ার করা হয়েছিল যে যদি তোমরা নবীদের সাথে অবাধ্য আচরণকর তবে তোমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আযাব আসবে। যেমন আদ- জাতীকে বাতাসের মাধ্যমে, সামুদ জাতীকে জিব্রাইল (আঃ) এর পাখা দ্বারা, শোয়াইব (আঃ) এর জাতীকে আগুনে নিক্ষেপের দ্বারা, ফেরআউন জাতীকে কুলজুম সাগরে নিমজ্জিত করে হালাক করা হয়েছে। বর্তমান জাতী গুনাহে লিপ্ত হবে তথাপি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উসিলায় তাদের খোশখবরি দেয়া হয়েছে:
وما كان الله ليعذبهم وانت فيهم وما كان الله معذبهم وهم يستغفرون
যতক্ষন পর্যন্ত তোমাদের মাঝে নবী অবস্থান করবে ততক্ষন তোমাদের আযাবে গ্রেফতার করা হবে না। আর উম্মতের মধ্যে যদি কোন ইস্তে গফারকারি অবস্থান করে তবে সেই জাতীকেও আল্লাহতায়ালা শাস্তি প্রদান করেন না।
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন এটা কখনো সম্ভব নয় যে আমার উম্মত একেবারে স্বমূলে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তাদের মধ্যে সর্বদা একটি হকু পন্থিজামাত বিদ্ধমান থাকবে। এই উম্মত থেকে হক্ক কখনো একেবারে বিলুপ্ত হবে না।
لا تجتمع التي على الضللة
আমার উম্মত কোন গোমরাহীতে ঐক্যবদ্ধ হবে না। বিভিন্ন ফিরকাহ ও পার্টির জন্ম হবে, বাতীল পন্থী, সংশয় সন্দেহ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন দলের সৃষ্টি হবে কিন্তু এমন একটি হকপন্থি জামাত সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে যাহারা এমন কাজ করবে যা আমি করেছি। তাহারা এমন কথা বলবে যা আমি বলেছি। ঈমান ও আমলের এমন নমুনা কায়েম করবে যা আমি করেছি:
لا تزال طائفة من امتی منصورين على الحق لا يضرهم من خذالهم وال من خالفهم حتی یاتی امر الله
আমার উম্মতের মধ্যে সর্বদা একটি হক্বপন্থী জামাত সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে। এখানে তায়েফা শব্দটি উল্লেখ করে ছোট জামাতকে বুঝানো হয়েছে।
অর্থাৎ ছোট জামাত হলেও তাহারা সত্যের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত। আর তাদের উপর রয়েছে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য সহযোগীতা। তাদের কেউ অপমান করতে চাইলেও তা সম্ভব হবেনা। মানুষ তাদের বিরোধীতায় লিপ্ত হলেও তাহারা কখনো হক্ক থেকে পিছু হটবে না। বরং তাহারা সম্মুখে অগ্রসর হবে।
মোট কথা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তোফায়েলে এই উম্মতে মুহাম্মাদীকে সহজসাধ্য আমল দেওয়া হয়েছে। ভাল কাজের প্রতিদান নেকি বৃদ্ধি করে আর মন্দ কাজের প্রতিদান ক্ষমার মাধ্যমে সহজ করা হয়েছে-এমনি আরো বিভিন্ন দিক দিয়ে আমলকে সহজ সাধ্য করা হয়েছে।
