TjT

করনা প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ্ করা থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতের তালুতে নিয়ে ( 20 সেকেন্ড ) ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

৩য় দিনের তা'লীম সিয়ামের বিধান

 المجلس الثالث

প্রিয় ভাইয়েরা! নিশ্চয়ই রমযানের সিয়াম ইসলামের অন্যতম একটি রুকন ও গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ اتَّقُوْنَ ٥ أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِيْنَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينِ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنتُمْ تَعْلَمُوْنَ ٥ شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ القُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَ لا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ (البقرة ١٨٣ - ١٨٥)

অর্থঃ হে ঈমানদারগণ। তোমাদের উপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার, যা সুনির্দিষ্ট কয়েকদিন মাত্র। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য সময়ে উক্ত সিয়াম পালন করবে। যারা সিয়াম পালনে অক্ষম, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাদ্য দান করবে। যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণকর হবে। কিন্তু যদি সিয়াম পালন করো, তবে তাই তোমাদের জন্য উত্তম। যদি তোমরা বুঝতে। রমযান ঐ মাস, যাতে নাযিল হয়েছে আল-কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্য পথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ এবং হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসটি পাবে, সে যেন সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে, সে অন্য দিনে তা পালন করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, কঠিন করতে চান না। যাতে তোমরা তার মেয়াদ পুরণ করতে পার এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার শুকরিয়া স্বরূপ আল্লাহ তাআলার মহত্ব বর্ণনা ও কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পার। (বাকারা: ১৮৩-১৮৫)

হাদীসে রয়েছে:

بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنْ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللَّهِ وَإِقَامِ


الصَّلَاةِ وَإِبْنَاءِ الزَّكَاةِ وَحَجِّ الْبَيْتِ وَصَوْمِ رَمَضَانَ (متفق عليه).

অর্থঃ নবী কারীম (সা.) বলেন: ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি, এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত সত্যিকারের কোন মা'বুদ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হজ্জ করা এবং রমযানের সিয়াম পালন করা। (মুসলিম)

সকল মুসলিমের ঐকমত্যে রমযানের সিয়াম ফরজ এবং অপরিহার্য। যে ব্যক্তি এর ফরজকে অস্বীকার করে, সে কাফের। অতঃপর তাওবার সুযোগ পাওয়ার পর যদি সে তাওবা করে এবং ফরজকে স্বীকার করে নেয়, তাহলে মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে।

রমযানের সিয়াম দ্বিতীয় হিজরীতে ফরজ হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) নয় বছর রমযানের সিয়াম পালন করেছেন।

সিয়াম ফরজ হওয়ার দুটি পর্যায়

প্রথম পর্যায়: প্রথমে সিয়াম পালন ও খাদ্য গ্রহণ উভয়ের অনুমতি ছিল। তবে সিয়াম পালন উত্তম ছিল।

দ্বিতীয় পর্যায়: পরে সিয়াম পালন বাধ্যতামূলক করা হয়।

বুখারী ও মুসলিমের হাদীসে এসেছে: সালমা ইবনে আকওয়া (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন এ আয়াত নাযিল হল।

وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِين (البقرة : ۱۸۴)

অর্থঃ আর যারা সিয়াম পালনে অক্ষম, তারা তৎপরিবর্তে একজন দরিদ্রকে খাদ্য দান করবে। (বাকারা: ১৮৪)

তখন যার ইচ্ছা সে সিয়াম ভঙ্গ করে ফিয়া প্রদান করত। কিন্তু যখন পরবর্তী আয়াত নাযিল হল, তখন তা রহিত হয়ে গেল অর্থাৎ নিম্নের এ আয়াতের মাধ্যমে পূর্ববর্তী আয়াতের হুকুম রহিত হয়ে গেল।

আয়াতটি এইঃ

فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرُ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ.

(البقرة: (۱۸۵)

অর্থঃ অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস (নিজ আবাসে) পাবে, সে

যেন সিয়াম পালন করে। তবে যে ব্যক্তি পীড়িত বা সফরে থাকে, সে অন্য কোন দিন

হতে তা গণনা (পালন) করবে। (বাকারা: ১৮৫)

অতঃপর আল্লাহ তাআলা সিয়ামকে বাধ্যতামূলক করেছেন। আর সিয়াম ততক্ষণ ফরজ হবে না, যতক্ষণ রমযান প্রমাণিত না হয়।

يوم الشك বা সন্দেহের দিনে সিয়াম পালন করা যাবে না। তবে পূর্ব থেকে কারো সিয়াম পালনের অভ্যাস থাকলে, সে ঐ সিয়াম পালন করতে পারবে।

(বুখারী)

* দুটি বস্তুর যে কোন একটি পাওয়া গেলে, রমযানের আগমন বুঝা যাবে।

প্রথমত: চাঁদ দেখা গেলে।

আল্লাহর বাণী:

فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ

করে। অর্থঃ অতএব তোমাদের যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন সিয়াম পালন

হাদীসে রয়েছে:

إِذَا رَأَيْتُمُ الْهِلَالَ فَصُوْمُوْا (منتق عليه)

অর্থঃ নবী কারীম (সা.) বলেন: যখন তোমরা রমযানের চাঁদ দেখবে, তখন সিয়াম পালন করবে।

কিন্তু প্রত্যেক ব্যক্তির চাঁদ দেখা শর্ত নয়; বরং একজন নির্ভরযোগ্য পুরুষ সাক্ষ্য দিলে সকলের উপর সিয়াম পালন জরুরী হবে।

সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হওয়ার শর্তঃ

প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানী, মুসলিম, আমানতদার ও দৃষ্টিসম্পন্ন হওয়া। তাই না বালেগ, পাগল ও কাফেরের সাক্ষ্য দ্বারা রমযান প্রমাণিত হবে না।

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, একজন বেদুঈন নবী কারীম (সা.) এর নিকট এসে বলল, নিশ্চয়ই আমি (রমযানের) চাঁদ দেখেছি, এ কথা শুনে তিনি বললেন, তুমি কি এ সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই? সে উত্তরে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তুমি কি এ সাক্ষ্য দাও যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল? সে বলল, হ্যাঁ। রাসূল (সা:) বললেন, হে বেলাল। তুমি ঘোষণা দিয়ে দাও, লোকেরা যেন আগামীকাল সিয়াম পালন করে। (আহমদ ব্যতীত অন্য পাঁচটি কিতাব থেকে নেয়া হয়েছে)।


পক্ষান্তরে যাদের খবরের নির্ভরযোগ্যতা নেই; যেমন- মিথ্যাবাদী, তাড়াহুড়ায় অভ্যস্ত, বা দূর্বল দৃষ্টিশক্তির অধিকারী ব্যক্তি। তাদের সাক্ষ্য দ্বারা রমযান প্রমাণিত হবে না, অথচ রমযান মাস এক ব্যক্তির সাক্ষ্যের মাধ্যমেও প্রমাণিত হয়।


ইবনে ওমর (রা.) এর বাণী: লোকেরা চাঁদ দেখল, পরক্ষণে আমি নবী কারীম (সা.) কে চাঁদ দেখার সংবাদ দিলে তিনি সিয়াম পালন করলেন এবং লোকদের সিয়াম পালনের নিদের্শ দিলেন। (আবূ দাউদ ও হাকেম)


আর যে ব্যক্তি নিশ্চিত ভাবে চাঁদ দেখে, সে শাসকদের অবহিত করবে। এমনিভাবে যে শাওয়াল ও জিলহাজ্বের চাঁদ দেখবে, সেও অবহিত করা। কোন ব্যক্তি যদি একা এত দূরে চাঁদ দেখে যে, দূরুত্বের কারণে তার পক্ষে প্রশাসনের কাছে সংবাদ পৌছানো সম্ভব না হয়। তাহলে সে নিজে সিয়াম পালন করবে এবং প্রশাসনের নিকট সংবাদ পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। যখন শাসকের পক্ষ থেকে চাঁদ দেখার ঘোষণা হয়, (রেডিও বা অন্য কোন মাধ্যমে) তখন সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব।

এজন্যই নবী কারীম (সা.) বেলাল (রা.) কে সিয়াম পালনের ঘোষণার নির্দেশ দিলেন।

দিয়েছেন। তবে শুধু চন্দ্রের উদয়স্থল ধর্তব্য নয়, কেননা নবী (সা.) চাঁদ দেখার নির্দেশ

নবী কারীম (সা.) বলেছেন:

إذَا رَأَيْتُمُ الْهَلالَ فَصُوْمُوا، وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَقْطَرُوا (متفق عليه)

অর্থঃ নবী (সা.) বলেন: যখন তোমরা (রমযানের) চাঁদ দেখ, তখন সিয়াম পালন কর এবং যখন (শাওয়ালের) চাঁদ দেখ, তখন সিয়াম ভঙ্গ কর। (বুখারী, মুসলিম) নবী (সা.) বলেন:

إِنْ شَهِدَ شَاهِدَانِ مُسْلِمَانِ فَصُوْمُوْا وَأَفْطِرُوا.

অর্থঃ নবী (সা.) বলেন, যদি দুজন মুসলিম সাক্ষ্য দেয় (চাঁদ দেখার বিষয়ে) তখন সিয়াম পালন কর ও ভঙ্গ কর। (আহমদ)

দ্বিতীয়ত: শাবান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হওয়া। কেননা আরবী মাস ৩১ ও ২৮ দিন হয় না।

আরবী মাস কখনো কখনো ধারাবাহিকভাবে দু'মাস, তিনমাস অথবা চারমাস পর্যন্ত ত্রিশ দিনের হয়ে থাকে। আবার কখনো দু'মাস, তিনমাস অথবা চারমাস পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে উনত্রিশ দিনের হয়ে থাকে। সুতরাং কোন মাসের ত্রিশদিন পূর্ণ হলে, শরীয়তের হুকুম অনুযায়ী পরবর্তী মাসটি এসেছে বলে গন্য হবে। যদিও চাঁদ দেখা না যায়।


নবী (সা:) বলেন:


صُوْمُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ غُمَّى عَلَيْكُمُ الشَّهْرَ فَعُدُّوا ثَلاثِينَ (مسلم) ورواه البخاري فَإِنْ عُبِّيَ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا عِدَّةَ شَعْبَانَ ثَلاثِينَ.


অর্থ: নবী কারীম (সা.) বলেন, তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম পালন কর এবং চাঁদ দেখে সিয়াম ভঙ্গ কর। আকাশ যদি মেঘাচ্ছন্ন বা অস্বচ্ছ থাকে, তখন ঐ মাসকে ত্রিশ দিন হিসাবে গণনা কর। (মুসলিম)


বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে: فَإِنْ غُبْيَ عَلَيْكُمْ অর্থাৎ চাঁদ যদি অজ্ঞাত থাকে, তাহলে শাবান মাসটি ত্রিশদিন পূর্ণ কর।


সহীহ ইবনে খুজাইমা গ্রন্থে আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম (সা.) শাবান মাসকে যত বেশী হিসাব করতেন, অন্য মাসকে তত বেশী হিসাব করতেন না। এরপর তিনি চাঁদ দেখে রমযানের সিয়াম পালন করতেন। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে, শাবান মাসকে ত্রিশ দিন হিসাব করে সিয়াম পালন করতেন। (আবু দাউদ ও দারা কুতনী) হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, চাঁদ দেখার পূর্বে সিয়াম পালন করা যাবে না, চাই রাতে আকাশ পরিস্কার থাকুক বা মেঘাচ্ছন্ন থাকুক।

আম্মার (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি সন্দেহের দিন সিয়াম পালন করল, সে আবুল কাশেম (নবী সা.)-এর নাফরমানী করল। (আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসায়ী)

হে আল্লাহ। আমাদেরকে হেদায়েতের অনুসারী হওয়ার তাওফিক দিন এবং ধ্বংস ও দুর্ভাগ্য হতে রক্ষা করুন। রমযান মাসকে আমাদের জন্য কল্যাণ ও বরকতময় করুন। আমাদেরকে আনুগত্যের তাওফিক দিন এবং নাফরমানী হতে দূরে রাখুন।

হে রহামানুর রাহীম। অনুগ্রহ করে আমাদের, আমাদের মাতা-পিতা ও সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন, আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা:)-এর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈয়ীনদের উপর।


سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لا إلهَ إِلا أَنْتَ اسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ.

Powered by Blogger.

আসুন করনা সম্পর্কে সচেতন হই সুস্থ থাকি ।