১ম দিনের তা'লীম | মাহে রমযানের ফযিলত
المجلس الأول
সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি আসমান-জমিন ও তার মধ্যকার সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন। রাতের অন্ধকারে ক্ষুদ্র পিপিলিকাও যার দৃষ্টি বহির্ভূত নয় এবং নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের বিন্দু-বিসর্গও যার জ্ঞানের বাইরে নয়। গোপন-প্রকাশ্য সববিষয়েই তিনি অবগত আছেন। তিনি ব্যতীত সত্যিকারের কোন মা'বুদ নেই। তিনি আদম (আ:) কে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে পরীক্ষার মাধ্যমে মনোনীত করে সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন। তিনি নূহ (আ:) কে নবী বানিয়ে পাঠিয়েছেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর নির্দেশে নৌকা তৈরী করেছেন। তিনি স্বীয় বন্ধু ইব্রাহীম (আ:) এর জন্য নমরুদের আগুনকে সুশীতল ও আরামদায়ক করেছেন। তিনি মুসা (আ:) কে নয়টি নিদর্শন দান করেছেন। তিনি ঈসা (আ.) কে এমন নিদর্শন দান করেছেন, যা মানুষকে বিস্মিত করে দিত। তিনি মুহাম্মাদ (সা:) এর উপর এমন একটি গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন, যাতে রয়েছে সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং হেদায়েত।
কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি তাঁর অফুরন্ত নেয়ামতের। অসংখ্য দরূদ ও সালাম আখেরী নবী মুহাম্মদ (সা:) এর উপর। অবারিত শান্তি বর্ষিত হউক, তাঁর উপর, গারে-হেরায় তার পরম সংগী আবু বকর সিদ্দীক (রা:), সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ নিরসনকারী উমর (রা:), জামেউল কুরআন উসমান গণী (রা:), আসাদুল্লাহিল গালিব আলী (রা:), সম্মানিত আহলে বাইত, সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) এবং মুসলিম উম্মাহর উপর।
প্রিয় মুসলিম উম্মাহ। আমাদের সামনে সম্মানিত রমযান মাস সমাগত যা ইবাদতের বিশেষ মওসুম। যে মাসে আল্লাহ তাআলা নেক আমলের সাওয়াব সীমাহীন বৃদ্ধি করে দেন এবং দান করেন অফুরন্ত কল্যাণ। উন্মুক্ত করেন কল্যাণের সকল দ্বার নেক কাজে উৎসাহী ব্যক্তির জন্য। এ মাস কুরআন নাযিলের মাস। কল্যাণ ও বরকতের মাস। পুরস্কার ও প্রতিদানের মাস। দোযখ থেকে মুক্তি ও জান্নাত লাভের মাস। ধৈর্য, সহনশীলতা ও আত্মশুদ্ধি অর্জনের মাস।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيْهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ
(البقرة: ١٨٥)
অর্থঃ রমযান মাস, যাতে নাযিল হয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন, যা বিশ্ব মানবের জন্য হেদায়েত, সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ এবং হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী।
(বাকারা: ১৮৫)
এ মাস রহমত, মাগফিরাত এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস। যার প্রথম দশদিন হচ্ছে রহমতের, দ্বিতীয় দশদিন মাগফিরাতের এবং শেষ দশদিন জাহান্নাম হতে মুক্তির।
এ মাসের মর্যাদা ও ফযিলতের ব্যাপারে অনেক প্রসিদ্ধ সহীহ হাদীস রয়েছে। সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন: যখন রমযান মাস আগমন করে, তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়। এ মাসে জান্নাতের দ্বারসমূহ খুলে দেয়া হয় অধিক হারে নেক আমল করার জন্য এবং আমলকারীদেরকে উৎসাহ প্রদানের জন্য।
আর জাহান্নামের দ্বারসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়, ঈমানদারদের গুনাহের প্রতি নিরুৎসাহিত করার জন্য। শয়তানকে শৃংখলাবদ্ধ করা হয়, যাতে সে অন্যান্য মাসের মত এ মুবারক মাসেও মানুষকে পথভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যেতে না পারে।
ইমাম আহমদ (রঃ) আবু হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন:
أُعْطِيَتْ أُمَّتِي خَمْسٌ خِصَالٍ فِي رَمَضَانَ لَمْ تُعْطَهَا أُمَّةٌ قَبْلَهُمْ خُلُوْفَ قَمِ الصَّائِمِ
أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ وَتَسْتَغْفِرُ لَهُمُ الْمَلَئِكَةُ حَتَّى يُفْطِرُوْا، وَيُزَيِّنُ اللَّهُ عَزَّوَجَلَّ كُلَّ يَوْمٍ جَنَّتَهُ ثُمَّ يَقُوْلُ يُوْشِكُ عِبَادِيَ الصَّالِحُوْنَ أَنْ يُلْقُوْا عَنْهُمُ الْمَنُونَةَ وَالْأَذِى وَيَصِيرُوا إِلَيْكَ وَيُصَفِّدُ فِيْهِ مَرَدَةُ الشَّيَاطِينِ فَلَا يَخْلُصُوْا إِلَى مَا كَانُوا يَخْلُصُوْنَ إِلَيْهِ فِي غَيْرِهِ، وَيُغْفَرُ لَهُمْ فِي آخِرِ لَيْلَةٍ، قَبْلَ يَا رَسُوْلَ اللهُ أَهِيَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ قَالَ لَا وَلَكِنَّ الْعَامِلُ إِنَّمَا يُوَفِّى أَجْرُهُ إِذَا قَضَى
عَمَلَهُ. (رواه احمد)
অর্থঃ আমার উম্মতকে মাহে রমযানে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দেয়া হয়েছে, পূর্ববর্তী কোন উম্মতকে দেয়া হয়নি।
১. সিয়াম পালনকারীর মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকের সুঘ্রাণ থেকেও উত্তম।
- ২. ইফতারের পূর্ব পর্যন্ত ফেরেশতাগণ সিয়াম পালনকারীর জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকেন।
- ৩. আল্লাহ তাআলা প্রতিদিন তাদের জন্য জান্নাতকে সুসজ্জিত করে বলেন, আমার নেককার বান্দাগণ কষ্ট স্বীকার করে অতিশীঘই তোমাদের নিকট আসতেছে।
৪। বিতাড়িত শয়তানদের শৃংখলাবদ্ধ করা হয়, ফলে তারা অন্য মাসের ন্যায় এ মাসে মানুষকে গোমরাহীর পথে নিতে সক্ষম হয় না।
৫। রমযানের শেষ রজনীতে সিয়াম পালনকারীদের ক্ষমা করে দেয়া হয়। আরজ করা হল, হে আল্লাহর রাসূল। এ ক্ষমা কি কদরের রাতে করা হয়? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: না, বরং কোন শ্রমিককে তার পারিশ্রমিক তখনই দেয়া হয়, যখন সে কাজ শেষ করে। (আহমদ)
দ্বীনি ভাইয়েরা আমার। এ মূল্যবান পাঁচটি বৈশিষ্ট্য আল্লাহ তাআলা অন্যান্য সকল উম্মতের মধ্যে থেকে কেবল তোমাদের দান করেছেন এবং এর মাধ্যমে তোমাদের উপর নেয়ামত পূর্ণ করত: বিশেষ ইহছান করেছেন।
এভাবে আল্লাহর অগণিত নেয়ামত ও অনুগ্রহ তোমাদের প্রতি রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُوْنَ بِاللَّهِ
(آل عمران (۱۱۰)
অর্থঃ তোমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত। মানুষের কল্যাণের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে। আর আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ঈমান রাখবে। (আল-ইমরানঃ ১১০)
হাদীসে বর্ণিত পাঁচটি বৈশিষ্টের বিশ্লেষণ
প্রথম বৈশিষ্ট্য:
إِنَّ خَلُوْفَ قَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ (احمد)
অর্থঃ নিশ্চয়ই সিয়ামপালনকারীর মুখের দুর্গন্ধ মহান আল্লাহর নিকট মেশকের চেয়েও অধিক পবিত্র। (আহমদ)
পাকস্থলী খাবার শূণ্য থাকলে মুখের ঘ্রাণের পরিবর্তন হয় এবং এক প্রকার। দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। এ দুর্গন্ধ মানুষের নিকট অপ্রিয় হলেও আল্লাহর তাআলার নিকট মেশক থেকেও অধিক সুঘ্রাণ হবে। কেননা এ দুর্গন্ধ আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। আর প্রত্যেক অপ্রিয় জিনিষ যা আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর ইবাদাতের কারণে সৃষ্টি হয়, তা আল্লাহর নিকট প্রিয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্যও তা কল্যাণকর এবং উত্তম বিবেচিত হয়।
তোমরা কি শহীদদের প্রতি লক্ষ্য করো না যে আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত রাখার উদ্দেশ্যে শাহাদাতবরণ করেছে। কিয়ামতের দিন সে এমন অবস্থায় উঠবে যে, তার শরীরের ক্ষতস্থান থেকে রক্ত টপটপ করে পড়তে থাকবে যার রং হবে রক্তের; কিন্তু ঘ্রাণ হবে মেশকের ঘ্রাণের ন্যায়।
অনুরূপভাবে হাজীদের ব্যাপারে এসেছে, আল্লাহ তাআলা তাদের ব্যাপারে ফেরেশতাদের নিকট গর্ব করে বলবেন:
انْظُرُوا عِبَادِي هَؤُلَاء جَاؤُوْ شَعِئًا غَبَرًا (أحمد)
অর্থঃ তোমরা আমার বান্দাদের দেখো, এরা আমার নিকট এলোমেলো চুলে, ধুলিমায়া অবস্থায় হাজির হয়েছে। (আহমদ, সহীহ ইবনে হিব্বান)
এ স্থানে এলোমেলো চুল আল্লাহর নিকট প্রিয় হওয়ার কারণ, তারা আল্লাহর আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য ইহরাম অবস্থায় বিলাসিতা পরিত্যাগ করে সকল অন্যায় থেকে বিরত থাকে।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য:
إِنَّ الْمَلِئِكَةَ تَسْتَغْفِرُ لَهُمْ حَتَّى يُفْطِرُوا
অর্থঃ সিয়ামপালনকারীর জন্য ইফতারের পূর্ব পর্যন্ত ফেরেশতাগণ মাগফিরাত কামনা করতে থাকেন।
আর ফেরেশতাগণ আল্লাহর সম্মানিত বান্দা।
তাদের প্রশংসায় আল্লাহ বলেন:
لَا يَعْصُوْنَ اللَّهُ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُوْنَ مَا يُؤْمَرُوْنَ (التحريم: ٦)
অর্থঃ তারা আল্লাহর কোন নির্দেশ অমান্য করে না। বরং তাঁর সকল নির্দেশ পালন করে। (তাহরীম: ৬)
যেহেতু আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সিয়াম পালনকারীদের জন্য দোয়া করার অনুমতি দিয়েছেন। এজন্য তাদের দোয়া আল্লাহর নিকট কবুল হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত। এটা উম্মতে মুহাম্মদীর বৈশিষ্ট্য যে, আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদেরকে এ উম্মতের সিয়াম পালনকারীদের জন্য দোয়া করার অনুমতি দিয়েছেন। যা তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি, আসমানে তাদের সমাদৃত হওয়া এবং সিয়ামের অধিক ফযিলত লাভের প্রমাণ বহন করে।
আর ইস্তেগফার অর্থ: মাগফিরাত কামনা করা। মাগফিরাত দ্বারা দুনিয়া ও আখেরাতে গুনাহকে গোপন রাখা এবং এড়িয়ে যাওয়া উদ্দেশ্য। এটাই প্রধান আকাংখার বিষয়। প্রত্যেক আদম সন্তান গুনাহগার, তাই সকলেরই মহান আল্লাহর নিকট মাগাফিরাত কামনা করা উচিত।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য:
إِنَّ اللَّهَ يُزَيِّنُ كُلِّ يَوْمٍ جَنَّتَهُ وَيَقُوْلُ يُوْشِكُ عِبَادِيَ الصَّالِحُوْنَ أَنْ يُلْقُوْا عَنْهُمُ الْمَؤُونَةَ
وَالْأَذَى وَيَصِيرُوا إِلَيْكَ.
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা প্রতিদিন (মাহে রমযানে) জান্নাতকে সুসজ্জিত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে বলেন, অতিশীঘ্রই আমার নেককার বান্দাগণ দুনিয়ার ক্লেশ-যাতনা সহ্য করে তোমার নিকট আসতেছে।
আল্লাহ তাআলা প্রত্যহ জান্নাতকে সুসজ্জিত করেন তার নেককার বান্দাদের প্রস্তুতি ও তাতে প্রবেশে উৎসাহ ও প্রেরণা দেয়ার জন্য।
হাদীসে বর্ণিত الموة والأذى এর অর্থ হচ্ছে: দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট। অতএব, দুনিয়ার ক্লেশ-যাতনা সহ্য করা এবং সদা-সর্বদা নেক আমলের প্রস্তুতি গ্রহণ ও তাতে রত থাকার মধ্যেই রয়েছে তাদের ইহকালীন ও পরকালীন সফলতা। এর মাধ্যমেই শান্তি র আবাসস্থল জান্নাতের পথ সুগম করা উচিত।
চতুর্থ বৈশিষ্ট্য:
إِنْ مَرَدَّةَ الشَّيَاطِينِ يُصْفَدُوْنَ
অর্থঃ বিতাড়িত শয়তানদের শৃংখলাবদ্ধ করা হয়।" যার কারণে তারা আল্লাহর নেককার বান্দাদের অন্য মাসের মত গোমরাহ করার এবং সৎ কাজ থেকে বিরত রাখার সুযোগ পায় না। এটা আল্লাহ তাআলার তরফ থেকে মেহেরবানী যে, তিনি বান্দাদের থেকে তাদের চির শত্রু শয়তানকে বন্দি রেখেছেন। এ কারণে তুমি দেখবে যে, নেককার বান্দাগণ অন্যান্য মাসের তুলনায় এ মাসে নেক কাজের প্রতি অধিক উৎসাহী এবং গুনাহের কাজ থেকে অনেক দূরে থাকেন।
পঞ্চম বৈশিষ্ট্য:
إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ أُمَّةَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي آخِرِ لَيْلَةٍ مِنْ هَذَا الشَّهْرِ
অর্থঃ আল্লাহ তাআলা মাহে রমযানের শেষ রজনীতে উম্মতে মুহাম্মদীকে ক্ষমা করে দেন।
যখন তারা সিয়াম (রোযা) ও কিয়ামের (তারাবীহ) মাধ্যমে এ মুবারক মাসের হক আদায় করে। এটা আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে বান্দার প্রতি অপরিসীম দয়া ও মেহেরবাণী যে, তিনি আমলের শেষে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দান করেন। কেননা কোন কর্মচারীকে তার বিনিময় কাজের শেষেই দেয়া হয়। আল্লাহ তাআলা মাহে রমযানে এ প্রতিদানের মাধ্যমে বান্দাদের উপর তিন ভাবে করুণা করেছেন।
প্রথমত: আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য এমন নেক আমলের ব্যবস্থা করেছেন, যা তাদের গুনাহ মাফ এবং মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ। যদি তিনি এ ব্যবস্থা না করতেন তা হলে তারা ইবাদত করার সুযোগ পেত না। কেননা রাসূলগণের (আ:) নিকট ওহীর মাধ্যমে প্রেরিত ইবাদত ব্যতীত অন্য কোন ইবাদতই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়।
এ কারণে যারা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত নিজেরাই কোন ইবাদাতের প্রচলন করে, আল্লাহ তাদের সে ইবাদত অস্বীকার করেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
أمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّيْنِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ (الشورى: (۲۱)
অর্থঃ না-কি তাদের কোন অংশীদার আছে, যারা তাদের জন্য এমন দ্বীন বা বিধান চালু করেছে, যার প্রতি আল্লাহ তাআলার কোন অনুমতি নেই। (শূরা: ২১)
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলা তাদেরকে এ মাসে নেক আমল করার তওফিক
দান করেছেন, যার সৌভাগ্য অনেকেরই হয় না। যদি আল্লাহ তাআলার সাহায্য এবং বিশেষ তাওফিক না থাকত, তাহলে তারা তা আদায়ে সক্ষম হত না।
ও করুণা। সুতরাং এ ব্যাপারে সকল প্রশংসা কেবল মাত্র তাঁরই, কারণ এটা তাঁরই দয়া
আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَمُدُّونَ عَلَيْكَ أَنْ أَسْلَمُوا قُلْ لَا تَمُنُوْا عَلَيَّ إِسْلَامَكُمْ بَلِ اللَّهُ يَمُنُّ عَلَيْكُمْ أَنْ هَدَاكُمْ
لِلْإِيْمَانِ إِنْ كُنتُمْ صَادِقِينَ (الحجرات - (۱۷)
অর্থঃ তারা ইসলাম গ্রহণ করে আপনার প্রতি অনুগ্রহ প্রকাশ করছে, আপনি তাদের বলে দিন, তোমরা ইসলাম গ্রহণ করে আমার প্রতি অনুগ্রহ করো নাই; বরং ঈমান ও হেদায়েতের পথে পরিচালিত করে আল্লাহ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (হুজরাত: ১৭)
তৃতীয়ত: আল্লাহ তাআলা মাহে রমযানে অনেক প্রতিদান দিয়ে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। এ মাসে প্রতিটি নেক আমলের সাওয়াব নিয়ত ও নিষ্ঠা ভেদে দশ থেকে সাত শত বা তার চেয়েও অধিক গুণে বর্ধিত করে দেন। সুতরাং আমল ও সাওয়াবের এ প্রতিদান কেবলমাত্র তাঁরই করুণা ও মেহেরবানী। وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ
الْعالَمين অর্থাৎ সকল প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার জন্য।
ভ্রাতৃবৃন্দ। মাহে রমযান একটি বিশেষ নিয়ামত। এ নিয়ামত ঐ ব্যক্তির জন্য যার নিকট এ মহান মাস পৌঁছার পর সে আল্লাহর হক যথাযথভাবে আদায় করল। গুনাহ পরিত্যাগ করে তাঁর আনুগত্যের দিকে ধাবিত হল। অলসতা ছেড়ে জিকিরে মত্ত হল এবং তাঁর নৈকট্য লাভের আশায় গুনাহ ছেড়ে তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করল।
কবির ভাষায়:
حتى عصى ربه في شهر شعبان
فلا تصيره أيضا عصياني
فإنه شهر تسبيح وقرآن
من بين أهل وجيران وإخوان
حيا فما أقرب القاضي من الداني
يا ذا الذي ما كفاه الذي في رجب لقد أظلك شهر الصوم بعد هما وائل القرآن وسبح فيه مجتهدا كم كنت تعرف ممن صام في سلف أضناهم الموت واستبقاك بعدهم
অনুবাদ:
হে ঐ ব্যক্তি। রজব মাসে যার গুনাহ হয়েছে অধিক, শাবান মাসেও যায়নিকো বাদ নাফরমানির কোন দিক। এতযুভয়ের পরে উপস্থিত হয়েছে সুশীতল ছায়া বিস্তৃত মাহে রমযান, ওহে প্রিয়, বানিয়ো না তুমি তাকে মাহে ইছইয়ান। (পাপের মাস) কর তেলাওয়াত কোরআনে পাক, আরো পাঠ কর তাস্বীহ্ সদা, যেহেতু, কুরআন ও তাস্বীহ্ পাঠের মাস যে এটা। কতনা স্বজন চিনতে তুমি-করেছে যারা সিয়াম সাধন, পরিবার-পরিজন, পাড়া-প্রতিবেশি আরো কত ভ্রাতৃবোন। মৃত্যু তাদের দিয়েছে বিদায়, জীবিত রেখেছে পৃথিবীতে তোমায় তবে শুনে রাখ কভু না পৌঁছবে অলস ব্যক্তি আমলকারীর সম-পর্যায়।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের অলসতার গভীর নিদ্রা থেকে জাগ্রত করুন এবং মৃত্যুর পূর্বেই তাওয়া অবলম্বনের তাওফিক দান করুন। অবসর সময়কে ইবাদতে কাটানোর তাওফিক দিন এবং স্বীয় মেহেরবানীতে ক্ষমা করে দিন, আমাদের পিতা-মাতা এবং উম্মতে মুসলিমাহকে।
হে করুণাময়। শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন, আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সকল পরিবার এবং সাহাবীগণের (রা:) উপর।
سُبحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أن لا إله إلا أَنْتَ اسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ.
